জনগণ যখন সরকার বিরোধী আন্দোলন করে তখন সরকারের মুখপাত্রদের অযৌক্তিক কিছু বয়ান শুনবেন
বিশেষ প্রতিবেদনঃ
অথই নূরুল আমিন
২৪ এর আন্দোলন যখন প্রথম শুরু হলো ছাত্ররা যখন কোটা সংস্কারের পক্ষে মিছিল মিটিং করতে লাগল। আওয়ামী লীগ সরকার তা গুরুত্বই দিতে চাইল না। দলের নেতারাও না। তারপর যখন বেশ বড়ো হতে লাগল। তখনও সরকারের পক্ষ থেকে ছাত্রদের কোটা সংস্কার দাবী অগ্রাহ্য করতে লাগল। এর মানে হচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে নাগরিকের কোন মূল্যই ছিলো না এরকমটি কিন্তু বিশ্লেষকেরা মনে করেন। এখানে মাঝে মাঝে ছাত্রলীগ গুন্ডামি করার চেষ্টা করেছে হুমকি ধামকি ও দিয়েছে। অথচ ছাত্রদের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সাথে কিন্তু ছাত্রলীগের একমত পোষণ করার উচিৎ ছিলো। কিন্তু কথা থাকে যে, সেই আজ্ঞাবহ অবস্থা। দলীয় ভাড়াটিয়া বলে কথা। ছাত্রলীগের আপত্তি থামিয়ে দেয়ার জন্য, ছাত্ররা একদিন শ্লোগান দিলো, বঙ্গবন্ধুর বাংলা বৈষম্যের ঠাঁই নাই। তখন ছাত্রলীগ একটু থেমে গেলো। কিন্তু এরকম কয়েক দফা আন্দোলনের পর হঠাত একদিন যখন ” সেই বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিদ্রূপ গালি দিয়ে মিছিল হলো। তখন গণভবন থেকে বলা হলো, এগুলো সব চক্রান্ত জামায়াত শিবিরের। আজগুবি কথা। একটা জলজ্যান্ত সত্যি বিষয়টিকে জামায়াত শিবিরের দোহাই দিয়ে এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করেছিল। আওয়ামী লীগ সরকার সেদিন। বতর্মান গাজীপুর ও মিরপুরের শ্রমিক আন্দোলন নিয়েও বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। এগুলো পলাতক আওয়ামী লীগের কাজ। তাদের অর্থায়নে এসব হচ্ছে। আমাদের দেশের সরকার গুলো বা তাদের বুদ্ধিজীবী গুলো কত বড় মাথা মোটা হলে এসব আজগুবি বিষয় গুলো বানিয়ে বলতে পারে। গত আট মাসে বাংলাদেশের কোন্ পণ্যের দামটা বাড়েনি? এরকম গোবর ভর্তি মাথা মোটা লোকগুলো সরকারের পক্ষ থেকে নিয়োগ দিয়ে রাখে কেমন করে? আমি মানলাম। পলাতক আওয়ামী লীগ এখানে অর্থায়ন করেছে। কিন্তু শ্রমিকের বেতন বাড়ানোর দাবিটা কি অযৌক্তিক? বিশেষ করে গার্মেন্টস সেক্টরে গার্মেন্টস এর মালিকেরা কখনও স্বজ্ঞানে বেতন বাড়াতে চায় না কখনও। ইতিহাস তার প্রমাণ। সরকারের উপদেষ্টা সহকারী ও সহকর্মীরা এরকম ফালতু বয়ান দিয়ে যায়। যা কখনও বিক্রি হয় না সমাজে । মানুষের মনে আরো উল্টা প্রশ্ন জাগে সরকারের মেধা ও জ্ঞান নিয়ে। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী প্রমাণ করেছেন তিনি যে আসলেই বিএনপি পন্থী একজন নেতা। তিনি বলেছেন এই আন্দোলন গাজীপুরের জাহাঙ্গীর আর মিরপুরের কচির অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে। এরকম বয়ান দেয়া মানে জনগণের মন থেকেই উঠে যাওয়া। আওয়ামী লীগের আমলে শ্রমিক আন্দোলন হয় প্রায় নয় দশ বছর পর। আর আজকে বিএনপির আট মাসের মাথায় শ্রমিক আন্দোলন তাও আবার ভিন্ন কথা। যত দোষ নন্দ ঘোষ।।আসলে আমাদের সরকার গুলো জনগণের কল্যাণে কাজই করতে পারে না। সেই ধরনের কোন পরিকল্পনাও তাদের মাঝে নেই। আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতায় আসার পর মনে করে আর যে কয়দিন থাকতে পারি আরকি। দেশের জন্য জনগণের জন্য কাজ করার পদ্ধতিই ভিন্ন থাকে। উন্নত দেশগুলোতে এগুলো চালু রয়েছে। শুধু আমাদের দেশে নেই। এদিকে বিএনপি সরকারের কিন্তু ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা পর্যন্ত। বেশকিছু বড় ধরনের বদনাম ও রয়েছে। সেগুলো গুছিয়ে উঠার জন্য জনগণের জন্য কাজ করা উচিৎ বলে আমি মনে করি। তা না করে সেই কাদের কথায় জানি না। সেই পদ্মা সেতু, সেইস মেট্রোরেল, উড়াল সেতু এরকম মেগা প্রকল্প নিয়ে এখনই কাজ শুরু করতে হবে কেন? আগে দেশের জনগণের কথা চিন্তা করতে হবে। দেশের অর্থনৈতিক চাকা গতিশীল করতে হবে। পণ্যের মূল্য কমিয়ে রাখার জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে। না এসবের কোনো চিন্তাই জনগণ দেখতে পাচ্ছে না বিএনপি সরকারের মাঝে, যেই লাউ সেই কদু।বতর্মান শ্রমিক আন্দোলন ঠেকাতে যদি যুবদল আর ছাত্রদলের ডাক পরে, তাহলে এসব কর্মকান্ড তো আওয়ামী ফ্যাসিবাদীর আওতায় পরে। পরের বেলায় আনা আনা নিজের বেলায় ষোলআনা। তা কি করে হয়।
অথই নূরুল আমিন