তিতাস কর্তৃপক্ষ আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় লক্ষ লক্ষ টাকা সরকারী রাজস্বের ক্ষতি
ডেস্ক রিপোর্ট।
গ্যাস সংকট যখন চরম আকার ধারণ করেছে, তখন তিতাসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ অবৈধ গ্যাস সংযোগ নিধনের ক্ষেত্রে নিচ্ছে না কোন আইনী পদক্ষেপ। যারফলে রাজধানী ঢাকাসহ শিল্পাঞ্চল গাজীপুরে গ্যাসের সংকট তীব্র আকারে পরিনিত হয়েছে।
আইনী প্রক্রিয়া গ্রহণ না করার কারণে অবৈধ গ্যাস সংযোগকারীরা মহানন্দেই আছে। তিতাসের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করা হলেও অভিযানের শেষেই আবার পুনঃসংযোগও হয়ে যায়।
১৪ জানুয়ারী ২০২৫ইং তারখে “গাজীপুর তিতাস অফিসের কর্মকর্তাদের তামাশা” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশের পর ১৮ জানুয়ারী ২০২৬ইং তারিখে কোনাবাড়ী থানার হক হাউজিং এর তানজিম টাওয়ার, রিপনের বাড়ি, ময়না মেম্বারের বাড়ি, নুরুজ্জামানের বাড়ি, এনামুলের বাড়ি, মামুন (১) এর বাড়ি, মামুন (২) এর বাড়ি, জসিমের বাড়ি, রবিনের বাড়ি, সুমনের বাড়ি, হেলালের বাড়ি, সাজুর বাড়ি, আতিকের বাড়ি, কাদেরের বাড়ি, রবিউলের বাড়ি, মাষ্টারের বাড়িসহ আরো ৭/৮ টি বাড়ির তালিকা দেওয়া হয়। পরে ১৮ জানুয়ারী ২০২৫ ইং তারিখে উক্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করিলেও সেই রাতেই আবার পুনঃ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ম্যানেজার আল মামুনকে একাধিকবার ফোন করিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি। পরে ২৬ জানুয়ারী ডিজিএম আরশাদ মাহমুদের সাথে কথা বলিলে তিনি জানান, ১২ ফেব্রুয়ারীর পর হক হাউজিং এ মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে। দীর্ঘ প্রায় (১৮ জানুয়ারী থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারী) এক মাসে লক্ষ লক্ষ টাকার অবৈধ গ্যাস ব্যবহার করে রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার, কে নিবে সেই দায়ভার?
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের দাবী, তিতাস খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়। একই সঙ্গে অবৈধ সংযোগ স্থায়ীভাবে বন্ধ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দেওয়ার দাবি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সারাদেশের গ্যাস সংকটের প্রধান কারণ অবৈধ গ্যাস সংযোগ। যতদিন পর্যন্ত এই অবৈধ গ্যাস সংযোগ বন্ধ করিতে তিতাসের সদিচ্ছা না হবে, ততদিন পর্যন্ত গ্যাস সংকট থাকবেই। এছাড়াও তিতাসের পক্ষ থেকে যতদিন পর্যন্ত আইনী প্রক্রিয়া শুরু না করিবে, ততদিন পর্যন্ত অবৈধ গ্যাস সংযোগ বন্ধ হওয়ার সম্ভব নয়।