ময়মনসিংহে শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতের প্রতিবাদে মানববন্ধন জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি সহপাঠীদের

ময়মনসিংহে শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতের প্রতিবাদে মানববন্ধন জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি সহপাঠীদের

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি :
ময়মনসিংহ জিলা স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মিফতাহুল জান্নাত নিলয় তালুকদারকে (১৫) ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে সহপাঠীরা।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে রেঞ্জ ডিআইজি ও বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সামনে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তারা ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপারের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক মোজাম্মেল খোকন, আহত নিলয়ের বাবা সাদেকুল ইসলাম তালুকদার, জিলা স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মামুনুর রশীদ মামুন, মানসিফ রহমান, মেহেরাব মানিকসহ অন্যান্যরা।
বক্তারা বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে হামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
আহত শিক্ষার্থীর বাবা সাদেকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, “বিনা কোনো কারণেই আমার ছেলেকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। কয়েকদিন ধরে সে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে। একজন বাবা হিসেবে আমার অবস্থাটা আপনারাই বুঝতে পারছেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এখনো পুলিশ পর্যাপ্ত সহযোগিতা করছে না।”
জানা গেছে, আফরোজ খান মডেল স্কুলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলাকে কেন্দ্র করে গত ৩ জানুয়ারি জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান, এম এন আর জিসান, জাহেদুল ইসলাম জাওয়াদ ও ফারহান নিলয়কে বাসা থেকে ডেকে এনে স্কুলের পাশে তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় নিলয়কে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় আহতের বাবা সাদেকুল ইসলাম তালুকদার ১০ জানুয়ারি বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা চেষ্টার মামলা দায়ের করেন।
জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালাম বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। আমরা শিক্ষার্থীর পরিবারের পাশে আছি। অপরাধীদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা উচিত।”
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব জানান, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *