কাশিমপুরে সরকারি খাস জমি দখল, নীরব প্রশাসন

কাশিমপুরে সরকারি খাস জমি দখল, নীরব প্রশাসন

স্টাফ রিপোর্টার
গাজীপুরের কাশিমপুরের মাধবপুর-বরিশালের টেকে সরকারি খাস জমি অবৈধভাবে দখল করে একের পর এক নতুন স্থাপনা নির্মাণ করা হলেও এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি ওই খাস জমিতে দখলদারদের বাড়ি নির্মাণ যেন উৎসবে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি হেলাল মিয়ার বাড়ির নির্মাণকাজ শেষ হতে না হতেই শাহীন নামের আরেক ব্যক্তি নতুন করে ভবন নির্মাণ শুরু করেছেন। এ নিয়ে একাধিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলেও তহসিল অফিসসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মাধবপুর-বরিশালের টেক এলাকার সরকারি খাস জমিটি দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর দখলে রয়েছে। সর্বশেষ শাহীন প্রকাশ্যেই নতুন নির্মাণকাজ শুরু করলেও প্রশাসনের নীরব ভূমিকা জনমনে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি তহসিল অফিসকে অবহিত করা হলেও তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
এদিকে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশের পরও এখন পর্যন্ত জমি দখলমুক্ত করা বা অবৈধ নির্মাণ বন্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপের খবর পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কাশিমপুর তহসিল অফিসের নায়েব ওয়াজেদ আলী বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে এবং কাশিমপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।” তবে তিনি দাবি করেন, হেলাল ও শাহীনের বিরুদ্ধে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। কী সময়ের মধ্যে বা কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে—সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু জানাননি।
তবে প্রশাসনের এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, প্রকাশ্যে দিনের আলোতে নির্মাণকাজ চলা মানেই প্রশাসনের নজরদারি ও আন্তরিকতার ঘাটতি। দ্রুত সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় জনগণ ভূমি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ ও সরকারি খাস জমি উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভূমি অধিকারকর্মীরা বলছেন, সরকারি সম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের দৃশ্যমান ও কার্যকর ভূমিকা না থাকলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অবৈধ দখল ও নির্মাণ আরও বৃদ্ধি পাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *