চনপাড়া ফাঁড়ি পুলিশের প্রশ্রয়ে কায়েতপাড়ায় রমরমা মাদক কারবার ২৫টি হটস্পট চিহ্নিত, বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী
রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়ন-এ মাদক কারবার আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়নে বর্তমানে প্রায় অর্ধশতাধিক মাদক স্পট সক্রিয় রয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ২৫টি হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত।
অভিযোগ রয়েছে, চনপাড়া ফাঁড়ি পুলিশের একটি অংশের প্রশ্রয়ে মাদক কারবারিরা দীর্ঘদিন ধরে নির্বিঘ্নে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে ইউনিয়নের লাখো বাসিন্দার মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কায়েতপাড়া ইউনিয়নের মাদক সরবরাহের প্রধান ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বালু নদ। এই নদীপথ ব্যবহার করে বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদক এনে ইউনিয়নের বিভিন্ন স্পটে সরবরাহ করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বর্তমানে মাদক কারবারের প্রধান ডিপোতে পরিণত হয়েছে। এখানকার একাধিক মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে চনপাড়া ফাঁড়ির পুলিশের সখ্যতা রয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাদক সেবনকারী জানান, মাদক ব্যবসা চালাতে ফাঁড়ির ইনচার্জকে নিয়মিত মাসোহারা দিতে হয়। সপ্তাহে (হপ্তা) প্রায় ১০ হাজার টাকা পরিশোধের অভিযোগও উঠে এসেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কায়েতপাড়া ইউনিয়নের খামারপাড়া, উত্তরপাড়া, নগরপাড়া, কামশাইর, তালাশকুর, দেইলপাড়া, বরুনা, ইছাখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যেই মাদক বিক্রি হচ্ছে।
এ বিষয়ে চনপাড়া ফাঁড়ির ইনচার্জ শফিকুল আলম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। কারা মাদক বিক্রি করে, সুনির্দিষ্ট তথ্য দিলে আমরা অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেব।”
অন্যদিকে রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সবজেল হোসেন বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। কোনো পুলিশ সদস্য জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও কার্যকর অভিযান চালিয়ে কায়েতপাড়া ইউনিয়নকে মাদকমুক্ত করা হোক।