মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ভাটা, অর্থনীতি নিয়ে বাড়ছে অসন্তোষ

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ভাটা, অর্থনীতি নিয়ে বাড়ছে অসন্তোষ

Nov 3, 2026

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

হাকিকুল ইসলাম খোকন,এমডি নাসির, বাপসনিউজঃ

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, জীবনযাত্রার ব্যয় ও সরকারের নীতিকে ঘিরে ভোটারদের উদ্বেগ ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার পেছনে অর্থনৈতিক অসন্তোষকে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরেছে নিউ জার্সির সংবাদমাধ্যম NJ.com। ‘The Economy, Stupid: 5 Reasons Why Trump’s Popularity Cratered Ahead of the Midterms’ শিরোনামের বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে অর্থনীতিকে কেন্দ্র করে ভোটারদের মনোভাবের পরিবর্তনের পাঁচটি কারণ আলোচনা করা হয়েছে। জনপ্রিয়তা কমার পাঁচটি কারণঃ প্রতিবেদনটিতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার পেছনে পাঁচটি প্রধান বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।খবর বাপসনিউজ ও আইবিএননিউজ ।১. নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি: ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প মূল্যস্ফীতি কমানো এবং অর্থনীতি শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু পেট্রল, খাদ্যপণ্য ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের উচ্চমূল্য নিয়ে অনেক আমেরিকান অসন্তুষ্ট। এমনকি ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া কিছু ভোটারও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করছেন।২. ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ: ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান এবং হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি পরিবহনে বিঘ্নের কারণে তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে জ্বালানি তেলের দামে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে ৬৫ শতাংশ আমেরিকান ইরান সংঘাত পরিচালনায় ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।৩. শুল্কনীতি ও বাণিজ্যযুদ্ধ: বিদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের মাধ্যমে দেশীয় শিল্প ও শ্রমিকদের সুরক্ষার কথা বলেছেন ট্রাম্প। তবে সমালোচকদের মতে, এসব শুল্কের কারণে আমদানি করা পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে। এতে সাধারণ ভোক্তা ও শ্রমজীবী মানুষের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।৪. অভিবাসন নীতি: অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কার এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। কিন্তু কর্মস্থলে অভিযান, কঠোর অভিবাসন আইন প্রয়োগ এবং অভিবাসন কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা বেড়েছে।৫. দুর্নীতি ও ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থ নিয়ে বিতর্ক: ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও অন্যান্য বিনিয়োগ থেকে তাঁর ব্যক্তিগত আয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এ বিষয়ে এক জরিপে ৫৭ শতাংশ উত্তরদাতা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর পরিবারের ব্যবসায়িক স্বার্থ ও সরকারি দায়িত্বের মধ্যে সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। জরিপে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার চিত্রঃ প্রতিবেদন অনুযায়ী, RealClearPolitics-এর বিভিন্ন জরিপের গড় হিসাবে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজের প্রতি অনুমোদন ছিল ৩৮.৪ শতাংশ এবং অসম্মতি ছিল ৫৯.৭ শতাংশ। এ ছাড়া নিউ জার্সির স্টকটন ইউনিভার্সিটির ২২ অক্টোবর প্রকাশিত জরিপে দেখা যায়, রাজ্যের ৬৪ শতাংশ ভোটার ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। মাত্র ৩১ শতাংশ তাঁর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনা, ২০২৬ সালের ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে রিপাবলিকান পার্টিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হচ্ছে। অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, অভিবাসন এবং পররাষ্ট্রনীতি নির্বাচনী আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির সমালোচনার পাশাপাশি হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও শুল্কনীতি ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরা হচ্ছে। ফলে নির্বাচনে ভোটাররা এসব নীতির প্রভাব কীভাবে মূল্যায়ন করেন, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয়, কর্মসংস্থান, জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম এবং সরকারের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। শেষ পর্যন্ত ভোটারদের রায়ই জানিয়ে দেবে, এসব বিষয় কংগ্রেসের ক্ষমতার ভারসাম্যে কী প্রভাব ফেলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *