কালিয়াকৈরের মৌচাকে জমজমাট মেলা, নেই কোন অনুমতি

কালিয়াকৈরের মৌচাকে জমজমাট মেলা, নেই কোন অনুমতি

Sep 19, 2026

 

গাজীপুর প্রতিনিধিঃ

পুলিশকে ২০ হাজার টাকা দেওয়ার দাবি আয়োজকের, স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার  মৌচাক সদর চালা  এলাকায়  স্থানীয় ‘ভয়েস ক্লাব’-এর উদ্যোগে জমজমাটভাবে চলছে একটি মেলা। মেলায় নৌকা, চরকা, বক্সারসহ বিভিন্ন ধরনের বিনোদনমূলক রাইড বসানো হয়েছে। পাশাপাশি নাচ-গানের জন্য তৈরি করা হয়েছে আলাদা স্টেজ মাইকে উচ্চ শব্দে গান বাজানোর কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিরক্তি ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,  মৌচাক সদর চালা  এলাকায় মেলাকে ঘিরে বেশ ভিড় জমেছে। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষ সেখানে আসছেন। মেলা প্রাঙ্গণে বিভিন্ন ধরনের রাইড স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নাচ-গানের আয়োজনের জন্য একটি স্টেজও তৈরি করে নাচ গান হচ্ছে গত ৫-৬ দিন আগে থেকে । তবে মেলাটি আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না—এ নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মেলার কারণে এলাকায় শব্দদূষণ ও জনভোগান্তি তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর উচ্চ শব্দে গান বাজানোর কারণে আশপাশের বাসাবাড়ি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অবস্থানকারীরা সমস্যায় পড়ছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা। মেলা পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শাহীন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা হলে তিনি দাবি করেন, কালিয়াকৈর থানা ও মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশের সঙ্গে কথা বলেই মেলা বসানো হয়েছে। তাঁর দাবি, মেলা বসানোর জন্য পুলিশকে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো টাকা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে জানতে কালিয়াকৈর থানার মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ির ইন্সপেক্টর শামীম হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মেলা সম্পর্কে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে কথা বলতে বলেন। তিনি জানান, ইউএনও তাকে এ বিষয়ে জানালে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁকে প্রশ্ন করা হয় নিজের দায়িত্বাধীন এলাকায় মেলা বসেছে, বিষয়টি জানার পরও কেন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? জবাবে ইন্সপেক্টর শামীম হোসেন বলেন, মেলার বিষয়ে তাঁর করার কিছু নেই। পুলিশের এমন বক্তব্যের পর স্থানীয়দের মধ্যে আরও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—মেলা বসানোর ক্ষেত্রে আইনগত অনুমোদন বা প্রশাসনিক অনুমতির প্রয়োজন থাকলে শুধু মৌখিকভাবে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেই কি এমন আয়োজন চালানো সম্ভব? অনুমতি ছাড়া মেলা হলে দায় কার? স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের ভাষ্য, কোনো বিনোদনমূলক মেলা আয়োজনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের অনুমোদন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, শব্দ নিয়ন্ত্রণ, জনসাধারণের চলাচল ও স্থানীয় পরিবেশের বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে মেলায় যেসব রাইড স্থাপন করা হয়েছে, সেগুলোর নিরাপত্তা ও বৈধতা নিয়েও যথাযথ কর্তৃপক্ষের যাচাই করা দরকার। তাদের প্রশ্ন, মেলাটি যদি বৈধ অনুমোদন নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে, তাহলে সেই অনুমোদনের কাগজপত্র প্রকাশ করা হচ্ছে না কেন? আর যদি অনুমোদন না থাকে, তাহলে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না কেন? মেলার পাশাপাশি নাচ-গানের আয়োজন শুধু রাইড কিংবা দোকানপাট নয়, মেলা প্রাঙ্গণে নাচ-গানের জন্য তৈরি করা হয়েছে রকমারি স্টেজ যা গত ৫-৬ দিন ধরে চলছে । সন্ধ্যার পর সেখানে উচ্চ শব্দে গান বাজানোর অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। মসজিদ, বসতবাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনার কাছাকাছি এ ধরনের উচ্চ শব্দের আয়োজন নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, মেলার কারণে স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে নামাজের সময় ও রাতের দিকে উচ্চ শব্দে মাইক ও সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহারের কারণে ধর্মীয় পরিবেশও বিঘ্নিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বন্ধ হোক মেলা স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, মেলা আয়োজনের বিষয়ে তাদের আপত্তি বিনোদনের বিরুদ্ধে নয়। তবে কোনো অনুমোদন ছাড়া কিংবা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে মেলা পরিচালনা করা হলে তা বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন। তারা বলেন, মেলার কারণে যদি মানুষের নিরাপত্তা, স্বাভাবিক চলাচল, ধর্মীয় পরিবেশ ও জনজীবন ব্যাহত হয়, তাহলে প্রশাসনের উচিত বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া। সুশীল সমাজের বক্তব্য স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, একটি মেলা আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক অনুমোদনের পাশাপাশি জননিরাপত্তা, অগ্নিনিরাপত্তা, রাইডগুলোর কারিগরি নিরাপত্তা, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়গুলো নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের মতে, কোনো আয়োজক যদি দাবি করেন যে পুলিশের অনুমতি বা সহযোগিতা নিয়ে মেলা বসানো হয়েছে, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উচিত বিষয়টি পরিষ্কার করা। পুলিশ যদি কোনো অনুমতি দিয়ে থাকে, তার ভিত্তি ও শর্ত কী ছিল—সেটিও জনগণের সামনে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। আর অনুমোদন না থাকলে মেলা কীভাবে চলছে, সেটিও তদন্ত করা দরকার। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা আরও বলেন, “বিনোদনের নামে এমন কোনো আয়োজন গ্রহণযোগ্য নয়, যার কারণে স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, ধর্মীয় পরিবেশ ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়। প্রশাসনের উচিত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া।” প্রশাসনের নজরদারি চায় এলাকাবাসী এলাকাবাসীর অভিযোগ, মেলার অনুমোদন, পুলিশের সঙ্গে কথিত আর্থিক লেনদেন এবং উচ্চ শব্দে গান-বাজনার বিষয়গুলো তদন্ত না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজন আরও বাড়তে পারে। তাই কালিয়াকৈর উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে মেলার বৈধতা যাচাই, অনুমোদনের কাগজপত্র পরীক্ষা এবং শব্দদূষণ বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।  স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসন দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত করে মেলাটি বৈধ অনুমোদনের ভিত্তিতে চলছে কি না তা নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে কোনো অনিয়ম বা অনুমোদনহীন কার্যক্রমের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে মেলা আয়োজক শাহীন পুলিশের সঙ্গে ২০ হাজার টাকা লেনদেনের যে দাবি করেছেন, তার সত্যতা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা ও প্রশাসনের বক্তব্য এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করা জরুরি। বিষয়টি তদন্তের পরই প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *