খোলা চিঠি, প্রশাসক,ঢাকা উত্তর সিটি ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ঢাকা বরাবর

খোলা চিঠি, প্রশাসক,ঢাকা উত্তর সিটি ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ঢাকা বরাবর

Sep 24, 2026

অথই নূরুল আমিন

বিষয় : সুপরিকল্পিতভাবে ঢাকাসহ দেশের যানজট নিরসন, হকার পূনর্বাসন, পরিচ্ছন্ন ও সরকার তথা সিটি করপোরেশন গুলোর আয় বর্ধক কর্মসূচি প্রসঙ্গে। জনাব, ঢাকা উত্তর সিটি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি একত্রে হওয়ার ফলে, দুটি সিটির যানজট কমিয়ে আনা ও হকার পূনর্বাসন, কর্মপরিকল্পনা একসঙ্গে নেয়া অত‍্যন্ত জরুরি বলে মনে করি । উক্ত পরিকল্পনা সঠিকভাবে শুরু করতে পারলে, দুটি সিটি’র যেমন কমে আসবে যানজট, তেমনি হবে ফুটপাত হকার মুক্ত। সমগ্র শহর থাকবে জ্বলজ্বলে পরিস্কার। অন‍্য দিকে বাড়তে থাকবে দুটি সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব -আয়। আমাদের দেয়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই প্রথম বাংলাদেশ সরকার অথবা চুক্তি ভিত্তিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বা ঠিকাদারি প্রতিটি প্রতিষ্ঠান, প্রতি মাসে লাভবান হবে শত কোটিরও বেশি টাকা। লক্ষ্য করলে দেখা যায়, বিগত সময়ের বিভিন্ন সরকার গুলো, সিটি উন্নয়নে রাষ্ট্রীয় যা কাজ করেছে। তার ৯৮% জলে ফেলেছে। যার জন‍্য সমাজে একটি প্রবাদ এসেছে। “সরকারের মাল দরিয়ায় ঢাল”। আমাদের মহা পরিকল্পনা, অনুযায়ী প্রথমে সমগ্র ঢাকার দুই মহানগরীকে, ১২ ভাগে ভাগ করা হবে। এখানে শহরের প্রায় প্রত‍্যেক রাস্তা বা ফুটপাতের দোকানের জন‍্য “বিল গ্রিল সিস্টেম” স্থায়ীভাবে ব‍্যবস্থা করা হবে। শুধুমাত্র উল্লেখযোগ্য জায়গা গুলোতে । যানজট নিরসনের জন‍্য সমগ্র ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনকে ১২ ভাগে ভাগ করে। “বোডিং বোট সিষ্টেম” নগরায়ন ” ওভার স্টং হাইওয়ে রাস্তা ” তৈরি করা হবে। যার গঠন থাকবে, একেক রাস্তায় একেক রকম। গঠন হবে তার স্থান, দূরত্ব এবং চওড়ার উপর নির্ভরশীল। লক্ষ্য করে দেখা গেছে, ঢাকা শহরের প্রায় আড়াই কোটি বসবাসকারী নিত্য যানজটের কবলে। এই আড়াই কোটি ঢাকাবাসী এবং প্রতিদিন মফস্বল থেকে আসা বিভিন্ন কারণে, পঞ্চাশ লাখেরও বেশি মানুষের জন‍্য যেন গলার কাটা হয়ে দাড়িয়েছে । একঘণ্টার রাস্তা যেতে সময় লাগে তিন ঘন্টা। যার ফলে সিএনজি ভাড়া বেশি দিতে হয় যাত্রীদের । লেগুনা ভাড়া এমনকি রিকশা ভাড়াও এই যানজটের জন‍্য বিশ টাকা থেকে আশি টাকা পর্যন্ত বেশি গুনতে হয় সকল যাত্রীকে। যা প্রতিদিনকার ঘটনা। যার ফলে সকল নাগরিকগণ যখন যে সরকার মেয়র বা প্রশাসক যেই থাকুক। তাদেরকেই দায়ী করে থাকে অনেকেই প্রকাশ‍্যে, অনেকেই মনে মনে। এছাড়া যারা ব‍্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে, ঢাকায় অফিস করেন বা ব‍্যবসা করেন। তাদের ও একশ টাকা থেকে শুরু করে তিনশ টাকার সমমান তেল বেশি ব‍্যয় হয়ে থাকে। আর সময় তো নষ্ট হচ্ছেই। এদিকে ঢাকার পাইকারি বাজার গুলোতেও বাণিজ্য কম, শুধুমাত্র এই যানজটের কারণে । যানজটের ভয়ে অনেক ব‍্যবসায়ী ঢাকায় না এসে, তাদের সুবিধামত স্থান থেকেই মার্কেট করে চলে যান। অন‍্য দিকে ফুটপাতের হকারেরাও অগোছালো ভাবে বিভিন্ন জায়গা দখলে নিয়ে,অনেকেই অপরিকল্পিত ভাবে রাস্তা দখল করেও যানজটের সৃষ্টি করছে প্রতিদিন। এদিকে এই যানজটের জন‍্য ওভার চালক থেকে শুরু করে, ঢাকা শহরের সিএনজি লেগুনা এবং রিকশা সবাই আর্থিকভাবে সংকটে আছে। এছাড়া শহরের ধুলা বালুতে সকলের জন্য রোগের সৃষ্টি হচ্ছে। আমাদের পদ্ধতি মতে যানজট কমতে শুরু হলে, সাথে সাথে কমে আসবে অপরিচ্ছন্নতা। কমে আসবে মশার উৎপত্তি। যে মশার কারণে আমরা কেউ নিরাপদ নই।মশার উৎপত্তির কারণে বিভিন্ন রোগ ছড়াচ্ছে সবসময় এমনকি ডেঙ্গু পর্যন্ত ছড়িয়ে যাচ্ছে। শহরের ফুটপাতের অগোছালো ক্ষুদ্র দোকানীদের চরম অবহেলার কারণে, বিভিন্ন কাগজ এবং পলিথিন সীমাহীন রাস্তার উপরে জমা হয় যা দেখার কেউ নেই । তাই সামান্য বৃষ্টি হলেই পলিথিন কাগজ বা অন‍্যান‍্য পদার্থর জন‍‍্য রাস্তায় পানি জমে যায় খুব সহজেই। তখন শহরবাসীরা দুর্ভোগে পরেন। যার জন‍্য শহরের ভাসমান ক্ষুদ্র ব‍্যবসায়ীদের বাসস্থানের ব‍্যবস্থা করা হবে পরিকল্পিত ভাবে, যা এখনো কেউ চিন্তাই করেনি । যার ফলে শহরের ফুটপাত থাকবে পরিস্কার। অন‍্য‍ দিকে শহরে সীমাহীন গাড়ি থাকাতে হর্ণর শব্দে,শব্দ দোষণ হচ্ছে মারাত্মক ভাবে। ঢাকায় বসবাসরত কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মারাত্মক ভাবে লেখাপড়ারও ক্ষতি হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা শহরের যানজট ৫০% কমিয়ে আনতে হবে। শহরকে বসবাসের যোগ্য করতে হলে। বতর্মানে ঢাকা শহর বসবাসের অযোগ্য প্রায়। আমাদের পরামর্শ গ্রহন করলে। শহরের যানজট কমিয়ে এবং হকার পূনর্বাসন ও পরিস্কার শহর করতে, দুটি পদ্ধতি থেকে সরকার যেকোন একটি গ্রহণ করতে পারে । ১. সরকার যদি এখানে যানজট নিরসন প্রকল্পে বিনিয়োগ করে। তাহলে প্রকল্প থেকে আয়ের অংশ সরকার পাবে। মাসে বিনিয়োগের ৩০% প্রতিমাসে। প্রকল্পটি শেষ হওয়ার পর থেকে। ২. যদি কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বা বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান সরকারের অনুমতি বা টেন্ডার সাপেক্ষে তাহলে আয়ের অংশ পাবে সেই প্রতিষ্ঠান। তাই যানজট নিরসন ও পরিচ্ছন্ন পরিচালককে সরকারের সহযোগিতা করতে হবে মনে প্রানে। এক বছর থেকে দেড় বছরের ভিতরে জনগণ বুঝতে পারবে, যানজট কমতে শুরু করেছে। এবং পাঁচ বছরের ভিতরে ঢাকা শহর হবে একটি শান্ত শহর। এবং বিশ্বে উন্নত শহরের গননায় সন্তোষজনক তালিকায় নাম আসবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। ইনশাআল্লাহ।

বিঃ দ্রঃ একই রকম ভাবে দেশের সকল জেলা, সিটি, উপজেলা,পৌরসভা যেখানে যানজট আছে। তা কমিয়ে দেয়ার পরামর্শ প্রদান করতে আমরা সক্ষম। এখানে সরকার অর্থ ব‍্যয় করলেও হবে। অর্থ ব‍্যায় না করলেও কাজ হবে। উক্ত পত্র প্রেরকের সাথে দেশের যেকোনো সিটির মেয়র বা প্রশাসক মহোদয়গণ যোগাযোগ করতে পারেন।
” কাজ হবে একবার, পঞ্চাশ বছর হবে পার
(শর্ত প্রযোজ‍্য )

পত্র প্রেরক : অথই নূরুল আমিন

রাজনৈতিক বিশ্লেষক, কলাম লেখক ও রাষ্ট্রচিন্তক
মুখপাত্র : জাতীয় মানবসম্পদ উইং।
পরিচালক, যানজট নিরসন পরামর্শ টিম।
ঠিকানা : বাড়ি নং ৪৩, রোড নং ২ ঢাকা উদ‍্যান, মোহাম্মদপুর,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *