সিলেট শাহী ঈদগাহ মাদরাসার নাজিমের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, অপসারণের দাবি

সিলেট শাহী ঈদগাহ মাদরাসার নাজিমের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, অপসারণের দাবি

Jun 27, 2026

 

অফিস ডেস্কঃ

সিলেট নগরীর শাহী ঈদগাহ এলাকার হযরত শাহ মীর হাফিজিয়া ইসলামিয়া মাদরাসার নাজিম আতিক বড়লেখা (নাজিম) হুজুরের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে তাঁকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও প্রবাসীরা। সম্প্রতি ‘লন্ডন প্রবাসী’ পরিচয়ে পাঠানো এক লিখিত বক্তব্যে এ দাবি জানানো হয়। লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, আতিক বড়লেখা অতীতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকালে আর্থিক অনিয়ম ও অসৎ আচরণের অভিযোগে বিতর্কিত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি শাহী ঈদগাহ এলাকার হযরত শাহ মীর হাফিজিয়া ইসলামিয়া মাদরাসায় যুক্ত হন। অভিযোগকারীদের দাবি, মাদরাসার নাজিম হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়ও তিনি প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত করছেন। অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, মাদরাসায় শিক্ষক নিয়োগ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় একক প্রভাব বিস্তার করে তিনি নিজের অনুগতদের প্রাধান্য দিচ্ছেন। ভিন্নমত পোষণকারী বা অনিয়মের প্রতিবাদকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে তাঁদের প্রতিষ্ঠান ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।এছাড়া মাদরাসায় এতিম ও শিক্ষার্থীদের জন্য দান করা খাবার, কোরবানি বা অন্যান্য অনুদানের ব্যবস্থাপনাতে ও অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, মাদরাসার উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং হিফজ বিভাগের কার্যকারিতা প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছাতে না পারার পেছনে বর্তমান প্রশাসনিক দুর্বলতা ও নাজিমের অযোগ্যতা দায়ী। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, প্রবাসী ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় মাদরাসার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করা হলেও শিক্ষা ও প্রশাসনের গুণগত পরিবর্তন দৃশ্যমান হয়নি। বিশেষ করে স্থানীয় মসজিদে তারাবিহ ও তাহাজ্জুদের নামাজে নিজস্ব হাফেজ প্রস্তুত করতে না পারার বিষয়টিও তাঁরা মাদরাসা পরিচালনার ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অভিযোগকারীরা দাবি করেন, মাদরাসার সার্বিক উন্নয়ন, সুশাসন এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বর্তমান নাজিমকে অপসারণ করে যোগ্য, সৎ ও দক্ষ প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া জরুরি। অন্যথায় বিষয়টি নিয়ে বৃহত্তর পরিসরে আলেম-ওলামা, স্থানীয় জনসাধারণ এবং গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে সভা-সমাবেশ করারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আতিক বড়লেখির বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পর্কে মন্তব্য নেওয়ার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে মাদরাসা পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এমন গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা যাচাই করতে মাদরাসা পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সেটিও পরিষ্কারভাবে জানানো উচিত।প্রসঙ্গত, হযরত শাহ মীর হাফিজিয়া ইসলামিয়া মাদরাসা শাহী ঈদগাহ এলাকার একটি পরিচিত ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির সুনাম, শিক্ষার পরিবেশ এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও প্রবাসীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *