মায়াকান্না নয়, প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের অন্তত একটি দাবি সংসদে উত্থাপন করুন

মায়াকান্না নয়, প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের অন্তত একটি দাবি সংসদে উত্থাপন করুন

Jul 26, 2026

 

— অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা

কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক, আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ আজকাল সংসদের ভেতরে কিংবা বাইরে, টেলিভিশন, সংবাদপত্র, অনলাইন গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম খুললেই প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের নিয়ে নানা আলোচনা দেখা যায়। সবাই তাদের অবদানের কথা বলেন, দেশের অর্থনীতিতে তাদের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং তাদের জন্য কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু বাস্তব প্রশ্ন হলো—এই আলোচনা থেকে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স যোদ্ধারা কী পেলেন? প্রশ্ন??? বছরের পর বছর ধরে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স যোদ্ধারা তাদের ন্যায্য অধিকার নিয়ে কথা বলে আসছেন। যূগে যূগে চলছে। আমরা দীর্ঘদিন আগে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স যোদ্ধারা জন্য একটি ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেছি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আজ পর্যন্ত সেই ছয় দফার একটি দাবিও পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। কেবল আবেগঘন বক্তব্য, প্রশংসা বা সহানুভূতি প্রকাশ করলেই প্রবাসীদের সমস্যার সমাধান হবে না। বাস্তব পদক্ষেপই প্রকৃত মূল্য বহন করে। যারা দিনরাত পরিশ্রম করে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখছেন। তারা হইলো রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ পরিবার। তারা ঘোষণার চেয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত দেখতে চান। আমরা অতীতেও বলেছি, সংসদের প্রতিটি মিনিট অত্যন্ত মূল্যবান। বিভিন্ন আলোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, সংসদ পরিচালনায় প্রতি মিনিটে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সরকারি অর্থ ব্যয় হয়। তাই সেই সময় এমনভাবে ব্যবহার করা উচিত, যাতে জনগণ বাস্তব উপকার পায়। আমরা রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ পরিবার। আমাদের বিনীত অনুরোধ, দীর্ঘ বক্তৃতা বা আবেগঘন আলোচনা না করে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স যোদ্ধারা ছয় দফা দাবির অন্তত একটি বিষয়ে সংসদে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হোক। উদাহরণ হিসেবে প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্য একটি স্থায়ী পেনশন ব্যবস্থার প্রস্তাব সংসদে উত্থাপন করা যেতে পারে। এতে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স যোদ্ধারা অনুভব করবেন যে তাদের অবদানকে বাস্তব অর্থে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। রংধনু নারী ফাউন্ডেশন চেয়ারম্যান লায়ন শাহিদা পারভীন রতনা ও নাসরিন আক্তার তরফদার রউফ প্রধান উপদেষ্টা আন্তর্জাতিক তারা বলেছেন। একইভাবে বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যয় কমানো, দালাল ও সিন্ডিকেট নির্মূল, পাসপোর্ট ও বিমানবন্দর সেবার উন্নয়ন, প্রবাসীদের নিরাপত্তা এবং জরুরি সহায়তা তহবিল গঠনের মতো বিষয়ও সংসদে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হতে পারে। আমরা সরকার, বিরোধী দল এবং সকল সংসদ সদস্যের প্রতি সম্মান রেখেই বলতে চাই—প্রবাসীদের রেমিট্যান্স যোদ্ধা রা কে নিয়ে আলোচনা অবশ্যই হোক, কিন্তু সেই আলোচনা যেন বাস্তব সিদ্ধান্তে রূপ নেয়। আলোচনা তখনই অর্থবহ হবে, যখন তার ফল সাধারণ প্রবাসীদের জীবনে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনবে। প্রবাসীরা রেমিট্যান্স যোদ্ধা কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের নন; তারা বাংলাদেশের উন্নয়নের চালিকাশক্তি হিরো হিরোইন। তারা পরিবার থেকে দূরে থেকে কঠোর পরিশ্রম করে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছেন। তাই তাদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়ন করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আমাদের আহ্বান খুবই সরল—প্রবাসীদের রেমিট্যান্স যোদ্ধারা কে নিয়ে শুধু বক্তব্য নয়, কার্যকর উদ্যোগ নিন। ছয় দফার অন্তত একটি দাবি সংসদে উত্থাপন করুন, আলোচনা করুন এবং বাস্তবায়নের পথ তৈরি করুন। সেটিই হবে প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের প্রতি প্রকৃত সম্মান। রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ পরিবার পরিশেষে বলতে চাই, সংসদের মূল্যবান সময় এমনভাবে কাজে লাগুক, যাতে তার সুফল দেশের সাধারণ মানুষ এবং প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধারা বাস্তবে অনুভব করতে পারেন। কথার চেয়ে কাজের মূল্যই শেষ পর্যন্ত ইতিহাসে স্থান পায়।

অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক
আন্তর্জাতিক রেমিটেন্স যোদ্ধা সংসদ. desh.bondhu@hotmail.com.
এম. এ. রউফ (Qatar) কেন্দ্রীয়
roufnasrin@gmail.com. 00974 66958035.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *