থানা থেকে লুট করা অস্ত্রসহ বড় সাজ্জাদের তিন সহযোগী গ্রেপ্তার
অফিস ডেস্ক |
নগরীতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে থানা থেকে লুট হওয়া বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ গুলি ও একটি মোটরসাইকেলসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। সোমবার দিবাগত রাত থেকে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
সিএমপি জানায়, কমিশনার হাসিব আজিজ-এর নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী-এর নেতৃত্বে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে প্রথমে মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ওরফে রিমন ওরফে ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার স্বীকারোক্তিতে চকবাজার থানা এলাকা থেকে একটি বিদেশি রিভলভার ও ৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়, যা সিএমপির পাহাড়তলী থানা থেকে লুট করা হয়েছিল বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। ইমন বহদ্দারহাটে সংঘটিত আট হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি।
পরবর্তীতে ইমনের তথ্যের ভিত্তিতে পাঁচলাইশ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ব্রাজিলিয়ান টরাস ৯ এমএম পিস্তল ও একটি মোটরসাইকেলসহ মনিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধারকৃত পিস্তলটি সিএমপির ডবলমুরিং থানা থেকে লুট করা হয়েছিল বলে জানায় পুলিশ।
এরপর মনিরের তথ্য অনুযায়ী বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকা থেকে সায়েমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেখানো মতে খুলশী থানা এলাকা থেকে একটি এসএমজি, দুটি ম্যাগাজিন ও ৫০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, এসব অস্ত্র খাগড়াছড়ি এলাকার পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে কেনা হয়েছিল।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই বড় সাজ্জাদ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে খুন, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর কাছ থেকে গ্রুপের নতুন সদস্য রিক্রুট সংক্রান্ত শপথ গ্রহণের একটি ভিডিও ক্লিপ উদ্ধার করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক চন্দনপুরায় স্মার্ট গ্রুপের মালিকের বাড়িতে গুলির ঘটনায় আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী প্রধান পরিকল্পনাকারী ও সমন্বয়কারী ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধারকৃত তিনটি অস্ত্র ওই ঘটনায় ব্যবহৃত হয়েছে বলে আসামিরা স্বীকার করেছে। বিষয়টি ব্যালিস্টিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।