তাড়াইলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা, মশকনিধন অভিযান ও সচেতনতামূলক র‍্যালি

তাড়াইলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা, মশকনিধন অভিযান ও সচেতনতামূলক র‍্যালি

Sep 12, 2026

 

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগের বিস্তার রোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, মশকনিধন অভিযান ও সচেতনতামূলক র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশব্যাপী তিন মাসব্যাপী ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) তাড়াইল উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দিনব্যাপী এসব কর্মসূচি পালন করা হয়। সকাল ১০টায় তাড়াইল উপজেলা প্রশাসনিক ভবন প্রাঙ্গণ থেকে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথমে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান, সড়ক ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। একই সঙ্গে এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে মশকনিধন অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে একটি সচেতনতামূলক র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান এবং বাড়িঘর, আঙিনা ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু শুধু কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের সমস্যা নয়; এটি জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি বিষয়। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রশাসন বা পৌরসভার একক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তারা বলেন, এডিস মশা সাধারণত জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, পুরোনো টায়ারসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণের পাশাপাশি সম্ভাব্য মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে। বক্তারা আরও বলেন, শুধু মশকনিধন অভিযান পরিচালনা করে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি প্রয়োজন ব্যাপক জনসচেতনতা ও সামাজিক অংশগ্রহণ। নিজের বাড়ির আঙিনা পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি প্রতিবেশী ও আশপাশের পরিবেশও পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমিয়ে আনা সম্ভব। সরকার ঘোষিত এ কর্মসূচি ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন মাস চলবে। এ সময়ে প্রতি শনিবার দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। তাড়াইলে কর্মসূচিতে উপস্থিত প্রশাসনের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও মশকনিধন অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে উপজেলাবাসীকে নিজ নিজ বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের এলাকায় পানি জমতে না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানজিলা আখতার, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জিসান আলী, তাড়াইল থানার ওসি (তদন্ত) মাসুদুর রহমান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রাশেদুজ্জামান মিয়া, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিকাশ রায়, উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আল আমীন, উপজেলা শিক্ষা অফিসার এনামুল হক, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান টিটু, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রিয়া রায়, ডা. তানভীরসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাড়াইল উপজেলা শাখার আমির হাবিবুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তাড়াইল উপজেলা শাখার সেক্রেটারি হাফেজ মাওলানা সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ গণঅধিকার পরিষদ তাড়াইল উপজেলা শাখার সভাপতি জাকিরুল ইসলাম বাকি, তাড়াইল সহিলাটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিম মিয়া, সহিলাটী আবদুল হালিম হোসাইনিয়া দাখিল মাদরাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা আনোয়ার হোসেনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। তাড়াইল উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি নিয়মিত আয়োজন করা হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা আরও বাড়বে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও মশকনিধন অভিযান অব্যাহত রাখলে পৌর এলাকাসহ পুরো উপজেলায় ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *