প্রধানমন্ত্রীর বড় মনের পরিচয়, আমজনতার দলের তারেক রহমানকে সফরসঙ্গী করা, এক দারুণ উদ্যোগ
অথই নূরুল আমিন
সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের জাপান সফর উপলক্ষ্যে অনেক নামী-দামি সফরসঙ্গীর সাথে ডাক পড়েছিল আমজনতার দলের মোঃ তারেক রহমানের। এরকম উদ্যোগ দেখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মহৎ হৃদয়ের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রশংসা করতেই হচ্ছে আমার। আমজনতার দলের মোঃ তারেক রহমান ব্যক্তি হিসেবে যদিও সমাজের উঁচু তলার কেউ নন। কিন্তু তাঁর কিছু কথা এবং বিগত সময়ের বেশ কয়েকটি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া, মূলত কিছু লোকের মনের গহীনে স্থান করে নিতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। আমজনতার দলের মোঃ তারেক রহমান একজন সহজ সরল ব্যক্তি এবং প্রকৃতপক্ষে একজন দেশপ্রেমিক নাগরিক। তাঁর মুখের গঠনের মাঝেও একটি সরল ভাব সবসময় লক্ষ্য করা যায়। অন্যদিকে তাঁর কিছু স্পষ্ট কথার ভিডিও দেখে দেশের ভিন্ন মতের কিছু জনগণ মোটেও খুশি নন তারেকের প্রতি। সেই কথাগুলোর সারসংক্ষেপ হলো যথাক্রমে— ১. আমি জুলাইয়ের আন্দোলনকে বড় করতে গিয়ে ’৭১-কে ছোট করতে পারব না। ২. মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান নষ্ট হোক এমন কাজ আমি করতে পারব না। ৩. আওয়ামী লীগের মধ্যে যারা অপরাধী নয়, তারা যেন নিরাপদে থাকে। তাদের যেন অহেতুক হয়রানি করা না হয়।।৪. আমি মনে করি আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া উচিত। ৫. মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে কেউ মিথ্যা মামলায় জেলে থাকুক, এটা আমি চাই না। ৬. বর্তমান বিএনপি সরকারকে হেয়প্রতিপন্ন করে যখন জামায়াত, এনসিপি এবং শিবিরের বিশাল বিশাল পোস্ট হয় ফেসবুকসহ সোশ্যাল মিডিয়ায়, তখনই আমজনতার দলের তারেক অন্য একটি ভিডিওর মাধ্যমে সরাসরি জনগণের সামনে তুলে ধরেন সত্য ঘটনাপ্রবাহগুলো। এছাড়া জামায়াত, এনসিপি নিয়ে আমজনতার তারেক প্রায় সময় তাদের ভুলগুলো ধরে ভিডিও করে থাকেন। যার ফলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আমন্ত্রণে জাপান সফরের তালিকায় আমজনতার দলের তারেকের নাম থাকায় দেশের একটা শ্রেণির জনগণ তা বাঁকা চোখে দেখতে থাকেন। অনেকেই নানারকম কটূক্তি করতে থাকেন, ‘আম তারেক আম তারেক’ বলতে থাকেন, এবার ‘আম জাপানে রপ্তানি হবে’ মর্মেও তিরস্কার করতে থাকেন। এগুলো আসলে ছোট মনের এবং নোংরা চিন্তার বহিঃপ্রকাশ ছাড়া কিছুই নয়, যা মোটেও উচিত নয় বলে আমি মনে করি। এই তো কয়েক মাস পূর্বে আমজনতার দলের নিবন্ধন পাওয়ার দাবিতে নির্বাচন কমিশন ভবনের প্রধান গেটের সামনে আমরণ অনশন শুরু করেন এই তারেক। ঠিক এই সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন বারবার। প্রায় তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে অনশন করতে হয়েছিল তাঁকে। অবশেষে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বয়ং উপস্থিত হয়ে তারেকের অনশন ভাঙার চেষ্টা করেন। আমি মনে করি, সেদিনই আমজনতার দলের তারেকের জনপ্রিয়তা আকাশ ছোঁয়া হয়ে যায়। কিন্তু নিন্দুকেরা তা অনুমান করতে পারেনি। আমার প্রশ্ন হলো, আমজনতার দলের নিবন্ধন পেতে গিয়ে তারেকের কেন অনশন করতে হয়েছিল দীর্ঘদিন? বারবার নির্বাচন কমিশনে ঘুরেও যখন কোনো সমাধান হয়নি, তখনই আমরণ অনশন করার সিদ্ধান্ত নেন তারেক। নির্বাচন কমিশন থেকে তারেককে মূল্যায়ন না করার প্রথম কারণ ছিল, তিনি দরিদ্র। তিনি কোনো শিল্পপতি নন। শিল্পপতিরা এই দেশে রাজনৈতিক দল করতে গেলে নিবন্ধন পাওয়ার জন্য অনশন করতে হয় না। এগুলো কলমের মারপ্যাঁচে আর টেলিফোনেই হয়ে যায় যখন তখন। আমার জানামতে এমন হয়েছেও বহু। ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলেই শুধু ডজনখানেক রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তাদের মধ্যে অনেকের কিন্তু কোনো কর্মসূচি পর্যন্ত নেই। আসলে আমাদের সমাজ ব্যবস্থা মূলত ভালো নয়। আইন আছে, আইনের প্রয়োগ নেই। দেশের প্রায় সকল সরকারি অফিসে ঘুষ বাণিজ্য চলছে। এখানে টাকা নেই তো আপনার কাজ নেই। যে দেশে প্রমোশনের টাকা উঠাতে গেলেও ঘুষ লাগে, এরকম জঘন্য কাজের জন্য আসলে এই লজ্জা আমরা রাখি কোথায়? আমি তখনও তারেকের পক্ষে একটি কলাম লিখেছিলাম। লেখাটি বেশ কয়েকটি পত্রিকায় প্রকাশিতও হয়েছিল। আসলে আমি লেখালেখি করি সুন্দরের পক্ষে এবং অসুন্দরের বিপক্ষে। কোনো কিছু পাওয়ার আশায় আমি লেখালেখি করি না। আমি কোনো এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য লিখি না। একটি জাতি সুখে থাকবে, ভালো থাকবে— সেরকম মনমানসিকতা নিয়েই আমি লেখালেখি করছি দীর্ঘ তিন যুগের বেশি সময় ধরে। আমজনতার দলের তারেক যখন নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনে অনশনরত ছিলেন, তখন তিনি কয়েক দফা তৎকালীন সরকার প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অকথ্য ভাষায় গালিও দিয়েছিলেন। কিন্তু গালি ছিল অধিকার আদায়ের গালি। সেদিনের সেই গালি ছিল মান-অভিমান, রাগ-অনুরাগের গালি। কারণ তিনি ছিলেন প্রথমত কোটা সংস্কার আন্দোলনের পক্ষে ২০১৮, তারপর জুলাই ২০২৪। সেই অভিমান থেকে সরকার প্রধানের প্রতি ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে এমন গালি দেওয়ার মূল সারমর্ম। সবশেষে বলতে চাই, প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের তালিকায় আমজনতার দলের তারেকের নাম সফরসঙ্গী হিসেবে রাখার জন্য আমার পক্ষ থেকে এবং দেশের দেশপ্রেমিক জনতার পক্ষ থেকে জানাই অফুরন্ত শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। এরকম উদ্যোগ দুষ্টু লোকদের জন্য যেন থেমে না যায়, চলমান থাকুক প্রধানমন্ত্রীর এরকম বড় মনের কাজগুলো। দেশ এগিয়ে যাক, এগিয়ে যাক জনগণের স্বপ্নগুলো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে। একটি সুন্দর বার্তা আসুক দেশের ভুক্তভোগী জনগণের জন্য, সফল হোক জাপান সফর। সবাই ভালো থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।
*অথই নূরুল আমিন*
রাজনৈতিক বিশ্লেষক, কলাম লেখক ও রাষ্ট্রচিন্তক
প্রধান মুখপাত্র, জাতীয় মানবসম্পদ উইং
প্রধানমন্ত্রীর মানবসম্পদ উন্নয়ন উপদেষ্টা, গ্রন্থলেখক