জাতির প্রমাণের সময় আজ-কলমের শক্তি বড় না বন্দুকের শক্তি বড়?
লেখক এম এ রউফ
ও
দার্শনিক অ্যাডভোকেট এ এন এম ঈসা.
বন্দুক দিয়ে ভয় সৃষ্টি করা যায়, কিন্তু কলম দিয়ে চিন্তার সৃষ্টি করা যায়। বন্দুক দিয়ে মানুষকে চুপ করাতে পারেন, কিন্তু বিশ্বাস বদলাতে পারেন না। ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে—যেখানে বন্দুক শাসন করেছে, সেখানে ভয় টিকে থাকে; আর যেখানে কলম কাজ করেছে, সেখানে সভ্যতা গড়ে ওঠেছে।
একটি গুলি মুহূর্তেই জীবন শেষ করে দিতে পারে, কিন্তু একটি লেখা শত বছরের মানুষের চিন্তা, সমাজ আর রাষ্ট্রকে বদলে দিতে পারে। আইন, সংবিধান, শিক্ষা—সব কিছুর ভিত্তি কিন্তু কলম। আবার কলমের শক্তি বড় না টাকার শক্তি বড়? জীবনে সকলের টাকার দরকার আছে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু টাকা নিজে কোন মূল্য তৈরি করে না—মানুষের মেধা আর জ্ঞান সেটাকে মূল্য দেয়। আপনি যদি টাকা দিয়ে সবকিছু কিনতে চান, তাহলে সাময়িকভাবে ক্ষমতা পাবেন, কিন্তু সম্মান পাবেন না। আর সম্মান ছাড়া ক্ষমতা টিকে না।
আবার, জ্ঞান ও মেধা এমন এক শক্তি—যা থেকে টাকা আসে, উন্নতি আসে, আবার আসে নেতৃত্ব।
সহজে বললে-টাকা মানুষকে ধনী করতে পারে, কিন্তু কলম মানুষকে একজন যোগ্য মানুষ বানায়।
বাংলাদেশের জন্য কি প্রয়োজন?
আমরা কি ভয় করববন্দুককে, নাকি লোভ করব টাকার প্রতি, নাকি বিবেক নামে কলমকে হাতে নিব—কোনটার পাশে আপনি দাঁড়াবেন?
যদি আমরা বন্দুকের পাশে দাঁড়াই, তাহলে সহিংসতা বাড়বে।
যদি শুধু টাকার পিছনে দৌড়াই, তাহলে দুর্নীতি বাড়বে।
কিন্তু যদি কলম নিয়ে কাজ করি তাহলে-মেধা, শিক্ষা, সত্য আর ন্যায়ের পথে দাঁড়াতে পারব—তবেই পারব একটি শক্তিশালী, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ তৈরি হবে। সকল নাগরিক পাবে তার ন্যায্য বন্টন।
এখানেই কথার গভীরতা আছে—
“We must take the pen first and learn the education”
অবশ্যই আমরা জ্ঞানের পথে থাকবো, ন্যায়ের পক্ষে থাকবো, সত্যের পথে থাকব।
বন্দুকের ভয় আর টাকার লোভ মানুষকে অবক্ষয়ের দিকে নিয়ে যায়। কিন্তু স্থায়ী সম্মানও উন্নতি আসে ধৈর্য, জ্ঞান আর নৈতিকতা থেকে।
যে জাতি কলমকে সম্মান করে, সে জাতি কখনো পরাজিত হয় না।
যে জাতি বন্দুককে বেশি গুরুত্ব দেয়, সে জাতি ভেতর থেকেই দুর্বল হয়ে পড়ে।
আর যে জাতি টাকাকে ঈশ্বর বানায়, সে জাতি ন্যায়বিচার থেকে হারিয়ে যায়।
অবশেষে,
এদেশের মানুষকে প্রমাণ করতে হবে—
আমরা কি ভয় আর লোভের জাতি, নাকি জ্ঞান আর ন্যায়ের জাতি?
অ্যাডভোকেট এ এন এম ঈসা
রেমিটেন্স যোদ্ধা ইন্টারন্যাশনাল
সংসদের প্রতিষ্ঠাতা এবং কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক ও
এম এ রউফ-সদস্য সচিব কেন্দ্রীয় কমিটি (কাতার)