গাজীপুরে ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতে হামলা-ভাঙচুর ও সাংবাদিককে মারধর

গাজীপুরে ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতে হামলা-ভাঙচুর ও সাংবাদিককে মারধর

Aug 14, 2026

গাজীপুর প্রতিনিধি:

গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের ডেগের চালা এলাকায় ইনডেসোর সুয়েটার কারখানার ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পরিচয়ধারী নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে সশস্ত্র মহড়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার দিনভর কয়েক দফা মহড়াকে কেন্দ্র করে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একাধিকবার লোকজনের জড়ো হওয়া ও মহড়ার কারণে ডেগের চালা রোডে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হয়। আতঙ্কিত হয়ে অনেক বাসিন্দা বাড়ির দরজা-গেট বন্ধ করে দেন। একই সময়ে ব্যবসায়ীরাও দোকানের শাটার নামিয়ে ভেতরে অবস্থান নেন। অভিযোগ রয়েছে, মহড়ার সময় সড়কের দুই পাশে কয়েকটি বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। রামদা দিয়ে কুপিয়ে কাঠ ও টিনের বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার ছবি তুলতে গিয়ে টুটুল নামে স্থানীয় এক সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। ৩২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ মণ্ডল অভিযোগ করেন, ইনডেসোর সুয়েটার কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে লিখিত চুক্তির মাধ্যমে তিনি নিয়মিত ঝুট উত্তোলন করে আসছেন। সম্প্রতি বিএনপির নাম ব্যবহার করে একটি পক্ষ জোরপূর্বক ওই ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে দাবি করেন তিনি। আব্দুল হামিদ মণ্ডলের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সকালে কারখানা থেকে ঝুট নামানোর সময় গাছা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব আব্দুল মান্নান ওরফে মন্না, গাছা থানা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, গাছা থানা যুবদলের আহ্বায়ক রিপন, যুগ্ম আহ্বায়ক মিণ্টু সরকার, সাবেক ছাত্রদল নেতা মমিন, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী মোটর শ্রমিক লীগের সভাপতি শিবলু খান এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আজহার মাহমুদ খানের নেতৃত্বে শতাধিক লোক কারখানার সামনে অবস্থান নেন। তার দাবি, ওই ব্যক্তিদের কয়েকজনের হাতে রামদা, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল ও লাঠিসোঁটা ছিল। তারা ঝুট বের করতে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি দিনভর কয়েক দফা সশস্ত্র মহড়া দেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। আব্দুল হামিদ মণ্ডলের ভাষ্য অনুযায়ী, মহড়ার সময় আশপাশের কয়েকটি বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ঘটনার ছবি তুলতে গেলে স্থানীয় সাংবাদিক টুটুলও হামলার শিকার হন এবং অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন বলে তিনি অভিযোগ করেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কেউ ফোন রিসিভ করেননি। গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রব্বানি বলেন, ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষ মারমুখী অবস্থানে ছিল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তবে পুলিশ চলে আসার পর আবারও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। ওসি জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পরিচয়ধারী দুই পক্ষের প্রকাশ্য সশস্ত্র অবস্থান ও মহড়ার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। নোট: প্রতিবেদনে উল্লিখিত হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও সশস্ত্র মহড়ার বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ ও স্থানীয়দের বক্তব্যের ভিত্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাই এবং অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *