গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও জনবল সংকটে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত

স্টাফ রিপোর্টার:
গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স—ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবার একমাত্র ভরসা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতালটি বর্তমানে তীব্র চিকিৎসক ও জনবল সংকটে ধুঁকছে। প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসকসহ মোট ৭৩টি পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে। জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থোপেডিক্স, গাইনি ও প্রসূতি, কার্ডিওলজি, শিশু, নাক-কান-গলা ও চক্ষু) পদের কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হাসপাতালে নেই। ফলে জটিল রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা শহরে পাঠানো ছাড়া বিকল্প থাকছে না।
এছাড়া ডেন্টাল সার্জন, সহকারী সার্জন, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ফার্মাসিস্ট, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব, রেডিওগ্রাফি ও ফিজিওথেরাপি), স্বাস্থ্য পরিদর্শকসহ তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির বহু পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে আছে।
জনবল সংকটের পাশাপাশি অবকাঠামোগত নানা সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। হাসপাতালের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন স্থাপন, কেন্দ্রীয় ঔষধাগার ও ডরমেটরি ভবন নির্মাণ, নতুন কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট, হাসপাতাল ক্যাম্পাসের সাথে আবাসিক এলাকার সংযোগ সড়ক সংস্কার, কেন্দ্রীয় পানি সরবরাহ ও পরিশ্রুত পানির ব্যবস্থা, ড্রেনেজ সিস্টেমের আধুনিকায়ন এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আধুনিক ইপিআই সেন্টার নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ এখনো দেখা যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জনবল সংকটের কারণে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। অনেক ক্ষেত্রে জরুরি চিকিৎসার জন্য বেসরকারি ক্লিনিকে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। দ্রুত শূন্য পদ পূরণ ও অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধান না হলে উপজেলার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দিভাকর ভাট জানান, জনবল ও সরঞ্জাম সংকটের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।