চট্টগ্রামে বিসিএসআইআর কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের লাগাতার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ
মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম
জাতীয় ভিত্তিক সংগঠন বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ-এর কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে পে-কমিশনের সুপারিশকৃত বৈষম্যহীন নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে চট্টগ্রামে লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচি পালন করছে বিসিএসআইআর কর্মচারী কল্যাণ পরিষদ (ইউনিয়ন)।
বিসিএসআইআর চট্টগ্রাম গবেষণাগারের উদ্যোগে গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত গবেষণাগার প্রাঙ্গণে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ পালন করেন সকল কর্মচারী।
এর ধারাবাহিকতায় ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পঞ্চম দিনের মতো অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়।
এদিন বিক্ষোভ মিছিল শেষে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন—
১১–২০ গ্রেড সরকারি চাকরিজীবী ফোরাম, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি মোঃ আছাদুর রহমান জুয়েল, বিসিএসআইআর কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি তসলিমা আক্তার, সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাসিবুল হোসেন, সহ-সভাপতি মোঃ আব্দুল খালেক, সোয়েব উল্ল্যা, টিকলু তালুকদার, বুলবুল বিন শহীদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সাজ্জাদুল ইসলাম, সুলতান মাহমুদ সুজন, গোলাম রব্বানী, ইসরাত জাহান, মোঃ আমিনুর রহমান, খয়বর রহমান, মোঃ সাইফুল ইসলাম, মীর হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে বৈষম্যহীন নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গেজেট প্রকাশ করতে হবে। বর্তমান বাজারদরে সরকারি কর্মচারীদের বেতন দিয়ে সংসার চালানো অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। একজন কর্মচারী মাত্র ৮,২৫০ টাকা বেতনে ছয় সদস্যের পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ বহন করতে পারছেন না। ফলে কর্মচারীদের জীবনযাত্রা চরম সংকটে পড়েছে।
তারা আরও বলেন, দীর্ঘ ১১ বছর ধরে নতুন কোনো পে-স্কেল কার্যকর হয়নি। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার পে-স্কেল প্রদানের লক্ষ্যে পে-কমিশন গঠন করলেও কমিশন গত ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরও এখন পর্যন্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়নি। বরং সরকারের বিভিন্ন উপদেষ্টার পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, অর্থ উপদেষ্টা নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ না করে সময়ক্ষেপণ করছেন এবং জ্বালানি উপদেষ্টা দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট না হয়েও পে-স্কেল বাস্তবায়ন হবে না—এমন বক্তব্য দিয়ে কর্মচারীদের আরও হতাশ করেছেন। এসব বক্তব্যের ফলে সারা দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
সমাবেশ থেকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস-এর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের অভিভাবক হিসেবে তাদের মানবিক দুর্দশা বিবেচনায় নিয়ে নবম পে-স্কেলের গেজেট দ্রুত প্রকাশ করতে হবে। একই সঙ্গে পূর্বের টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহালের দাবি জানান তারা।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ না হলে আন্দোলন আরও তীব্রতর করা হবে এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বেন না কর্মচারীরা।
শেষে তারা নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও জ্বালানি উপদেষ্টার বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে সরকারের সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেন।