ঘুষ বানিজ্যের পর এবার “আটক বাণিজ্যে”র অভিযোগ কেরানীগঞ্জ মডেল থানার এসআই দেলোয়ারের বিরুদ্ধে।

ঘুষ বানিজ্যের পর এবার “আটক বাণিজ্যে”র অভিযোগ কেরানীগঞ্জ মডেল থানার এসআই দেলোয়ারের বিরুদ্ধে।

May 25, 2026

অফিস ডেস্কঃ

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার এসআই দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে আসামীকে থানা হাজতে আটক রেখে আসামী পক্ষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে।

এর আগেও এসআই দেলোয়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগ কারীর কাছ থেকে বিবাদীর সাথে মীমাংসা করে দিবে বলে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ ও মাদক সহ মাদক কারবারীকে আটক করে টাকার বিনিময়ে থানায় না নিয়ে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

জানা যায়, ২২ মে কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন মান্দাইল বাজার এলাকা হতে ( ২) দুই পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ আবির (২১) পিতা: আলমগীর, মাতা: রিনা বেগম ও সাব্বির (২৫) পিতা: স্বাধীন, মাতা: সাহিদা বেগম নামের দুই জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
কিন্তু থানায় নেয়ার ৩৬ (ছয়ত্রিশ) ঘন্টা পার হয়ে যাবার পরেও তাদেরকে কোর্টে প্রেরন করা হয় নাই।
এ বিষয়টি নিয়ে এলাকার সচেতন মহলে নানা আলোচানার সৃষ্টি হয়।

এ দিকে আসামী পক্ষের লোকজনের দাবী, আটক করার পরে এসআই দেলোয়ার থানায় না নেয়া ও মামলা না দেয়ার জন্য মোটা অংকের টাকা দাবী করে কিন্তু তাৎক্ষণিক ভাবে কোনকিছু ম্যানেজ করতে না পারায় তাদেরকে থানায় নিয়ে আসা হয় এবং আটক রেখে টাকার জন্য চাপ দেয়া হয়।
উপায়ান্তর না পেয়ে আসামী পক্ষের লোকজন পরিচিত বিভিন্ন লোকের কাছে বিষয়টি শেয়ার করে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পেরে কয়েকজন গণমাধ্যম কর্মী ও মানবাধিকার কর্মী এ বিষয়ে জানার জন্য এসআই দেলোয়ারের সাথে কথা বললে সে তাদেরকে জানায়, আজ শনিবার কোর্ট বন্ধ তাই এখানে রাখা হয়েছে, আগামীকাল তাদেরকে ভ্রাম্যমান আদালতে পাঠানো হবে বলে বাহিরে ডিউটির দোহাই দিয়ে সরে পড়েন।
থানা সূত্রে জানা যায়, তাদেরকে থানায় নেয়ার পরে গ্রেফতারী তালিকাভূক্ত না করিয়া থানা হাজতে রাখা হয়, এবং পরবর্তীতে দুজনের নাম তুলে আবার একজনের নাম কেটে দেয়া হয়।

আসামি পক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী এসআই দেলোয়ার অর্থের বিনিময়ে একজনের নাম কেটে দিয়েছে কিন্তু লকআপ হতে ছেড়ে দেয়নি।

“আটক বাণিজ্য” নিয়ে স্থানীয় মহল ও গণমাধ্যম কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হলে ২৪ /০৫/২০২৬ইং তারিখে আবির ও সাব্বির দুজনকে কেরানীগঞ্জ উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদলতে পাঠানো হয় এবং কেরানীগঞ্জ উপজেলা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল মাওয়া তাদেরকে (১৫) পনের দিনের সাজা দিয়ে জেল হাজতে প্রেরন করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করতে কেরানীগঞ্জ উপজেলা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল মাওয়া কে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আসামী পক্ষের পরিবারের দাবি, এসআই দেলোয়ার যদি তাদেরকে মাদক মামলায় জেলেই পাঠাবে তাহলে আটকের পরের দিন কেন বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেননাই, কেন তাদেরকে ৩৬ (ছয়ত্রিশ) ঘন্টা থানা হাজতে আটক রেখে ছেড়ে দিবে বলে আমাদের কাছ থেকে টাকা নিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ব্যক্তিকে বিভিন্ন অভিযোগে থানায় নেয়ার কথা বলে এসআই দেলোয়ার তাদেরকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছে।
এর আগেও এসআই দেলোয়ার ২০২৪ সালে কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ থানায় কর্মরত অবস্থায় ঘুষ বানিজ্যের জন্য পত্রিকার শিরোনামে এসেছেন।

এ বিষয়ে এলাকার সাধারন কিছু লোক বলেন, “আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল” কিন্তু যদি কোনো নিরপরাধ মানুষ হয়রানির শিকার হয়, তাহলে সেটি খুবই দুঃখজনক।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নানা আলোচনা চলছে। সচেতন মহল বলছে, অভিযোগ সত্য হলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এসআই দেলোয়ারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় লোকজন, গণমাধ্যম কর্মী ও মানবাধিকার কর্মীদের প্রত্যাশা, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে এসআই দেলোয়ারের এরকম বেপরোয়া কর্মকান্ডের জন্য তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যাবস্থা নেয়া হোক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *