কে. বাড়ি এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত ও মোবাইল ছিনতাই যেন নিত্যদিনের স্বাভাবিক চিত্র

কে. বাড়ি এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত ও মোবাইল ছিনতাই যেন নিত্যদিনের স্বাভাবিক চিত্র

Sep 13, 2026

 

গাজীপুর প্রতিনিধি:

গাজীপুর সদরের বি.কে. বাড়ি এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত ও মোবাইল ছিনতাই যেন নিত্যদিনের স্বাভাবিক চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্রিভেন্সী স্প্রিং মিলের মেইন গেটের সামনে, সিকদার মার্কেট ও মোহাম্মদ আলীর বাড়ির সংলগ্ন তিন রাস্তার মোড়ে সন্ধ্যার পর থেকেই বসে অপরাধীদের এই হাট। অনুসন্ধানে জানা যায়, সন্ধ্যা নামলেই ৫ থেকে ৭ জনের কিশোর গ্যাংয়ের দল অলিগলিতে অবস্থান নেয়। তাদের প্রধান টার্গেট কারখানাফেরত নারী-পুরুষ ও সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। পথচারীদের গতিরোধ করে দেহ তল্লাশি করার নামে পকেটে জোরপূর্বক ইয়াবা ঢুকিয়ে দেওয়ার ভয় দেখায় তারা। এরপর মারধর করে মোবাইল ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। ভুক্তভোগী গার্মেন্টস শ্রমিকদের অভিযোগ, মাস শেষে বেতন পেয়ে বাড়ি ফেরার পথে তারা সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে থাকেন। এই কিশোর গ্যাং জোরপূর্বক তাদের উপার্জিত টাকা ছিনিয়ে নেওয়ায় বাসা ভাড়া, দোকানের বকেয়া ও পরিবারের খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তারক মন্ডল নামে এক পোশাক শ্রমিক জানান, তালতলী থেকে সিকদার মার্কেট আসার পথে গ্রিভেন্সী মেইন গেটের সামনে ৯ জন কিশোর তার পথরোধ করে। তল্লাশির নামে তার পকেটে টিস্যু ঢুকিয়ে ইয়াবা আছে বলে নাটক সাজায় তারা। তবে আশপাশে লোকজন জড়ো হয়ে গেলে অপরাধীরা পালিয়ে যায়। স্থানীয় ব্যবসায়ী মোঃ আলমও একই ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, মাদ্রাসা থেকে ছেলেকে নিয়ে আসার সময় তার শ্যালকের মোবাইল ছিনতাই করে নিয়ে গেছে এই চক্রটি। গাজীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সম্প্রতি এই ছিনতাইয়ের ঘটনাটি ইউএনও’র নজরে আনা হলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন সম্পূর্ণ সচেষ্ট রয়েছে। ভুক্তভোগীকে দ্রুত থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “বিষয়টি আমি ইতিমধ্যেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করেছি। অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো হচ্ছে।” ইউএনও আরও জোর দিয়ে বলেন, এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের যেকোনো অপতৎপরতা রুখতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের তল্লাশি ও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় থাকবে বলেও তিনি স্পষ্ট জানান। এই বিষয়ে জয়দেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)-এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে বিষয়টি জানা নেই বলে মন্তব্য করেন। তবে পরবর্তীতে সাংবাদিক মোঃ মোসলেহ উদ্দিন বাচ্চু’র প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করব এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসব।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *