দিনাজপুরের বিরামপুরে গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬, স্মরণ করা হলো ১৭ বছরের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম
দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ
দীর্ঘ ১৭ বছরের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন, ত্যাগ, নির্যাতন ও রক্তাক্ত সংগ্রামের স্মৃতিকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে দিনাজপুরের বিরামপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে “৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬”। বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে বিরামপুর ঢাকা মোড়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি),বিরামপুর উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এক বিশাল মিছিল বিরামপুর সরকার কলেজ প্রাঙ্গন হইতে ঢাকা মোড়ে এসে শেষ হয়। এখানে আলোচনা সভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে দলীয় নেতাকর্মী,বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ, পেশাজীবী, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং সর্বস্তরের বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ডা. এ.জেড.এম. জাহিদ হোসেন, এমপি (দিনাজপুর ৬), মাননীয় মন্ত্রী, সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জনাব মিঞা মো.শফিকুল আলম মামুন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মঞ্জুর এলাহী চৌধুরী রুবেল। এ সময় বিরামপুর পৌর বিএনপির সভাপতি মো.হুমায়ুন কবির ও সাধারণ সম্পাদক মো.রেজাউল করিম রেজুসহ উপজেলা, পৌর ও বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি এবং অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো একদিনের ঘটনা নয়; এটি দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রাম, ত্যাগ, কারাবরণ, নির্যাতন ও অসংখ্য মানুষের আত্মদানের ফসল। গণতন্ত্র, মানুষের ভোটাধিকার ও মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, জাতি তাঁদের অবদান কখনো ভুলবে না।”
তিনি আরও বলেন, “দেশকে এগিয়ে নিতে হলে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, সুশাসন ও জবাবদিহিতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। জনগণের অধিকারই রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি হওয়া উচিত। ব্যক্তিস্বার্থ নয়, দেশ ও জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। ঐক্য, সম্প্রীতি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের মাধ্যমেই একটি সমৃদ্ধ, বৈষম্যহীন ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।” তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “জনগণের পাশে থেকে সততা, নিষ্ঠা ও মানবিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করতে হলে গণতান্ত্রিক চেতনা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে।” বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামে যারা শহীদ হয়েছেন,আহত হয়েছেন কিংবা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন,তাঁদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁদের আদর্শ ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক,বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বক্তারা। আলোচনা সভা শেষে দেশ,জাতি, গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা,শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিরামপুর উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ বিপুলসংখ্যক সমর্থক ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দিবসটির কর্মসূচি প্রাণবন্ত ও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।