আওয়ামী লীগ নেতার মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন সাংবাদিক রফিক

আওয়ামী লীগ নেতার মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন সাংবাদিক রফিক

Jul 14, 2026


‎নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

‎দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. খায়রুল আলম রফিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলায় জামিন মঞ্জুর করেছেন ঢাকা মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালত। আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত শুনানি শেষে তার জামিন মঞ্জুর করেন। মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ জুলাই ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের নেতা মো. শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে রাজধানীর পল্টন থানাধীন পুরানা পল্টনের একটি ঘটনার অভিযোগ এনে আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে পরবর্তীতে পল্টন থানা পুলিশ মামলাটি রেকর্ড করে (মামলা নম্বর-৭, তারিখ: ০৮/০৭/২০২৬)। শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আদালতকে জানান, এজাহারে উল্লেখিত ঘটনার দিন ও সময়ে সাংবাদিক মো. খায়রুল আলম রফিক ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তিনি ওই সময় ময়মনসিংহের ত্রিশাল পৌরসভার নিজ বাসভবনে অবস্থান করছিলেন। এর সপক্ষে ডিজিটাল প্রমাণ হিসেবে সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত আদালতে উপস্থাপন করা হয়। সাংবাদিক রফিকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান মোল্যা সাংবাদিকদের বলেন, মামলার সঙ্গে সংযুক্ত কিছু নথি প্রাথমিকভাবে জাল ও ভুয়া বলে প্রতীয়মান হয়েছে। বিজ্ঞ আদালত সার্বিক দিক বিবেচনা করে ও আসামিপক্ষের যুক্তি আমলে নিয়ে মো. খায়রুল আলম রফিকের জামিন মঞ্জুর করেছেন। আজকের জামিন শুনানিতে সাংবাদিক রফিকের পক্ষে অংশ নেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক, কোর্ট রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট সাংবাদিক আবুল কালাম খান, অ্যাডভোকেট মো. আতাউর রহমান মোল্যা, অ্যাডভোকেট জিয়া উদ্দিন সুমন এবং অ্যাডভোকেট কাঞ্চন বাহাদুর। এদিকে শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা মামলার বাদী আওয়ামী লীগ নেতা মো. শহিদুল ইসলামের অতীত কর্মকাণ্ডের বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন। তারা জানান, ২০১৭ সালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাদের পরিবারকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগে শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে একটি মানহানির মামলা দায়ের হয়েছিল। আর সেই মামলায় সাক্ষী ছিলেন সাংবাদিক মো. খায়রুল আলম রফিক। আইনজীবীদের দাবি, ওই মামলার সাক্ষী হওয়ার পর থেকেই প্রতিহিংসাবশত সাংবাদিক রফিকের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিনিয়ত অপপ্রচার চালিয়ে আসছেন শহিদুল ইসলাম। এছাড়া এই অপপ্রচারের বিষয়ে ময়মনসিংহের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে এবং আওয়ামী লীগ নেতা মো. শহিদুল ইসলামসহ ১৫০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে ইতোমধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে বলেও আসামিপক্ষ থেকে জানানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *