দোহারে জমি দখলের চেষ্টা, গাছ কর্তন ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

দোহারে জমি দখলের চেষ্টা, গাছ কর্তন ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

Aug 5, 2026

 

দোহার, ঢাকা প্রতিনিধিঃ

ঢাকার দোহার উপজেলার মুকসুদপুর ইউনিয়নের পশ্চিম মৌড়া এলাকায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা, বসতবাড়ি উচ্ছেদের হুমকি, পুরোনো গাছ কর্তন এবং প্রাণনাশের আশঙ্কার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার দোহার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের পাশাপাশি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর সহায়তা নিয়েছে। একই জমি নিয়ে আদালতেও মামলা চলমান রয়েছে। অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কয়েক দফায় পশ্চিম মৌড়া এলাকার বিরোধপূর্ণ জমিতে প্রবেশ করে একদল ব্যক্তি গাছপালা কাটা, বাঁশ ও কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদের চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভুক্তভোগী গণমাধ্যমকর্মী মো. রোমান হোসাইনের অভিযোগ, তাঁর প্রয়াত পিতা মরহুম হাজী ইসমাইলের হাতে রোপণ করা প্রায় ৩০ বছর বয়সী একটি কড়ই গাছের বড় বড় ডাল কেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আরও কয়েকটি মূল্যবান গাছ কেটে ফেলা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ভাড়াটিয়াদের ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে এবং পরিবারকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। অভিযোগে মোনায়েম, বাহালুল, হালিম ব্যাপারী, তোতামালসহ আরও ৫–৭ জন অজ্ঞাত ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হালিম ব্যাপারীর নির্দেশনায় জোরপূর্বক জমি দখলের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। মো. রোমান হোসাইন জানান, ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একাধিক সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জমি-সংক্রান্ত দলিল, খতিয়ান, নামজারি ও ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের রসিদসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান। তিনি আরও জানান, শাইনপুকুর তদন্ত ফাঁড়িতে আইনজীবী ও উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষের দলিলের চৌহদ্দি অনুযায়ী জমি ভোগদখলের বিষয়ে আলোচনা হয়। অন্যদিকে বিরোধের অপর পক্ষের প্রতিনিধি দুলাল খান বলেন, গেন্দু খান মৃত্যুর আগে পাঁচ ছেলে ও এক মেয়ে রেখে যান। তাঁর অভিযোগ, গেন্দু খানের ছেলে সাইফুদ্দিন খান একাই পুরো ৮৩ শতাংশ জমি বিক্রি করেছেন, যা আইনগতভাবে বৈধ নয়। তিনি দাবি করেন, গেন্দু খানের মেয়ের উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্য সাড়ে সাত শতাংশ জমি এখনও বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একই জমিকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), ঢাকার আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় পিটিশন মামলা নং–৪০/২০২৬ দায়ের করা হয়েছে। আদালত উভয় পক্ষকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন। এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে কোনো পক্ষই আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারবে না। গাছপালা কাটা, বসতবাড়ি উচ্ছেদ কিংবা জোরপূর্বক দখলচেষ্টার মতো কর্মকাণ্ড থেকে উভয় পক্ষকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও এলাকাবাসীর দাবি, বিরোধের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দ্রুত আইনগত নিষ্পত্তি জরুরি। অন্যথায় যেকোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *