বিএনপির আমলেও যদি ছাত্র – ছাত্রীরা, সুশৃঙ্খল শিক্ষা পদ্ধতি না পায়, এটা হবে জাতির জন্য হতাশা

বিএনপির আমলেও যদি ছাত্র – ছাত্রীরা, সুশৃঙ্খল শিক্ষা পদ্ধতি না পায়, এটা হবে জাতির জন্য হতাশা

Nov 6, 2026

অথই নূরুল আমিন

বাংলাদেশের শিক্ষা পদ্ধতি সম্পূর্ণ অগোছালো থাকার কারণে লেখাপড়া থেকে অসংখ্য ছাত্র ছাত্রী মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। অন‍্য দিকে মেধাবী ছাত্র ছাত্রীরা অনেকেই বিদেশে পাড়ি দিচ্ছে। প্রকৃত লেখাপড়ায় অমনোযোগী ছেলেরা বখাটে হয়ে যাচ্ছে। অনেকেই কিশোরগ‍্যাং এর সাথে জড়িত হয়ে পরছে। অনেকেই মাদকের সাথে জড়িয়ে পরছে। কেউ ক্রেতা কেউ বিক্রেতা হয়ে যাচ্ছে। আমি মনে করি দেশের শিশু সমাজ থেকে শুরু করে কিশোর – কিশোরী ও যুবক যুবতিদের সুস্থ পথে ফিরিয়ে আনার সবচেয়ে বড় মাধ‍্যম হচ্ছে। দেশের সুশৃঙ্খল শিক্ষা পদ্ধতি। পৃথিবীর সকল উন্নত দেশে শিক্ষা পদ্ধতি সুশৃঙ্খল আছে বিধায় তারা উন্নত দেশ। চুয়ান্ন বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের শিক্ষা পদ্ধতি চলছে এ যেন পাগলের হাতে কুন্তি। যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসে। ক্ষমতায় এসেই তারা ছাত্র ছাত্রীদের জন‍্য কলা রুটি উপহার দিবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকেন। এ যেন কাজীর গরু কাগজে আছে গোয়ালে নেই অবস্থার মতো। লক্ষ্য করলে দেখা যায়। বাংলাদেশের শিক্ষা পদ্ধতিতে রয়েছে সবচেয়ে বৈষম্য। বাংলাদেশে জন্ম সূত্রে নাগরিক হয়ে সেই শিশুটি দেখতে লাগল। শিক্ষার মধ‍্যে কত প্রকার বৈষম্য রয়েছে। ১. সরকারি প্রাথমিক বা উচ্চ বিদ‍্যালয় গুলোতে শিক্ষাব্যবস্থা একরকম। যেমন এখানে সকল বই সরকারি এবং বিনামুল্যে পাওয়া যায় । তবে গাইড বই কিনে নিতে হয় চড়া দামে এছাড়া খাতা কলম অন‍্যান‍্য বিষয়টি বাদ। তবে তেমন কোনো বেতন ভাতাও দিতে হয় না অনেকাংশে। তবে এখানে রয়েছে কিছু ভুতুড়ে নিয়মকানুন। যার ফলে অনেকের সুযোগ পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। ২. তার পাশেই বা বড় বড় শহর গুলোর মধ‍্যে গড়ে উঠেছে হাজার হাজার বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যাকে বলে অভিভাবকদের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাত। এরকম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর মালিকেরা রাতারাতি কোটিপতি বনে যাচ্ছে। শুধুমাত্র শিক্ষা বাণিজ্য করে। মাসিক বেতন, পরীক্ষা ফি, কোচিং ফি, বই কেনা, পোষাক তৈরি, এমনকি খাতা কলম বেজ পর্যন্ত তাদের কাছ থেকে কিনতে কিনতে অভিভাবকেরা দিশেহারা। আমি শুধুমাত্র প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি নিয়ে আজকের আলোচনা করছি। কিন্তু দেশের কোনো বিজ্ঞ জনের কাছে কোনো টকশোতে আমাদের দেশের মুল সমস্যা যে বতর্মান শিক্ষা পদ্ধতি। তা নিয়ে কেউ কোনো আলোচনা সমালোচনা করতে তেমন শোনা যায় না। সরকারি শিক্ষকেরা মাঝে মাঝে আন্দোলন করে বেতন বৃদ্ধির জন‍্য। এমপিও ভুক্ত শিক্ষকেরা সবাই না খেয়ে থাকে বারোমাস। এমন কথা অনেক শিক্ষকেরাই মিডিয়ার সামনে বলেন। অথচ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো বিশেষ করে কিন্ডারগার্টেন স্কুল, ইংলিশ মেডিয়াম স্কুল এমনকি অনেক কিন্ডারগার্টেন মাদ্রাসা গুলো তারা কিন্তু বাজারের মাছ ব‍্যবসায়ীদের মতো নীরবে শিক্ষা ব‍্যবসা করে যাচ্ছে। বিলিয়ন বিলিয়ন টাকা। তাদের কোনো দাবী দাওয়া নেই সরকারের কাছে এবং নেই কোনো আন্দোলন নেই কোনো কর্মসূচি ও মিছিল মিটিং। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেশের মোট শিক্ষার্থীদের মাঝে মাত্র ৩০% শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। বাকিরা সবাই বেসরকারি খাতে নিজের বা অভিভাবকদের খরচে পড়ালেখা করছে। দেশের ৩০% শিক্ষার্থীদের জন‍্য সরকারের হাজার কোটি টাকার বাজেট এ যেন ঘোড়ার দামে চাবুক কেনার সমান আহাম্মকী ছাড়া আর কিছুই নয়। দীর্ঘদিনের অ ব‍্যবস্থার ফলে আজকে সরকারি বিদ‍্যালয় গুলো যেন লোকসানী কৃষকের শূন্য গোয়াল ঘরের মতো। না আছে ভালো শিক্ষা না আছে সৌন্দর্য। আমি মনে করি এক হলে সরকারের পক্ষ থেকে দেশের সকল শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব বহন করা হোক। নতুবা সকল শিক্ষা বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়া হোক। শিক্ষা খাতে সরকার যে টাকা ব‍্যয় করছে। এ যেন স্বর্ণের দামে ছেড়া লুঙ্গি কেনার সমান। দেশের বতর্মান নতুন প্রজন্মকে শিক্ষায় ধিক্কায় মানুষের মতো মানুষ করে গড়ে তুলতে হলে সরকারের উদ্যোগে বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষার স্তরকে সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে সাজিয়ে তুলতে হবে। নতুনভাবে নবজাগরণে জাগিয়ে তুলতে হবে দেশের প্রতিটা শিশু ও কিশোর কিশোরীকে। শিক্ষা খাতে বাংলাদেশের শিশুরা অনেক পিছিয়ে গেছে। আরো দেরি করলে আরো ক্ষতি হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *