করিমগঞ্জে যুবক অপহরণ ও নির্যাতনের মামলায় মূল আসামী কারাগারে, নিরাপত্তাহীনতায় ভুক্তভোগী পরিবার

করিমগঞ্জে যুবক অপহরণ ও নির্যাতনের মামলায় মূল আসামী কারাগারে, নিরাপত্তাহীনতায় ভুক্তভোগী পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মো. রায়হান নামে এক যুবককে অপহরণ ও পৈশাচিক নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি রাকিব আকুঞ্জিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। কিশোরগঞ্জ জেলা আদালতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে আসামি জামিন আবেদন করলে বিজ্ঞ বিচারক তা নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তবে প্রধান আসামি কারাগারে থাকলেও এখনো চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ভুক্তভোগী রায়হান ও তার পরিবার। তাদের অভিযোগ, আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় জামিনে বেরিয়ে এলে মামলা তুলে নিতে বাদী ও ভিকটিমকে প্রাণনাশের হুমকি দিতে পারে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৬ নভেম্বর করিমগঞ্জ উপজেলার জগৎসাবাড়ি গ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মরহুম আব্দুল করিমের ছেলে মো. রায়হানকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যায় প্রতিপক্ষ। পরে তাকে একটি গোপন স্থানে আটকে রেখে দীর্ঘ সময় ধরে নির্মম শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনায় ভিকটিমের পিতা মো. জালাল (৪৮) বাদী হয়ে করিমগঞ্জ থানায় রাকিব আকুঞ্জিকে প্রধান আসামি করে ৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২–৩ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা (মামলা নং–৬) দায়ের করেন।

এ বিষয়ে মামলার বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তা করিমগঞ্জ থানার এসআই ফজলুল হক জানান, প্রাথমিক তদন্তে এটি এলাকা আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত একটি বর্বরোচিত অপহরণ ও নির্যাতনের ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ চলছে এবং সকল দিক গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। রায়হানের ওপর নির্মম নির্যাতনের প্রতিবাদ এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসী ইতোমধ্যে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় বিভিন্ন মাধ্যমে তারা এখনো হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছে। তাদের আশঙ্কা, কোনোভাবে আসামিরা জামিনে মুক্তি পেলে বাদী ও ভিকটিমের প্রাণনাশের আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত শেষ করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে, যাতে প্রকৃত অপরাধীরা আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি পায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *