ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিএনজিতে ছিনতাইয়ের চেষ্টায় নারী হত্যা, মূল রহস্য উদঘাটন; মাওলানাসহ গ্রেফতার ৪

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিএনজিতে ছিনতাইয়ের চেষ্টায় নারী হত্যা, মূল রহস্য উদঘাটন; মাওলানাসহ গ্রেফতার ৪

May 20, 2026

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিএনজিতে ছিনতাইচেষ্টায় নারী হত্যা, মূল রহস্য উদঘাটন; মাওলানাসহ গ্রেফতার

← Back

Thank you for your response. ✨

মস্তু মিয়া
জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া

গত ১৪/০৫/২০২৬ তারিখ দুপুর ০৩.০০ ঘটিকায় সদর থানাধীন কুমারশীল মোড় থেকে আশুগঞ্জ নিজ বাড়িতে যাওয়ার সময় সিএনজিতে সংঘবদ্ধ চক্রের হাতে খুন হন জাহানারা বেগম। অজ্ঞাতনামা আসামিরা সিএনজির ভিতরেই জাহানারাকে ছুরিকাঘাতে খুন করার পর সদর থানাধীন অষ্টগ্রাম এলাকায় রাস্তার পাশে একই তারিখ বিকাল ০৫.২০ ঘটিকার সময় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। স্থানীয় এলাকাবাসী জাহানারাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে জাহানারা বেগমের ছেলে জুবায়েদুর রহমান খান ইমন বাদী হয়ে গত ১৮/০৫/২০২৬ তারিখ অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি রুজুর পর হতে সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন ও ঘটনার সাথে জড়িত আসামিদের গ্রেফতার এবং হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধারের জন্য অভিযান শুরু করে। থানা পুলিশ ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনায় ব্যবহৃত সিএনজির পিছনে “মা বাবার দোয়া আয়াত পরিবহন” লেখা তথ্য সংগ্রহ করে। উক্ত তথ্যের সূত্র ধরেই ১৮/০৫/২০২৬ সনয় ১.৩০ ঘটিকায় থানা পুলিশ সদর থানাধীন ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার সিএনজি গ্যারেজ থেকে সিএনজির পিছনে একই “মা বাবার দোয়া আয়াত পরিবহন” লেখাসহ সিএনজিটি শনাক্ত এবং উক্ত সিএনজি চালক মোঃ বাদশাকে গ্রেফতার করে।

একই দিনে থানা পুলিশ গ্রেফতারকৃত সিএনজি চালক বাদশার স্বীকারোক্তি মোতাবেক সদর থানাধীন উত্তর পৈরতলা এলাকার ভাড়া বাসা থেকে খুনের ঘটনার অপর সহযোগী আসামি মোঃ শরীফ উদ্দিনকে ১৮.৩০ ঘটিকায় গ্রেফতার এবং তার নিকট লুকায়িত খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত ০২ টি ছুরি উদ্ধার করে। পরবর্তীতে আসামি শরীফ উদ্দিনের স্বীকারোক্তি মোতাবেক খুনের ঘটনায় জড়িত রিমা আক্তারকে সুলতানপুর এলাকার ভাড়া বাসা হতে ২০.০০ ঘটিকায় গ্রেফতার করে এবং তার পড়নে থাকা বাদীর শনাক্ত মতে জাহানারা বেগমের ০১ টি সেলোয়ার, ০১ টি উড়না ও ০১ জোড়া জুতা উদ্ধার করা হয়। অতঃপর আসামি রিমা আক্তার এর স্বীকারোক্তি মোতাবেক তার বান্ধবীর বাসা থেকে ২১.৩০ ঘটিকায় জাহানারা বেগমের ব্যবহৃত আরো ০২ টি উড়না, ০১ টি কামিজ ও ০১ টি সেলোয়ার উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত শরীফ উদ্দিনের স্বীকারোক্তি মোতাবেক তার বাসা হতে ঘটনায় জড়িত অপর আসামি জোবায়ের হোসেন প্রকাশ হৃদয় এর একটি রক্তমাখা জিন্স প্যান্ট ২৩.৩০ ঘটিকায় উদ্ধার করা হয়, যেটি খুনের সময় জোবায়ের পরিধান করেছিলো। হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত সমস্ত আলামত পুলিশ উদ্ধার পূর্বক জব্দ তালিকা মূলে জব্দ করে।

গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ঘটনার দিন জাহানারা বেগমকে ছিনতাই এর উদ্দেশ্যে সংঘবদ্ধ চক্রটি তাকে সিএনজিতে তোলে। সিএনজিতে সংঘবদ্ধ চক্রটি ছিনতাই করার চেষ্টা করলে জাহানারা বেগম বাধা প্রদান ও চিৎকার করে। এক পর্যায়ে ছিনতাইকারীরা তাকে ছুরিকাঘাত করে রাস্তার পাশে ফেলে যায়।

জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানা যায় যে, গ্রেফতারকৃত রিমা আক্তারের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে ০১টি নারী শিশু নির্যাতন মামলা, মোঃ বাদশাহ এর বিরুদ্ধে ০২টি মাদক মামলা,মোঃ শরীফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে নারী শিশু নির্যাতন আইন ও মাদকসহ ০৭টি মামলা, জোবায়ের হোসেন প্রকাশ হৃদয়ের বিরুদ্ধে হত্যা,ডাকাতি, ধর্ষণ ও মানবপাচার আইনের ০৭টি মামলা রয়েছে।

গ্রেফতারকৃত আসামিদের নাম ও ঠিকানা:
১। রিমা আক্তার
পিতা-মোঃ শাহজাহান মিয়া
মাতা-মৃত মিনা বেগম
সাং-সুলতানপুর (মধ্যপাড়া)
থানা- ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর
জেলা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া

২। মোঃ বাদশাহ
পিতা-মোঃ হিলু মিয়া
মাতা-হেনা বেগম
সাং-বিরাসার (পান্না পুকুরের দক্ষিণ পাড়)
থানা- ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর
জেলা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া

৩। মোঃ শরীফ উদ্দিন
পিতা-শফিকুর রহমান
সাং- ভবানীপুর (সরকার বাড়ি)
থানা-আশুগঞ্জ
বর্তমানে সাং-উত্তর পৈরতলা
থানা- ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর
জেলা- ব্রাহ্মণবাড়িয়া

৪। জোবায়ের হোসেন প্রকাশ হৃদয়
পিতা-মৃত তাজুল ইসলাম
সাং-নরসিংসার
থানা- ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর
জেলা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া

গ্রেফতারকৃত আসামিদেরকে ১৯/০৫/২০২৬ খ্রি.বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে শরীফ উদ্দিন খুনের ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।

এ ধরনের সংঘবদ্ধ অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সিএনজি, অটোরিক্সা ও চালকদের তথ্য পুলিশের কাছে থাকা প্রয়োজন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে চালিত সিএনজি, অটোরিক্সা ও চালকদের তথ্য সম্বলিত একটি ডাটাবেজ তৈরির পরিকল্পনা জেলা পুলিশের রয়েছে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *