প্রেস বিজ্ঞপ্তি

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

Jul 18, 2026

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

এন. এম. ঈসা

অন্ন, বস্ত্র ও বাসস্থানের নিশ্চয়তা নিশ্চিতের পরই রাজনীতি, সমাজনীতি ও ধর্মনীতি প্রাসঙ্গিক:
লন্ডন: অন্ন, বস্ত্র ও বাসস্থান মানুষের মৌলিক অধিকার। এসব অধিকার নিশ্চিত না করে রাজনীতি, সমাজনীতি, ধর্মনীতি, গণতন্ত্র কিংবা রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা বাস্তবসম্মত নয় বলে মন্তব্য করেছেন ইন্টারন্যাশনাল রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক দেশবন্ধু অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “পেটে ক্ষুধা থাকলে মানুষ রাজনীতি করে না।” ক্ষুধার্ত ও অসহায় মানুষের কাছে রাজনৈতিক আদর্শ, গণতন্ত্র এবং রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হয়ে ওঠে, যখন তার বেঁচে থাকার ন্যূনতম প্রয়োজন—অন্ন, বস্ত্র ও বাসস্থান নিশ্চিত হয়। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি প্রতিদিন নিজের ও পরিবারের খাদ্যের ব্যবস্থা করতে সংগ্রাম করছেন, যার পরনের কাপড় ও নিরাপদ আশ্রয়ের অভাব রয়েছে, তার কাছে রাজনীতি একটি দূরবর্তী বিষয়। কারণ তার সমস্ত সময়, চিন্তা ও শ্রম ব্যয় হয় কেবল বেঁচে থাকার প্রয়োজনে। অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা আরও বলেন, রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনা সম্পর্কে সচেতনভাবে চিন্তা করার জন্য মানুষের শিক্ষা, নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, অবসর এবং স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ প্রয়োজন। কিন্তু ক্ষুধা, দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও গৃহহীনতার মধ্যে থাকা মানুষের জীবনে এসব সুযোগ প্রায়ই অনুপস্থিত থাকে। তিনি উল্লেখ করেন, ক্ষুধার্ত ও অসহায় মানুষকে অল্প অর্থ, একবেলা খাবার অথবা সাময়িক সুবিধার বিনিময়ে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা সহজ। তাই প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পূর্বশর্ত হলো মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা। রংধনু নারী ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা নাসরিন আক্তার তরফদার রউফ এবং চেয়ারম্যান লায়ন শাহিদা পারভীন রত্না বিবৃতির সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন বা বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে সীমাবদ্ধ নয়; বরং প্রতিটি নাগরিকের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা এবং নিরাপদ কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা প্রদানই রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব। দেশের একজন মানুষও যদি ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে বাধ্য হয়, তবে সেই উন্নয়নকে পূর্ণাঙ্গ ও মানবিক উন্নয়ন বলা যায় না। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও মানুষের মৌলিক প্রয়োজন পূরণ অপরিহার্য। ক্ষুধা ও চরম দারিদ্র্য মানুষের বিবেক, নৈতিকতা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতাকে দুর্বল করে দিতে পারে। তাই সমাজে শান্তি, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার পূর্বে মানুষের জীবনধারণের মৌলিক ভিত্তি সুদৃঢ় করা প্রয়োজন।
দেশবন্ধু অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা বলেন, “আমাদের সুস্পষ্ট অবস্থান হলো—প্রথমে মানুষের অন্ন, বস্ত্র ও বাসস্থানের নিশ্চয়তা নিশ্চিত করতে হবে। এরপর রাজনীতি, সমাজনীতি, ধর্মনীতি এবং অন্যান্য আদর্শিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা উচিত।” তিনি আরও বলেন, মানুষকে ক্ষুধার্ত রেখে উন্নয়নের কথা বলা যায় না, গৃহহীন রেখে স্বাধীনতার সুফল তুলে ধরা যায় না এবং বেকার রেখে রাজনৈতিক অধিকারের পূর্ণতা প্রত্যাশা করা যায় না। ইন্টারন্যাশনাল রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ সরকারের প্রতি কার্যকর সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গৃহহীনদের পুনর্বাসন এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য নিয়মিত খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনের সদস্য সচিব এম. এ. রউফ বলেন, “একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বপ্রথম মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। মৌলিক অধিকার নিশ্চিত না হলে স্বাধীনতা অসম্পূর্ণ, গণতন্ত্র দুর্বল এবং রাজনীতি অর্থহীন হয়ে পড়ে।”

বার্তা প্রেরক:
এম. এ. রউফ, সদস্য সচিব
ইন্টারন্যাশনাল রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *