আমাদের দেশের সরকার গুলো তারা কেউ জানে না, সরকারের নিজস্ব অর্থ দরকার, বাণিজ্য দরকার

আমাদের দেশের সরকার গুলো তারা কেউ জানে না, সরকারের নিজস্ব অর্থ দরকার, বাণিজ্য দরকার

Oct 17, 2026

অথই নূরুল আমিন

বাংলাদেশের ইতিহাসে তরুণ একজন রাষ্ট্রনায়ক বলা চলে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে। তারেক রহমান যখন নির্বাসিত হয়ে লন্ডনে ছিলেন। তখনও এই দেশের একদল তরুণ বিভিন্ন সভা- সমাবেশে, পোষ্টারে,ব‍্যানারে “রাষ্ট্রনায়ক ” শব্দটি লিখে ওয়ালে দেয়ালে লাগিয়ে দিয়েছিলেন। পোস্ট করেছেন পর্যন্ত ফেসবুকে। এছাড়া দেশের তৃণমূলের একটা অংশ কিন্তু তারেক রহমানকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেছেন খুবই গভীরে । অনেকেই সে সময় বলাবলি করেছেন, তারেক রহমান রাষ্ট্র প্রধান হলে দেশের উন্নয়ন হবে এটা নিশ্চিত । কারণ তিনি তো বাংলাদেশের রাজ পরিবারের সন্তান। যাঁর বাবা- মা দুজনই এ দেশের রাষ্ট্র প্রধান ছিলেন। কিন্তু দেশের একদল তরুণের সেই কথা বাস্তবায়ন হয়েই গেলো, তিনি তারেক রহমান রাষ্ট্র প্রধান হয়েই গেলেন। অন‍্যদিকে তৃণমূলের জনগণের আকাঙ্ক্ষাও স্বপ্ন পূরণ হয়েই গেলো। তবে আর সমস্যা কোথায়? হ‍্যাঁ। সমস্যা কোথাও না কোথাও একটা আছেই। তা না হলে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবার পর থেকেই বাজার অস্থিতিশীল হয়ে গেলো কেন? প্রায় সকল পণ্যের মূল্য বেড়ে গেলো কেন? কারা করছে এসব? কয়েকবার বিদ‍্যুতের বিল বাড়ানো হলো কেন? গ‍্যাসের বোতল নিয়ে প্রতিদিন চলছে জুয়া খেলার মতো ঘটনা। তা হবে কেন? এক বছর পূর্বে যে একটা কেক এর মূল্য ছিলো দশ টাকা তা আজকে হয়ে গেলো পনেরো টাকা।তা কি করে সম্ভব? দেশের নাগরিক যদি ভূক্তভোগী হয়, অর্থকষ্টে থাকে, তাহলে একদিন তারেক রহমানের কদর কমে আসবে বিশেষ করে তৃণমূল জনগণের কাছে। এছাড়া দলীয় লোকজন ও যদি কোনভাবে কোন সুযোগ সুবিধা না পায়, তারাও অনেকেই একদিন পিছ পা হয়ে যাবে। তখনই দলের শক্তি কমে আসতে থাকবে। দেশের সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন কাঠামো রাতারাতি বেড়ে গেলো কেন? অন‍্যদিকে এক শ্রেণির শিক্ষকেরা তাদের বেতন ভাতা নিয়ে তুমুল আলোচনা সমালোচনা চলছে । অথচ দেশের শিক্ষার মান কিন্তু রসাতলে গিয়ে পৌঁছেছে। বিএনপি সরকার গত সাত মাসের মধ‍্যে এমন কোন কাজের সূচনা করতে পারেনি। যা দেশের জনগণ তুষ্টি হবে, বা কাজটি দেখে তৃণমূলের জনগণের মুখে হাসি ফুটবে। খুব জোরালোভাবে খাল কাটা কর্মসূচি শুরু হলেও তা কিন্তু অর্থের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে প্রায় । সমাজের মানুষ যেহেতু নগদে বিশ্বাসই। তাই খাল কাটা কর্মসূচি চলল না কি বন্ধ হয়ে গেলো তা নিয়ে কারো তেমন মাথা ব‍্যথা নেই। কিন্তু যেদিন সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন ভাতা বন্ধ হয়ে যাবে। সেদিন কিন্তু আর নয় ছয় আলোচনা চলবে না। মাঝে মাঝে একনেক সভায় যে ধরনের মোটা মোটা বাজেট করা হয়। তাতে মনে হয় দেশটা যেন, জাপান, জার্মান, সিঙ্গাপুর হয়ে গেছে। অথচ সরকারের ফান্ড থেকে দেশের বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতার জন‍্য বরাদ্দ মাত্র ছয়শ টাকা মাসিক। কি আশ্চর্য দেশে আমরা বসবাস করে আসছি। তাই না? একটা সরকারের যেখানে নিজস্ব আয় রোজগার নেই। নিজস্ব আয় বৃদ্ধি করার জন‍্য তেমন কোন প্ল‍্যান সরকারে থাকা উপদেষ্টাগণেরা চিন্তা ও করে না কখনও। আমি মনে করি বিএনপি সরকার যত বেশি আয় বাড়াতে পারবে। অর্থাৎ অর্থনৈতিকভাবে যতদিন সবল থাকবে, ততদিন পর্যন্ত বিএনপি সরকারকে কোনো ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতাচ্যুত্ত করা সহজ হবে না। আমি এও গবেষণা করে দেখেছি। বিদেশনির্ভর ঋণের প্রতি যদি সরকারকে অপেক্ষা করতে না হয়। তাহলেই একটি সরকার সবল সরকার। বাহাদুর সরকার। বিদেশনির্ভর ঋণ ছাড়াই যদি, দেশের তিন কোটি বেকারের জন‍্য বিভিন্ন কর্মসংস্থানের ব‍্যবস্থা করতে পারা যায়। দেশের আড়াই কোটি গৃহহীন, ভূমিহীন ও ভাসমান জনগণের জন‍্য যদি সঠিকভাবে পূনর্বাসন করা যায়। সারা দেশের প্রায় আড়াই কোটি শিক্ষার্থীদের জন‍্য যদি, সম্পূর্ণ বিনা বেতনে পড়া লেখার ব‍্যবস্থা সরকার করতে পারে। ফসলি জমি নষ্ট না করেই যদি পরিবহন ব‍্যবস্থা উন্নত করতে পারা যায় এবং স্বাস্থ্যসেবার গলাকাটা শব্দটা যদি সরকার বিলুপ্তি করতে পারে, তাহলে বিএনপির জনপ্রিয়তা বেড়ে যাবে, আজকের চেয়ে আরো দশগুণ বেশি। কথা থাকে যে, দেশের সাধারণ জনগণ তার পক্ষেই থাকবে। যে সরকারের কাজগুলো হবে সাধারণ জনগণের কল‍্যাণে। উপরের কাজ গুলো করতে গিয়েও যদি সরকারের আয় বেড়ে যায় তিরিশ গুণ বেশি তাহলে আর সমস্যা কোথায়? অন‍্যদিকে ফার্মের মুরগী ও ডিমের দামটা যদি নিম্ন মুখী থাকে। এককথায় বাজারটা যদি সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকে। দেশের সাধারণ জনগণ যদি সরকারের সিদ্ধান্ত মতে ভালো থাকে, তাহলে তারা তারেক রহমানকে বদলাতে চাইবেন কেন? কথা থাকে যে, এখন পর্যন্ত দেশের বড়ো একটা অংশই বিএনপিকে লালন করে ভিতরে ভিতরে। এখানে কিন্তু তিনটি প্রজন্মের মেইল বন্ধন রয়েছে বিএনপির সাথে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান।এই দীর্ঘ মেইল বন্ধন টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব কিন্তু এখন তারেক রহমানের হাতে সবকিছু। কথা থাকে যে, একজন যোগ্য ব‍্যক্তি কোটি জনগণ চালাতে পারেন। আবার অযোগ্য একহাজার জন মিলেও নাকি একজন লোক চালাতে পারেন না। তবে দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, হকার উচ্ছেদ করা , অটোরিকশা চলাচলে বিধি নিষেধ আরোপ করা এগুলো কিন্তু জাতীয় উন্নয়ন কাঠামোতে পরে না। একটি সরকারের প্রধান কাজ হচ্ছে, একটি সমস্যার মূল বিষয় খোঁজে বের করা তারপর সমাধান করা। মাথা ব‍্যথার ঔষধ যদি হয়, মাথা কেটে ফেলে দেয়ার মতো ঘটনা, তাহলে আর লাভ থাকে কি? সরকারের বেতন ভুক্ত বুদ্ধিজীবীরা বুদ্ধি বের করবে। সরকারের টাকা ব‍্যয় হবে। কিন্তু ওখান থেকে সরকারের কোন লাভ আসবে না। তাহলে সরকার তো ঋণখেলাপি হবেই। আর ঋণখেলাপি হওয়া মানেই সরকারের কদর কমে যাওয়া দেশের জনগণের কাছে তথা বিশ্ব মোড়লদের কাছে। কোন দেশ আমাদেরকে কি দিবে? কোন দেশে আমাদের দেশের শ্রমিক নিয়ে গোলামী করাবে। কোন দেশ আমাদের দেশে হাসপাতাল করবে। কোন দেশ বিনিয়োগ করবে? এরকম চিন্তা গুলো কিন্তু স্বাধীনতার এতো বছর পরেও সরকারের মাথায় তাই ঢোকানো হচ্ছে কেন বারবার ? কেন আমরা নিজেরাই নিজের পায়ে দাড়াতে পারছি না। কোথায় আমাদের সেই প্রতিবন্ধকতা? আজও কেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একজন মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা নিয়োগ দেয়া হয়নি। সারাজীবন আমরা বিদেশ থেকে ঋণ করেই চলব কেন ? বাংলাদেশের জনগণ সারাজীবন বিদেশ গিয়ে পরের গোলামী করতেই বা যাবে কেন? বিশেষ প্রয়োজনে গেলে সেটা আলাদা কথা। আমরা ইচ্ছে করলে সমগ্র দেশের সবাইকে নিয়ে সুন্দর পরিপূর্ণ এবং সমৃদ্ধ একটা দেশ তৈরী করতে পারি। এখানে দরকার শুধু প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী এমপি এবং বিরোধী দলের ইচ্ছে আর যোগ্য কিছু রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা। প্রিয় পাঠক লেখাটি ভালো লাগলে লাইক কমেন্ট ও শেয়ার করবেন। সবাই ভালো থাকবেন। আল্লাহ্ হাফেজ।

অথই নূরুল আমিন
রাজনৈতিক বিশ্লেষক, কলাম লেখক ও রাষ্ট্রচিন্তক
প্রধান মুখপাত্র জাতীয় মানবসম্পদ উইং
প্রধানমন্ত্রীর মানবসম্পদ উন্নয়ন উপদেষ্টা, গ্রন্থ লেখক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *