প্রেস বিজ্ঞপ্তি তারিখ: ০১ নভেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ও উপদেষ্টা পরিষদে প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে সাত দফা প্রস্তাব পেশের সিদ্ধান্ত
“আমরা দেশের মালিক হতে চাই না, দেশের মানুষের খাদেম হতে চাই। আমরা ক্ষমতা চাই না, সেবা করার সুযোগ চাই।” — দার্শনিক দেশবন্ধু অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা।
আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম, নীতিনির্ধারণ এবং উপদেষ্টা পরিষদে প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সরাসরি ও কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পেশের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক দার্শনিক দেশবন্ধু অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা। সভা পরিচালনা করেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যসচিব এম. এ. রউফ, কাতার।
প্রবাসীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা নীতিনির্ধারণে প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন সভায় বক্তারা বলেন, প্রবাসীদের জন্য প্রতিষ্ঠিত মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণ ও কার্যক্রমে প্রবাসীদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা এবং মতামতের যথাযথ প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন।
বিদেশে কর্মসংস্থান গ্রহণের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ব্যয়, দালাল ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য, কর্মক্ষেত্রে প্রতারণা, বিমানবন্দরে দুর্ভোগ, পাসপোর্ট ও কনস্যুলার সেবার জটিলতা এবং বিপদগ্রস্ত প্রবাসীদের আইনি সহায়তার অভাবসহ বিভিন্ন সমস্যার বাস্তব চিত্র প্রবাসীরাই সবচেয়ে ভালোভাবে তুলে ধরতে পারেন। সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা বলেন, “ব্যথিতের বেদনা সেই ভালো বোঝে, যে নিজে সেই ব্যথা অনুভব করেছে। প্রবাসীদের কল্যাণের জন্য প্রতিষ্ঠিত মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রবাসীদের সরাসরি অংশগ্রহণ থাকবে না কেন?” তিনি আরও বলেন, আমরা সরকারের বিকল্প হতে চাই না; বরং সরকারের সহযোগী হয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করতে চাই। প্রবাসীরা দেশের সমান মর্যাদাসম্পন্ন নাগরিক বক্তারা বলেন, প্রবাসীরা শুধু বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণকারী নন, তাঁরা বাংলাদেশের সমান মর্যাদাসম্পন্ন নাগরিক। দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তাই তাঁদের সম্মান, অধিকার ও নীতিনির্ধারণে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। রংধনু নারী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান লায়ন শাহিদা পারভীন রত্না ও সংগঠনের নেত্রীরা বলেন, তাঁদের লক্ষ্য ব্যক্তিগত ক্ষমতা, পদ-পদবি কিংবা বিশেষ সুবিধা অর্জন নয়; বরং প্রবাসীদের বাস্তব সমস্যা সমাধান, ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে কার্যকর অবদান রাখা। মোহাম্মদ আঃ ওয়াহাব রিংকু, আলহাজ ড. শরীফ সাকী এবং ইসমাইল খানসহ অন্যান্য বক্তারা প্রবাসীদের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ফারুক আহমেদ চৌধুরী বলেন, “আমরা সম্মান চাই, অধিকার চাই এবং দেশের উন্নয়নে দায়িত্বশীল অংশীদার হিসেবে কাজ করার সুযোগ চাই। আমাদের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিতে হবে এবং সমস্যা সমাধানের প্রক্রিয়ায় আমাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।”
সরকারের কাছে প্রস্তাবিত সাতটি দাবি সভায় আলোচনার ভিত্তিতে সরকারের বিবেচনার জন্য নিম্নোক্ত সাতটি প্রস্তাব পেশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়:
১. প্রবাসীদের সরাসরি প্রতিনিধিত্ব: প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা পরিষদে যোগ্য, অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা। ২. নীতিনির্ধারণে অংশগ্রহণ: প্রবাসী কল্যাণ, অভিবাসন ব্যয়, কর্মসংস্থান নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনসংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়নের আগে প্রবাসী প্রতিনিধিদের মতামত গ্রহণ করা।
৩. আন্তর্জাতিক প্রবাসী পরামর্শ পরিষদ: বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসীদের প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে একটি কার্যকর আন্তর্জাতিক প্রবাসী পরামর্শ পরিষদ গঠন করা।
৪. অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা: প্রবাসীদের অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত, প্রতিকার ও নিষ্পত্তির জন্য স্বচ্ছ এবং সময়সীমাভিত্তিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। ৫. মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম মূল্যায়ন: প্রবাসীদের সেবার মান ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম মূল্যায়নে প্রবাসী প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করা।
৬. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি: প্রবাসী প্রতিনিধিদের মনোনয়ন বা নির্বাচনে যোগ্যতা, সততা, অভিজ্ঞতা ও জবাবদিহির সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা। ৭. ছয় দফা দাবি বাস্তবায়ন: আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের ছয় দফা দাবির বিষয়ে সরকারের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা শুরু করা। সরকারের সঙ্গে প্রতিযোগিতা নয়, সহযোগিতা চাই সভা পরিচালনাকারী এম. এ. রউফ বলেন, সরকারের সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে। কিন্তু সদিচ্ছা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং প্রবাসীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের মাধ্যমে অনেক জটিল সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান সম্ভব। তিনি বলেন, “আমরা সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে চাই না। আমরা সরকারের কাজকে সহজ করতে চাই। ক্ষমতার অংশীদারিত্বের চেয়ে দায়িত্বের অংশীদারিত্বকে বেশি গুরুত্ব দিতে চাই।” প্রবাসীদের মতামত গ্রহণের উদ্যোগ সভায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মতামত গ্রহণের জন্য জনমত জরিপ পরিচালনা এবং প্রবাসী সংগঠনগুলোর মতামত সংগ্রহের প্রস্তাব করা হয়। এসব মতামত ও বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে একটি বিস্তারিত প্রস্তাবনা প্রস্তুত করে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আমরা বাংলাদেশের বোঝা নই, উন্নয়নের অংশীদার। সমাপনী বক্তব্যে অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা বলেন, প্রবাসীরা বাংলাদেশের বাইরে থাকলেও তাঁদের হৃদয় বাংলাদেশের মাটিতে। আমাদের পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও শিকড় বাংলাদেশে। বাংলাদেশের উন্নতি মানেই আমাদের আনন্দ, আর বাংলাদেশের সংকট মানেই আমাদের উদ্বেগ। তিনি বলেন, “আমরা বাংলাদেশের বোঝা নই, বাংলাদেশের উন্নয়নের অংশীদার। আমরা সরকারের প্রতিপক্ষ নই, সরকারের সহযোগী হতে চাই। আমরা ক্ষমতা নয়, দায়িত্ব চাই। বিশেষ সুবিধা নয়, ন্যায্য অধিকার চাই। ব্যক্তিস্বার্থ নয়, দেশের কল্যাণ চাই।” প্রবাসীদের জন্য যে মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠিত, সেই মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণে প্রবাসীদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
নামসমূহ (ক্রম অনুযায়ী):
ফারুক আহমেদ চৌধুরী, আলহাজ ড. শরীফ সাকী, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. মো. নাসিমুল গনি, বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুর রহমান, ড. মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া, মেজর ইমরান মিয়া, আলী নবাব খোকন, মির্জা সুমন, মোহাম্মদ জাফর উল্লাহ, জালাল উদ্দীন, হাকিকুল ইসলাম খোকন, হাজী আনোয়ার হোসেন, শাহিন তালুকদার, হেলাল উদ্দীন, আরব আলী, মোহাম্মদ মুস্তাদিক মিয়া মানিক, সৈয়দ খালিদ মিয়া অলিদ, কবির আহমেদ মাসুম, এস. এম. আঃ সাত্তার, মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহাব রিংকো, মোহাম্মদ ফজলুল হক, মোহাম্মদ ফজলুল করিম শেখ, অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মীর সিরাজ, বিদ্যুৎ, লায়ন শাহিদা পারভীন রত্না, নাসরিন আক্তার তরফদার, ইসমাইল খান, লায়ন আঃ কাদির জিলানী, হালিম রাজ, মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ, লায়ন মোহাম্মদ আজম খান, আহমেদ শাকি, ড. মালেক ফরাজি, মোহাম্মদ আবুল খায়ের, হেলাল খান, কর্নেল ফেরদৌস আজিজ, এম. এ. মালেক খান, সোহান মিয়া, মোস্তাফিজুর রহমান রিপন, আক্তার মিয়া, মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম, ড. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, মাহমুদুর রহমান মান্না, রিয়াজ আবু সাইদ, দিদার সরদার, মোহাম্মদ আবুল হোসেন সরদার, আব্দুল্লাহ ইউসুফ, আবু তাহের চৌধুরী, আবুল বাসার, নাজনীন রহমান রাজন, রেজা নবী, রেজা লতিফ, রিপন, আঃ হামিদ, হাফিজ মিয়া, ক্লিনটন হাওলাদার পাভেল, আমির হোসেন, ড. সোহেল, কর্নেল মোহাম্মদ আব্দুল হক, তুষার আহমেদ, হীরা মিয়া, মোহাম্মদ লোকন মিয়া, অ্যাডভোকেট হাসান মোহাম্মদ, আশরাফুল কবির আসিফ, জান্নাতুল নাঈম চৌধুরী রিকু, হাসিনা মমতাজ, মোঃ নাজমুল হক ভূঁইয়া, রিমন হোসেন, এনাম মিয়া, মাহারাজ মিয়া, কাজী মোকলিস, শাহজাহান মিয়া, শাহজাহান খান, কামাল মিয়া, লুৎফুর রহমান, ইকবাল তালুকদার, শুভ মীর, মোঃ সজীব, মোঃ সাব্বির হোসেন, মোঃ রবিউস সানী, মোঃ মামুন মোল্লা, মীর আশরাফ, জামাল মোস্তফা, রহিম মিয়া, রিপন মিয়া, অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা, কামাল হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম, সিরাজ খান, শাহাদাৎ হোসেন, মোহাম্মদ আজাদ রহমান, কাওসার আহমেদ, ব্যারিস্টার জাহাঙ্গীর, অ্যাডভোকেট এনাম মিয়া, শেখ ফরিদ, নুরুল হুদা, মনিরুজ্জামান, এনামুল কবির লিটু, মোঃ এনাম চৌধুরী খোকন, হোসেন আহমেদ ইনসাফ, হাবিবুর রহমান রানা, জগলু আহমেদ চৌধুরী, মুজিবর রহমান মধু, আব্দুস সালাম রাজা, রফিক উদ্দিন চৌধুরী, আরমান, আকাশ দেওয়ান, হামিদুল ইসলাম, নজাকির হোসেন, ইউসুফ আলী, কাপ্তান মিয়া, সাইদুল করিম শেখ, মেজর আখতারুজ্জামান, লায়ন শাহিদা পারভীন রত্না, বিনা ঈসা, নারগিস আক্তার, ইয়ামিন রহমান বকুল, ইয়ামিন আক্তার রুমন, লাবনী আনোয়ার, শাহেনা হক, কোহিনূর হ্যাপি, আবেদা সুলতানা, আলহাজ রোমেনা আক্তার, আলেয়া বেগম, সবুজা খাতুন, লিলুপা জাহান লিলু, হাসিনা বেগম সাথী, নোভা, ইসরাত জাহান রিপা, রিপা আক্তার, সৈয়দ তানজিনা নাহার কাজল, রানিছা রউফ, মহিশা রউফ, নুরনাহার, মোহন তরফদার, আসাদ টাকুর, সাইদুর রহমান, আবু তারেক আনোয়ার, লিলা শেখ, নুসরাত জাহান রেশমা, তাজ উদ্দীন, মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম চৌধুরী, মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন লস্কর, আঃ কাদির, মোহাম্মদ আইয়ুব আলী, সাইমন ইয়াসিন, মোহাম্মদ সাগর ইয়াসিন, মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, মোছাম্মদ জুলিয়া, ডানা আক্তার, তাপিকুল হক, ড. জয়নাল আবেদীন।
প্রচার ও প্রকাশনায়:
আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ
International Remittance Juddah Shonshod
দার্শনিক দেশবন্ধু অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা
প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক
এম. এ. রউফ
প্রতিষ্ঠাতা সদস্যসচিব, কাতার
ইমেইল: roufnasrin@gmail.com
মোবাইল: +974 66958035