ছাতকে সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদা দাবি, প্রাণনাশের হুমকি ও ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগ

ছাতকে সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদা দাবি, প্রাণনাশের হুমকি ও ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগ

Jul 21, 2026

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদা দাবি, প্রাণনাশের হুমকি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর অপপ্রচারের অভিযোগ এনে তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও দুইজনের বিরুদ্ধে ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মোঃ দুলু মিয়া (৪০)। অভিযোগকারী মোঃ দুলু মিয়া (৪০), পিতা: মৃত আব্দুল কুদ্দুস, সাং: নোয়াগাঁও, ১নং ইসলামপুর ইউনিয়ন, থানা: ছাতক, জেলা: সুনামগঞ্জ। অভিযোগে বিবাদী করা হয়েছে— ১। মোঃ নাজমুল হাসান জুয়েল (৪২), পিতাঃ আব্দুল আজিজ, সাং: বাহাদুরপুর, ইউপি: ইসলামপুর, থানা: ছাতক, জেলা: সুনামগঞ্জ। ২। সাজ্জাদ মাহমুদ মনির (৩৬), পিতা: আবুল বাশার, সাং: লাফার্জ ফেরিঘাট, ৬নং ওয়ার্ড, ছাতক পৌরসভা, থানা: ছাতক, জেলা: সুনামগঞ্জ। ৩। অজিত কুমার দাশ (৪২), ইউপি সদস্য, পিতাঃ অজ্ঞাত, সাং: কামারখাল, ৮ নং ওয়ার্ড, ইউপি: চরমহল্লা, থানা: ছাতক, জেলা: সুনামগঞ্জ। ৪। অজ্ঞাতনামা আরও ২ (দুই) জন। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ১৪ জুলাই ২০২৬ মঙ্গলবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টায় ইসলামপুর ইউনিয়নের মরাচেলা নদীর পাশে দাগ নং-২৪ দাগভুক্ত অভিযোগকারীর বৈধ মালিকানাধীন ভূমিতে শ্রমিকরা সম্পূর্ণ ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে বালু উত্তোলনের কাজ শেষ করে সরঞ্জাম পরিষ্কারসহ আনুষঙ্গিক কাজ করছিলেন। এ সময় বিবাদীরা নৌকাযোগে ঘটনাস্থলে এসে অভিযোগকারীর কাছে প্রতিদিন ২৫ হাজার টাকা এবং প্রতি মাসে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবিকৃত অর্থ প্রদান না করলে ওই স্থান থেকে কোনোভাবেই বালু উত্তোলন করতে দেওয়া হবে না বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পরিচয় জানতে চাইলে বিবাদীরা নিজেদের ফেইসবুক আইডি সুরমা-২৪, এ্যাওয়ার্ড বাংলা, জাউয়া বার্তা এবং প্রেস ক্লাবের সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেন। অভিযোগকারী চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করলেও যাওয়ার সময় পুনরায় হুমকি দিয়ে এক দিনের মধ্যে দাবিকৃত অর্থ পরিশোধ না করলে পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে হুমকি দেন। লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, পরবর্তীতে অভিযোগকারী তাদের দাবির প্রতি সাড়া না দেওয়ায় বিবাদীরা তার অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তার বিরুদ্ধে মানহানিকর, কুরুচিপূর্ণ, মিথ্যা, অপপ্রচারমূলক ও ভয়ভীতি প্রদর্শনমূলক বিভিন্ন পোস্ট ও মন্তব্য প্রচার করেন। এতে তার সামাজিক মর্যাদা, ব্যক্তিগত সুনাম ও ব্যবসায়িক ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ও তার পরিবার বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেন। অভিযোগকারী বিষয়টি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও আইনানুগভাবে তদন্তপূর্বক অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিবাদীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে নিয়মিত মামলা রুজু, দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “অভিযোগটি তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *