ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে হবে সচ্ছ ও নিরপেক্ষ ইলিয়াস হোসেন মাঝি
৬ জানুয়ারী (মঙ্গলবার) বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে মন্তব্য করে নাগরিক কেন্দ্রের সভাপতি মো. ইলিয়াস হোসেন মাঝি বলেন,
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচন কমিশনসহ অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তা ঐতিহাসিক হয়ে উঠতে পারে। এই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজন করা নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ত্রুটিমুক্ত রাখাও তাদের প্রধান কর্তব্য।
তিনি বলেন, অতীতে বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফলে এবারের নির্বাচন আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর ওপর নির্ভর করছে দেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ ও জনগণের আস্থা। একটি স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমেই সেই আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা সম্ভব। যদি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তাদের সাংবিধানিক ভূমিকা পালন করে, তবে এই নির্বাচন দেশের ইতিহাসে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
বাংলাদেশ জনতা সংস্কৃতিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক ও নাগরিক কেন্দ্রের সভাপতি মোঃ ইলিয়াস হোসেন মাঝি আরও বলেন, একটি সুষ্ঠু নির্বাচন মানে শুধু ভোট গ্রহণ নয়; বরং ভোটদানের পুরো প্রক্রিয়ায় সকল যোগ্য নাগরিকের সমান ও অবাধ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। ভোট প্রদান একটি মৌলিক নাগরিক অধিকার, যা খাদ্য ও বস্ত্রের অধিকারের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন হলো জনগণের প্রতিনিধি বাছাইয়ের প্রক্রিয়া, যেখানে নাগরিকরা স্বাধীনভাবে তাদের পছন্দের নেতা নির্বাচন করেন। এর মাধ্যমেই গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতা নিশ্চিত হয়।
তিনি বলেন, একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন মানেই জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ, যেখানে তারা নির্ভয়ে ও স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে।
সাবেক ছাত্রনেতা ইলিয়াস হোসেন মাঝি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য দেশের বৃহত্তর স্বার্থে অপরিহার্য—বিশেষ করে জাতীয় সংকট মোকাবিলা, গণতন্ত্র রক্ষা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে। ঐক্যের অভাব থাকলে সরকার গঠন ও টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে এবং নৈরাজ্য সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দেয়। তাই রাজনৈতিক শিষ্টাচার, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্মিলিত প্রয়াস জরুরি।
তিনি আরও বলেন, যে কোনো অপশক্তি প্রতিরোধ ও দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে একক কোনো ব্যক্তি বা সরকার যথেষ্ট নয়। এজন্য সকল রাজনৈতিক দলের ঐক্য ও সম্মিলিত উদ্যোগ অপরিহার্য।