প্রেস বিজ্ঞপ্তি
প্রেস বিজ্ঞপ্তিঃ
প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের ছয় দফা দাবির প্রতি বাংলাদেশ লেবার পার্টির একাত্মতা রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রবাসীদের জনসংখ্যা ও অর্থনৈতিক অবদানের অনুপাতে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে
— অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা
প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক, আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ পারিবার বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের ন্যায্য অধিকার, সংগঠনের ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি, পেনশন ব্যবস্থা, জাতীয় সংসদে প্রবাসীদের প্রতিনিধিত্ব এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রবাসীদের অংশগ্রহণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান। সভা পরিচালনা করেন আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের সদস্য সচিব স্পিকার এম. এ. রউফ। এছাড়াও বিভিন্ন দেশ ও সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ বিশেষ অতিথি হিসেবে সভায় উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন। প্রবাসীদের ন্যায্য দাবির প্রতি লেবার পার্টির সমর্থন প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির প্রবাসীদের কল্যাণ ও অধিকার নিয়ে নিজস্ব ১৪ দফা দাবি রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের ছয় দফা দাবির অনেক বিষয়ের সঙ্গে সেই দাবিগুলোর মিল রয়েছে। তিনি বলেন, প্রবাসীদের যেসব দাবি ন্যায়সঙ্গত, যৌক্তিক এবং দেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেসব দাবির প্রতি বাংলাদেশ লেবার পার্টি একাত্মতা প্রকাশ করছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে অতীতে তিনিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছেন। তার বক্তব্যে তিনি প্রবাসীদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকারকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
“আমরা করুণা চাই না, অধিকার চাই” — এম. এ. রউফ
সভা পরিচালনাকালে এম. এ. রউফ বলেন, আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের ছয় দফা দাবি কোনো আবেগনির্ভর দাবি নয়; এগুলো প্রবাসীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা, দীর্ঘদিনের অবদান এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
তিনি বলেন, “আমাদের ছয় দফা দাবি নৈতিক দাবি, যৌক্তিক দাবি এবং অধিকারভিত্তিক দাবি। আমরা কারও করুণা চাই না। আমরা আমাদের অধিকার চাই। শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিকভাবে আমাদের সংগ্রাম চলবে এবং আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাব।” তিনি বলেন, প্রবাসীরা দেশের জন্য রেমিট্যান্স পাঠান, বৈদেশিক মুদ্রার জোগান দেন, পরিবার ও স্থানীয় অর্থনীতি সচল রাখেন এবং জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাই তাদের সমস্যাকে প্রান্তিক কোনো বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। “ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলকণা থেকেই মহাসমুদ্র” — অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা বলেন, “ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলকণা থেকেই যেমন মহাসমুদ্র সৃষ্টি হয়, তেমনি আজকের ছোট ছোট উদ্যোগ, আলোচনা এবং ঐক্যের প্রচেষ্টা একদিন একটি বৃহৎ গণআন্দোলনের ভিত্তি তৈরি করতে পারে।” তিনি বলেন, প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধারা যদি দল, মত, অঞ্চল ও ব্যক্তিগত বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে নিজেদের ন্যায্য দাবির প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ হতে পারেন, তাহলে তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আরও শক্তিশালীভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, প্রবাসীদের আন্দোলন কোনো সরকারবিরোধী বা দলবিরোধী আন্দোলন নয়। সরকার পরিবর্তন হতে পারে, রাজনৈতিক নেতৃত্ব পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু প্রবাসীদের অধিকার ও প্রয়োজন থেকে যায়। তাই যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক, প্রবাসীদের দাবি সেই সরকারের কাছেই উপস্থাপন করা হবে। প্রবাসীদের জন্য পেনশন ব্যবস্থা তৈরির দাবি সভায় বিভিন্ন বক্তার প্রশ্নের জবাবে অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা বলেন, বাংলাদেশের প্রচলিত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিন বিদেশে কাজ করা প্রবাসীদের জন্য সরকারি চাকরিজীবীদের মতো একটি সার্বজনীন ও স্থায়ী পেনশন সুবিধা নেই। আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ তাই সরকারের কাছে একটি পৃথক, কার্যকর ও টেকসই প্রবাসী পেনশন ব্যবস্থা তৈরির দাবি জানিয়ে আসছে। তিনি বলেন, একজন মানুষ জীবনের ২০, ২৫ বা ৩০ বছর বিদেশে কাটিয়ে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার পর দেশে ফিরে যদি বার্ধক্যে আর্থিক নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তাহলে সেটি রাষ্ট্রের জন্যও চিন্তার বিষয়। তিনি বলেন, “আমরা সরকারকে অনুরোধ করছি, প্রবাসীদের জন্য এমন একটি পেনশন কাঠামো তৈরি করুন, যাতে দীর্ঘদিন বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানো প্রবাসীরা বার্ধক্যে ন্যূনতম সামাজিক নিরাপত্তা পান।” দলীয় এমপি আর প্রবাসীদের সরাসরি প্রতিনিধি এক বিষয় নয় প্রবাসীদের মধ্যে থেকে ইতোমধ্যে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা বলেন, কোনো ব্যক্তি অতীতে প্রবাসী ছিলেন বা প্রবাসী পটভূমি থেকে এসে কোনো রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বলেই তাকে প্রবাসী জনগোষ্ঠীর সরাসরি প্রতিনিধি বলা যায় না। তার বক্তব্য অনুযায়ী, দলীয় মনোনয়নে নির্বাচিত একজন সংসদ সদস্যকে দলের নীতি, রাজনৈতিক অবস্থান এবং সংসদীয় শৃঙ্খলার মধ্যেই কাজ করতে হয়। তাই প্রবাসীদের সরাসরি ভোটে বা পৃথক প্রতিনিধিত্ব কাঠামোর মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকলে তাদের বাস্তব সমস্যাগুলো আরও স্বাধীন ও ধারাবাহিকভাবে সংসদে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭০ দলীয় মনোনয়নে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের স্বাধীন ভোটদানের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা সৃষ্টি করে বলে তারা মনে করেন। এই কারণেই আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ সংসদ সদস্যদের অধিক স্বাধীনতা এবং প্রবাসীদের কার্যকর প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নেও দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে। রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রবাসীদের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব
অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা বলেন, বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক নাগরিক বিদেশে অবস্থান করছেন এবং তাদের অর্থনৈতিক অবদান জাতীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই রাষ্ট্র পরিচালনা, সংসদ, নীতিনির্ধারণ এবং প্রবাসী কল্যাণসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রবাসীদের কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা যৌক্তিক। তিনি বলেন, প্রতিনিধিত্বের উদ্দেশ্য কোনো নতুন সুবিধাভোগী শ্রেণি তৈরি করা নয়; বরং যারা সরাসরি প্রবাসজীবনের বাস্তব সমস্যা জানেন, তাদের অভিজ্ঞতা রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণে যুক্ত করা। ছয় দফা দাবির প্রতি পুনরায় সমর্থন সভায় আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়:
প্রধান অতিথি
ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ লেবার পার্টি, সভাপতি দায়িত্ব পালন করেন, এডভোকেট এ এন এম ঈসা, সভা পরিচালনা করিবেন স্পিকার এম এ রউফ কাতার, বিশেষ অতিথি কর্নেল আলী, বিশেষ অতিথি মেজর ইমরান মিয়া, বিশেষ অতিথি মোসাদ্দিক মিয়া মানিক, বিশেষ অতিথি এডভোকেট তাজুল ইসলাম, বিশেষ অতিথি এডভোকেট মির সিরাজ, বিশেষ অতিথি কর্নেল ফেরদৌস, সম্মানিত সকল সংসদ সদস্য, রেয়াজ আবু সাইদ, মির্জা সূমন, হাকিকূল ইসলাম খোকন সিনিয়র সাংবাদিক, সৈয়দ খালিদ মিয়া অলিদ, আলহাজ্ব ডঃ শরিফ সাকি, মোহাম্মদ হারুন ও রশিদ
মো. আব্দুল ওয়াহাব রিংকো, সভাপতি-গাজীপুর সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব এবং সম্পাদক ও প্রকাশক দৈনিক শব্দ দেশ পত্রিকা।
ইসমাইল খান, মোহাম্মদ ফজলুল করিম শেখ, হেলাল উদদীন ইসমাইল খান, তানজিনা জাহান, আলহাজ্ব ডক্টর শরিফ সাকি, উদ্বোধন বক্তব্য রাখেন, লায়ন শাহিদা পারভীন রতনা রংধনু নারী ফাউন্ডেশন চেয়ারম্যান ইন্টারন্যাশনাল নাসরিন আক্তার তরফদার রউফ রংধনু নারী ফাউন্ডেশন প্রধান উপদেষ্টা
১. স্থায়ী পেনশন ব্যবস্থা চালু: দীর্ঘদিন বিদেশে কাজ করে দেশে ফেরা প্রবাসীদের জন্য টেকসই সামাজিক নিরাপত্তা ও পেনশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
২. বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যয় কমানো: দালাল, প্রতারণা ও সিন্ডিকেটনির্ভর অতিরিক্ত ব্যয় বন্ধ করে স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত বিদেশগমন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
৩. আধুনিক শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ: আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী ভাষা, প্রযুক্তি ও দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
৪. প্রবাসীদের পূর্ণ নিরাপত্তা: বিদেশে কর্মস্থল থেকে শুরু করে দেশে বিমানবন্দর, সম্পত্তি, পরিবার ও আইনি সহায়তা পর্যন্ত পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৫. প্রবাসী কল্যাণ তহবিল: দুর্ঘটনা, অসুস্থতা, মৃত্যু, কর্মহীনতা ও জরুরি মানবিক পরিস্থিতিতে সহায়তার জন্য শক্তিশালী ও স্বচ্ছ কল্যাণ তহবিল গঠন করা।
৬. জাতীয় সংসদ ও সরকারে কার্যকর প্রতিনিধিত্ব: প্রবাসীদের সরাসরি প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদ ও মন্ত্রিসভায় তাদের বাস্তব ও অর্থবহ অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করা। দলমত নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান সভা থেকে সরকার, বিরোধী দল, রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার সংগঠন, সামাজিক সংগঠন, প্রবাসী সংগঠন, পেশাজীবী সমাজ এবং গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানানো হয়, প্রবাসীদের যৌক্তিক দাবিগুলোকে দলীয় রাজনীতির বাইরে রেখে জাতীয় স্বার্থের বিষয় হিসেবে বিবেচনা করার জন্য। বক্তারা বলেন, প্রবাসীরা কোনো একটি দলের নন; তারা বাংলাদেশের। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্সও কোনো একটি দলের জন্য নয়; তা সমগ্র দেশের অর্থনীতিকে উপকৃত করে। তাই তাদের অধিকার ও কল্যাণের প্রশ্নেও সর্বদলীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা উচিত। সভা সমাপ্তির আগে অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “আমাদের শক্তি ঐক্যে। আমরা যদি শান্তিপূর্ণ, যুক্তিনির্ভর ও সাংবিধানিকভাবে একসঙ্গে দাঁড়াতে পারি, তাহলে প্রবাসীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। আমরা দেশকে ভালোবাসি, তাই দেশের ক্ষতি করে নয়, দেশের উন্নয়নের অংশীদার হয়েই আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই।” উপস্থিত সকলের প্রতি সালাম, শুভেচ্ছা ও দোয়া জানিয়ে তিনি সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
প্রকাশক:
অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা
প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক
আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ
এম. এ. রউফ (কাতার)
সদস্য সচিব
0097466958035
আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ
কয়েক যূগ ধরে আমি রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ নামে পরিচিত