বড়াইগ্রামে সাংবাদিককে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

বড়াইগ্রামে সাংবাদিককে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

Sep 23, 2026

নাটোর প্রতিনিধিঃ

নাটোরের বড়াইগ্রামে পাওনা টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক মো. আশরাফুল ইসলামকে মারধর, দোকানে আটকে রাখা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির এক নেতাসহ দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। একই ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, প্রায় তিন বছর আগে অভিযুক্তদের একজনকে তিনি ২০ হাজার টাকা ধার দেন। কয়েক দিনের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও ওই টাকা পরিশোধ করা হয়নি। লিখিত অভিযোগে আশরাফুল ইসলাম উল্লেখ করেন, পাওনা টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে বড়াইগ্রাম থানাধীন দিঘলকান্দি লেওতি মোড় এলাকায় পাওনা টাকা চাইতে গেলে অভিযুক্তরা তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, এর প্রতিবাদ করায় তাকে একটি দোকানের ভেতরে আটকে রাখা হয়। একপর্যায়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের পাশাপাশি পাওনা টাকা চাইলে মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর স্বজনদের সঙ্গে পরামর্শ করে বড়াইগ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ করেন সাংবাদিক আশরাফুল ইসলাম। তবে অভিযোগ দায়েরের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান কোনো আইনগত অগ্রগতি হয়নি বলে দাবি তার। আশরাফুল ইসলামের অভিযোগ, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আফাজ বিভিন্ন সময়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ১ নম্বর অভিযুক্ত মফিজ উদ্দিনের সঙ্গে যোগসাজশ বা লেয়াজুর কারণে বিষয়টি ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত করা হয়েছে। এদিকে অভিযুক্ত মফিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে এলাকায় প্রভাব বিস্তার, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। তাদের ভাষ্য, কিছুদিন আগে দলবল নিয়ে অস্ত্রের মহড়া দেওয়ার অভিযোগে স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে বাগডোব ঈদগাহ মাঠের মোড় এলাকায় তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছিল। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা আরও দাবি করেন, মফিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এলাকাবাসী বলছেন, রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে সাংবাদিককে মারধর ও হুমকির অভিযোগসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা। ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে তাকে মারধর, আটকে রাখা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। থানায় অভিযোগ করার পরও কার্যকর ব্যবস্থা না হওয়ায় তিনি উদ্বিগ্ন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মফিজ উদ্দিনসহ অপর অভিযুক্তের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। একইভাবে পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আফাজের বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি। অভিযোগের সত্যতা, পুলিশের ভূমিকা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *