গাজীপুর তিতাস অফিসের কর্মকর্তাদের তামাশা।

গাজীপুর তিতাস অফিসের কর্মকর্তাদের তামাশা।

দেশে গ্যাস সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। রাজধানী ঢাকাসহ শিল্পাঞ্চল গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও রাজশাহীতে গ্যাস তীব্র সংকটের মধ্যে। চুলায় আগুন না জ্বলায় একদিকে বিপাকে পড়েছে লাখো পরিবার, অন্যদিকে গ্যাসের সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে শিল্প ও রপ্তানি খাত।

কেন গ্যাস সংকট?

এই সংকটের আড়ালে রয়েছে ভয়াবহ অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও কোটি কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ। গাজীপুর শিল্পাঞ্চলগুলোতে পরিস্থিতি আরও খুবই ভয়াবহ ও উদ্বেগজনক। তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, সিরামিক ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। একাধিক কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্যাস না থাকায় ডিজেল জেনারেটর চালিয়ে উৎপাদন চালাতে হচ্ছে, ফলে খরচ বেড়ে দাড়িয়েছে অনেক বেশি। তাছাড়াও রপ্তানি আদেশ বাতিল ও কর্মসংস্থান পরতে পারে ঝুঁকিতে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, অবৈধ গ্যাস সংযোগ এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। কিছু শিল্প ও বাণিজ্যিক গ্রাহককে গোপনে অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। গ্যাস বিতরণকারী সংস্থাগুলোর কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরেই এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। মাঝেমধ্যে অভিযান চালানো হলেও সংকটের স্থায়ী সমাধানে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। ২৪ জুন ২০২৫ইং তারিখে কোনাবাড়ী থানার পেয়ারা বাগান ও হক হাউজিং এর প্রায় শতাধিক বাড়ীর অবৈধ গ্যাস সংযোগের তথ্য নাম-ঠিকানাসহ গাজীপুরের ডিএমডি বরাবর সরবরাহ করা হয় যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পেয়ারা বাগানের রুউফ মেম্বারের বাড়ি, শাহ আলমের বাড়ি, এরশাদের বাড়ি, নজরুল নেতার বাড়ি, হাজী শুক্কুরের বাড়ি, আব্দুল মান্নানের বাড়ি, শহীদুল্লাহর বাড়ি, আব্দুস সাত্তারের বাড়ি, জাহাঙ্গীরের বাড়ি, হাসান বেপারীর বাড়ি, নাসিরের বাড়ি, রিপনের বাড়ি ও ফরিদসহ অন্যান্যদের বাড়ী এবং হক হাউজিং এর তানজিম টাওয়ার, রিপনের বাড়ি, ময়না মেম্বারের বাড়ি, নুরুজ্জামানের বাড়ি, এনামুলের বাড়ি, মামুন (১) এর বাড়ি, মামুন (২)এ র বাড়ি, জসিমের বাড়ি, রবিনের বাড়ি, সুমনের বাড়ি, হেলালের বাড়ি, সাজুর বাড়ি, আতিকের বাড়ি, কাদেরের বাড়ি, রবিউলের বাড়ি, মাষ্টারের বাড়িসহ আরো ৭/৮ টি বাড়ি। তিতাস আঞ্চলিক অফিস চন্দ্রা গাজীপুরের তথ্য অনুযায়ী ১৪-১১-২০২৪ ইং তারিখ, ২৪/১১/২০২৫ইং তারিখ ও ২৭/৫/২০২৫ ইং তারিখে অভিযান পরিচালনা করেলেও কোন ফলপ্রসু হয়নি।

কেন অবৈধ গ্যাস সংযোগ নিয়ন্ত্রণে নেই?

 

উচ্ছেদ অভিযানের নামে লোক দেখানো অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের পরেরদিন সেই সকল অবৈধ গ্যাস সংযোগগুলো পুনরায় রি-সংযোগ দেওয়া হয়। তিতাস আঞ্চলিক অফিস চন্দ্রা এর গাড়ীর ড্রাইভার বিভিন্ন অবৈধ গ্যাস সংযোগ মালিকদের নিকট থেকে মোটা অংকের মাশুহারা নেওয়ার কারণে সে অভিযানের আগেরদিন ফোন দিয়ে সকল অবৈধ গ্রাহকদের জানিয়ে দেয়। যার ফলে অবৈধ গ্যাস সংযোগের মালিকগণ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখে, ফলে অভিযানে আশানুরূপ সাফল্য অর্জন করতে পারে না। এছাড়াও কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারী, তিতাসের কন্টাক্টর ও এলাকার নেতারা অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে তিতাস আঞ্চলিক অফিস চন্দ্রা এর ডিজিএম আরশাদ মাহমুদ ও নুরুল ইসলামের সাথে কথা বলে কোনাবাড়ী থানা এলাকার পেয়ারা বাগান ও হক হাউজিং অবৈধ গ্যাস সংযোগ তথ্য প্রদান করিলে তারা বিচ্ছিন্ন করার কথা বলিলেও অভিযান হয়নি।। ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ইং তারিখে আঞ্চলিক অফিস চন্দ্রা এর ম্যানেজার আল মামুনকে উক্ত তথ্য প্রদান করিলে তিনি পেয়েছেন বলে জানান কিন্তু ৬ জানুয়ারী ২০২৬ইং তারিখে ফোনে উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে কোন অভিযান পরিচালনা করবেন কিনা জানতে চাহিলে তিনি তথ্য না পাওয়ার কথা বলে। পরে ৮ জানুয়ারী ২০২৫ ইং তারিখে পুনরায় তথ্য প্রদান করিলে তিনি পেয়েছেন বলে স্বীকার করিলেও অদ্যবদি অদৃশ্য শক্তির আড়ালেই রয়ে গেল অভিযান। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন এন্ড ডিস্ট্রিবিউট কোম্পানি পিএলসি আইন মোতাবেক যদি কোন অবৈধ গ্রাহক অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেন তাহলে তার বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেন। কিন্তু একই গ্রাহকের বারবার অবৈধ সংযোগ দেওয়ার পরও তাদের বিরুদ্ধে কোন আইনী পদক্ষেপ নেয়নি উক্ত অফিস। যার ফলে অবৈধ গ্যাস সংযোগের সংখ্যা দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্যাস খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়। একই সঙ্গে অবৈধ সংযোগ স্থায়ীভাবে বন্ধ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দেওয়ার দাবি জানান।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সারাদেশের গ্যাস সংকট আজ আর কেবল সরবরাহ সমস্যা নয়—এটি জনদুর্ভোগ, শিল্প স্থবিরতা ও অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *