তেতুলিয়ায় আমনধান চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পারছেন প্রান্তিক কৃষকরা

তেতুলিয়ায় আমনধান চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পারছেন প্রান্তিক কৃষকরা

Jul 16, 2026

 

পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধিঃ

নিজস্ব প্রতিবেদক পঞ্চগড়ের তেতুলিয়া উপজেলায় পুরোদমে শুরু হয়েছে আমন ধান রোপণের কাজ। বর্ষা মৌসুমের এই সময়ে মাঠে মাঠে চারা রোপণে চরম ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় প্রান্তিক কৃষকরা। কাকডাকা ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৃষিজমিতে চলছে তাদের নিরলস পরিশ্রম।বুধবার সকালে উপজেলার তিরনই হাট ইউনিয়নের ডেমগছ গ্রামে দেখা যায়, পরিবারের সদস্য ও শ্রমিকদের নিয়ে পানিতে নেমে সারিবদ্ধভাবে বীজতলা থেকে চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন কৃষকরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় এ বছর আবাদের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে।তেতুলিয়া উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে এই উপজেলায় ১১ হাজার ৫৯০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থানীয় কৃষক হাফিজুর রহমান জানান, সময়মতো চারা রোপণ করতে পারলে ভালো ফলনের আশা থাকে। তাই বৃষ্টির তোয়াক্কা না করেই তারা কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন। পর্যাপ্ত বৃষ্টি ও অনুকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে এ বছর আমনের বাম্পার ফলনের প্রত্যাশা করছেন তারা। তেতুলিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে চোখে পড়ে আমনের চারা উঠানো রোপনের দৃশ্য। এ কাজে নারী শ্রমিকদের অংশ গ্রহন চোখে পড়ার মত দেখাগেছে এলাকায়।কয়েকটি জন প্রিয় ধানের জাত আবাদ করা হবে বলে জানান,কৃষকগন।-তিরনই হাট ইউপির ঠুনঠোনিয়া গ্রামের আনারুল ইসলাম মজিবর রহমান, জানান,প্রতি বছরের ন্যায় এ বছর ৭ বিঘা জমিতে আমন ধান রোপন করেছেন। ডেমগছ- গ্রামের কৃষক ইউসুফ আলী, হাফিজুর রহমান, জানান, তিনি ৩ একর ৫০ শতক জমিতে আগাম জাতের এবং ভাতের জন্যে আমন চাষ করেছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাবরিনা আফরিন জানান, কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা প্রদানের জন্য মাঠ পর্যায়ে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা নিয়মিত কাজ করছেন। উন্নত জাতের ধান চাষ এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে তাদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হলে চলতি মৌসুমে আমনের ভালো ফলন পাওয়া যাবে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে তেতুলিয়া বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সবুজ আমন চারার সমারোহ নতুন এক সম্ভাবনাময় ফসলের মৌসুমের জানান দিচ্ছে। কৃষকদের নিরলস শ্রম আর কৃষি বিভাগের সার্বিক সহযোগিতায় এবারও ভালো ফলনের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় কৃষি সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *