প্রেস বিজ্ঞপ্তি–প্রবাসীদের প্রলোভন দেখানো বন্ধ করুন—আমাদের ছয় দফা দাবির অন্তত একটি দফা বাস্তবায়ন করুন

প্রেস বিজ্ঞপ্তি–প্রবাসীদের প্রলোভন দেখানো বন্ধ করুন—আমাদের ছয় দফা দাবির অন্তত একটি দফা বাস্তবায়ন করুন

Jul 19, 2026

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
প্রবাসীদের প্রলোভন দেখানো বন্ধ করুন—আমাদের ছয় দফা দাবির অন্তত একটি দফা বাস্তবায়ন করুন
— অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা
দেশবন্ধু রেমিটেন্স যোদ্ধা সংসদের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা বলেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তাদের কষ্টার্জিত রেমিটেন্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সমৃদ্ধ করছে, অর্থনীতিকে সচল রাখছে এবং উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিচ্ছে। অথচ তাদের প্রকৃত চাহিদা ও দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবিগুলো এখনও যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না। তিনি বলেন, গত কিছুদিন ধরে প্রবাসীদের জন্য নতুন কার্ড, কমিশন, বিভিন্ন সুবিধা, নতুন নম্বর, সহজ পাসপোর্ট, বিমানবন্দরে বিশেষ সেবা ইত্যাদি নানা ঘোষণার কথা শোনা যাচ্ছে। এসব ঘোষণা সংসদের ভেতরে হোক বা বাইরে, বারবার প্রচার করা হচ্ছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কোনো অর্থবহ আলোচনা করা হয়নি। অ্যাডভোকেট ঈসা বলেন, প্রবাসীরা কোনো দান, করুণা বা লোক দেখানো প্রণোদনা চান না। তারা চান তাদের ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক। একজন প্রবাসীর বিদেশে কর্মজীবনের শুরু থেকে দেশে প্রত্যাবর্তনের পর পর্যন্ত একটি সুসংগঠিত, মানবিক ও টেকসই রাষ্ট্রীয় নীতিমালা প্রণয়ন করা এখন সময়ের দাবি। তিনি আরও বলেন, প্রবাসীদের প্রলোভন দেখানো বন্ধ করুন। আমাদের দীর্ঘদিনের ছয় দফা দাবির অন্তত একটি দফা বাস্তবায়ন করে আন্তরিকতার প্রমাণ দিন। দেশবন্ধু রেমিটেন্স যোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত ছয় দফা দাবি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন—
১. পেনশন ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
২. বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যয় কমিয়ে দালাল ও সিন্ডিকেটনির্ভর ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে।
৩. আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী আধুনিক কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
৪. দেশে ও বিদেশে প্রবাসীদের জীবন, সম্পদ ও মর্যাদার পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৫. দুর্ঘটনা, মৃত্যু ও মানবিক সংকট মোকাবিলায় শক্তিশালী প্রবাসী কল্যাণ ও জরুরি সহায়তা তহবিল গঠন করতে হবে।
৬. প্রবাসীদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে সংসদে ১০টি আসন এবং একজন মন্ত্রীর প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা করতে হবে।।অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা বলেন, যারা বছরের পর বছর পরিবার-পরিজন ছেড়ে কঠোর পরিশ্রম করে দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছেন, তাদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হতে পারে না। প্রবাসীদের উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে মর্যাদা দিতে হবে, শুধু বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের উৎস হিসেবে নয়। তিনি সরকার, বিরোধী দল, সংসদের সকল সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রবাসীদের বিষয়ে নতুন কোনো পরিকল্পনা বা ঘোষণা দেওয়ার আগে তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসুন। তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা, সমস্যা ও দাবিকে গুরুত্ব দিন। এতে শুধু প্রবাসীদের আস্থা বাড়বে না, দেশের অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে।
এম. এ. রউফ (কাতার) সদস্য সচিব বলেন, “আমাদের ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত শুধুমাত্র নতুন নতুন ঘোষণায় প্রবাসীদের সন্তুষ্ট করা যাবে না। প্রবাসীদের সম্মান, নিরাপত্তা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাই হোক রাষ্ট্রের অঙ্গীকার।”

প্রকাশক:
অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা
প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক
দেশবন্ধু রেমিটেন্স যোদ্ধা সংসদ (International Remittance Warriors Parliament)
এম. এ. রউফ (কাতার)
সদস্য সচিব, কেন্দ্রীয় কমিটি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *