রাজনীতির মূল লক্ষ্য জনকল্যাণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
রাজনীতি কি শুধু ক্ষমতা অর্জনের মাধ্যম, নাকি জনগণের সেবা ও দেশ গঠনের অঙ্গীকার—এমন প্রশ্ন তুলে দেশের শাসনব্যবস্থা, রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও দেশপ্রেম নিয়ে নিজেদের অভিমত জানিয়েছে রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ পরিবার।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে দেশপ্রেমিক এম এ রউফ বলেন, রাজনীতি কোনো ব্যক্তিগত পেশা বা ক্ষমতা ধরে রাখার হাতিয়ার হওয়া উচিত নয়। রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণের কল্যাণ, রাষ্ট্রের উন্নয়ন এবং দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা। তিনি বলেন, “ক্ষমতার পালাবদল কিংবা কোনো শাসকের পতন রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হতে পারে। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—ক্ষমতা কখনো চিরস্থায়ী নয়। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও অধিকারকে উপেক্ষা করে কোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থা দীর্ঘদিন টেকসই হতে পারে না।” রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ পরিবারের মতে, একটি গণতান্ত্রিক ও সুস্থ সমাজ প্রতিষ্ঠায় জনগণের সচেতনতা এবং সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু শাসকের পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়; রাষ্ট্রে আইনের শাসন, জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, ন্যায়বিচার এবং শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান নিশ্চিত করাও জরুরি।
সংগঠনটি মনে করে, রাজনীতি যখন ব্যক্তিকেন্দ্রিক ক্ষমতার চর্চা থেকে বেরিয়ে জনগণের কল্যাণের নীতিতে পরিণত হবে, তখনই রাষ্ট্রের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব। যোগ্য, সৎ ও জনকল্যাণমুখী নেতৃত্ব নির্বাচন এবং রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। তাদের বক্তব্য, দেশপ্রেম শুধু মুখের কথায় প্রকাশ পায় না; দেশপ্রেমের প্রকৃত অর্থ হলো দেশের মানুষের অধিকার রক্ষা, বৈষম্য দূরীকরণ, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখা। রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ পরিবার আরও উল্লেখ করে, প্রবাসী বাংলাদেশিরা কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। তাই তাদের সম্মান, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদের মতামত ও অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। বক্তব্যে পারস্পরিক সহনশীলতা ও ভুল সংশোধনের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, “মানুষ ভুল করতে পারে। ভুল হলে তা সংশোধনের সুযোগ দিতে হবে। একে অপরের ভুলকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখে শুদ্ধ হওয়ার পথ তৈরি করতে হবে। বিভেদ ও প্রতিহিংসা নয়—পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও ঐক্যই দেশকে এগিয়ে নিতে পারে।” রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ পরিবারের ভাষ্য, একটি রাষ্ট্রের শক্তি কোনো একক ব্যক্তি বা শাসকের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং জনগণ, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, আইনের শাসন এবং নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই একটি দেশের স্থায়ী অগ্রগতির ভিত্তি।
নিবেদনে-রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ ইন্টারন্যাশনাল।