রাজশাহী কাশিয়াডাঙ্গায় সংঘর্ষের ঘটনায় ওসি ফরহাদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ 

রাজশাহী কাশিয়াডাঙ্গায় সংঘর্ষের ঘটনায় ওসি ফরহাদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ 

Jun 2, 2026
অফিস ডেস্কঃ
 বাংলাদেশ পুলিশের নতুন মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির জানিয়েছেন, দেশ থেকে সন্ত্রাস, মাদক, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাং নির্মূল করতে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। সেই ধারাবাহিকতায়, রাজশাহীতে নিযুক্ত নয়া পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ রাজশাহী গড়ার লক্ষ্যে তিনি সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। তার নির্দেশনায় আরএমপি নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আসছেন।
কিন্তু এরই মধ্যে রাজশাহীতে ঈদের দিন ঘটে যাওয়া কাশিয়াডাঙ্গা এলাকার সংঘর্ষের ঘটনায় জনমনে নানান অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে।
রাজশাহী কাশিয়াডাঙ্গায় সংঘর্ষের ঘটনা কিভাবে শুরু হয়েছে এবং কি অবস্থায় আছে তা জাতীয় গণমাধ্যমগুলোতে আসলেও পূর্ণাঙ্গ ঘটনা এখনো প্রকাশ হয়নি। সেই ধারাবাহিকতায় গণমাধ্যমের বিভিন্ন সাংবাদিকরা অনুসন্ধান চালায় পুরা ঘটনাটির জট খুলতে। অবশ্য এই ঘটনা নিয়ে আগেই সংবাদ প্রকাশ করেছে বার্তা কন্ঠ, দৈনিক দেশের সংবাদ, যমুনা টেলিভিশন, আজকের বার্তা সহ বিভিন্ন জাতীয় স্থানীয় দৈনিক।
সেই সূত্রানুসারে ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা মতে জানা যায়, ঈদের আগের দিন রাত্রে রাজশাহী কাশিয়াডাঙ্গায় অবস্থিত নিরবের চায়ের দোকানে সামনে রাকিব নামের এক যুবক নেশাগ্রস্থ অবস্থায় কাশিয়াডাঙ্গার মোড়ের আগে অবস্থিত আদবুড়ি এলাকার পরিচিত মামুন নামের এক ছোট ভাইকে গালিগালাজ ও গলা ধাক্কা দেয়। এ সময় মামুন রাকিবকে সম্মান দিয়ে বলে বড় ভাই আপনি অসুস্থ আছেন পরে আপনার সাথে কথা বলব। তারপরও রাকিব মামুনকে আবার গলা ধাক্কা দেয় উক্ত ঘটনায় রুমন নামে এক যুবক প্রতিবাদ করতে গেলে থাপ্পড় দিল ঘুসি মারে নেশাগ্রস্ত রাকিব। রাকিব সম্পর্কে যতটুকু জানা যায়, রাকিব আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল। যার প্রমাণ গণমাধ্যমের হাতে রয়েছে।
উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাশিয়াডাঙ্গা আদুপুড়ি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ রাকিবের পিতাকে বিচার দিতে গেলে রাকিব উল্টো তাদের হামলা করার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় আদুবুড়ি এলাকার পক্ষ থেকে অভিভাবক হিসেবে মীমাংসার দায়িত্ব নেন স্থানীয় বিএনপি নেতা বুলবুল। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে কাশিয়াডাঙ্গায় অবস্থিত বিএনপি অফিসে বুলবুল বিষয়টি জানালে ঈদের দিন সন্ধ্যার সময় মীমাংসা করা হবে বলে বুলবুলকে জানানো হয়।
কিন্তু ঈদের দিন উক্ত বিষয়ে আদুবুড়ি এলাকার পক্ষ থেকে বুলবুল যাওয়া মাত্রই চিহ্নিত রাকিব বাহিনীসহ আওয়ামী লীগের ৭০/৮০ জন কর্মী দেশীয় অস্ত্র হাসোয়া, রামদা দিয়ে বুলবুলকে বিএনপি অফিসের ভিতরে রক্তাক্ত করে ফেলে। এরপরে রাকিব বাহিনী অস্ত্রশস্ত্র সজ্জিত হয়ে আদুবুড়িত এলাকায় ঢুকে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এই সময় রাকিব বাহিনীর অস্ত্রের আঘাতে আহত হয় আদুবুড়িত এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মামুন, সোহেল, নয়ন, মিনু, রহিমা বেগম ও মনিসহ অনেকেই।
এদিকে রাজশাহী আদুবুড়ি এলাকার আহত ব্যক্তিরা রাজশাহী মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা নিতে গেলে রাকিব বাহিনী আবারও হামলার চেষ্টা চালায় আদুবুড়ি এলাকায়। তবে উক্ত ঘটনায় আদুবুড়ি এলাকার যারা আহত হয়েছেন তাদের অধিকাংশের কারো পায়ে, কারো হাতে, কারো পিঠে, কারো মাথায় সেলাই করা হয় বলে রাজশাহী মেডিকেল সূত্র জানায়।
পরবর্তীতে এই ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতা বুলবুল রাজশাহী কাশিয়াডাঙ্গা থানায় বাদী হয়ে মামলা করলেও মামলার আসামিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। অপরদিকে রাকিব বাহিনীর পক্ষ থেকেও মামলা নিয়েছে রাজশাহী কাশিয়াডাঙ্গা থানা পুলিশ। এ ঘটনা থেকে বোঝা যায় পুলিশ কার পক্ষ হয়ে কাজ করছে। অনুসন্ধানের জানা যায় রাকিব বাহিনীর কোন ব্যক্তি আহত হয়নি। অপরদিকে রাকিবের বাড়ির ২০০ গজ সামনে থেকে এক বস্তা দেশীয় অস্ত্র ও পেট্রোল বোমা উদ্ধার করলেও রাকিব বাহিনীর কাউকে আসামি করা হয়নি। শুধুমাত্র অজ্ঞাতনামা দিয়ে মামলা দিয়ে ক্ষান্ত হয়ে পুলিশ।
তবে কাশিয়াডাঙ্গা এলাকার স্থানীয়রা জানায়, রাকিব বাহিনীর করা মামলায় আহত আদুবুড়ি এলাকার আহত বাদী বুলবুল সহ মামুন, সোহেল, নয়ন, মিনু, রহিমা বেগম ও মনির বাড়িতে ৩ বার সাঁড়াশি অভিযান চালালেও রাকিব বাহিনীকে ধরতে পুলিশের এখনো কোনো তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি।
অন্যদিকে আজ ১/০৬/২০২৬ ইং তারিখে রাকিব বাহিনীর করা মামলায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন আদালত ৩ ম্যাজিস্ট্রেট সাদ্দাম হোসেন আদুবুড়ি এলাকার সকলকেই জামিন দেন এবং সেই সাথে রাকিব বাহিনীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দেন কাশিয়াডাঙ্গা থানা পুলিশকে। এ সময় আদালতে থাকা রাকিব বাহিনীর অনেকেই আদালত থেকে পালিয়ে যায়।
তবে রাজশাহী মহানগরীর কাশিয়াডাঙ্গার এলাকাবাসী দাবি করেছে – কাশিয়াডাঙ্গা থানার ওসি ফরহাদের নেতৃত্বে রাকিব বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযান না চালিয়ে উল্টো আহত ব্যক্তিদের বাড়িতে চালায় কাশিয়াডাঙ্গা থানা পুলিশ। তারা আরোও দাবি করেছে ও গণমাধ্যমের হাতে বেশকিছু প্রমাণ দিয়েছে যেখানে রাকিব বাহিনীর অধিকাংশ সদস্যরাই আওয়ামী লীগের সাথে সংযুক্ত। আর তাদেরই পক্ষ হয়ে কাজ করছিল ওসি ফরহাদ। উক্ত অভিযানের সিসিটিভি ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষিত রয়েছে সাংবাদিকদের কাছে। তবে অনুসন্ধানের ২ পর্বে আসছে আরও বিস্তারিত ঘটনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *