পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সুনামগঞ্জে অর্ধ শতাধিক গ্রামে ইজারাদার ও এলাকাবাসী কঠোর অবস্থানে

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সুনামগঞ্জে অর্ধ শতাধিক গ্রামে ইজারাদার ও এলাকাবাসী কঠোর অবস্থানে

Jul 22, 2026

 

 

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, দেশখ্যাত ঐতিহ্যবাহী সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী তাহিরপুর উপজেলার বিশাল শিমুল বাগান সংরক্ষণ এবং যাদুকাটা নদীর তীরবর্তী অর্ধশতাধিক গ্রামের পাড় কাটা রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইজারাদার কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন। সরকারি নিয়মনীতি মেনে বালু উত্তোলনের মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি নদীর ইজারা বহির্ভূত এলাকায় স্থানীয় রেনু মিয়া মেম্বারসহ একটি প্রভাবশালী চক্রের পাড় কাটার বিরুদ্ধে এবার মাঠে নেমেছেন জেলা,উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, নেওয়া হয়েছে নানামুখী জোরালো ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ। প্রাকৃতিক উপায়ে বালু ও পাথরে সমৃদ্ধ সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা-১ ও ২ নদী ঘিরে বিশাল বালু ও পাথরের মঝে পর্যটকদের আর্কয়নীয় স্থান। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ট্রেন্ডারের মাধ্যমে ১০৭ কোটি টাকায় সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে রাষ্ট্রিয় কোষাগারে টাকা জমা দিয়ে একবছরের জন্য যাদুকাটা নদী ১ ও ২ লীজ (ইজারা)নেন শাহ রুবেল আহমদ ও নাছির মিয়া। কিন্তু এই যাদুকাটা -১ ও ২ নিয়ে মামলার জটিলতার কারণে দীর্ঘ ৫ মাস তারা রয়েলিটি আদায় করতে পারেননি। কিন্তু দীর্ঘ ৫ মাস পর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সার্ভেয়ার ঘটনাস্থলে গিয়ে বালু মহাল দুটির সীমানা নির্ধারণ করে লাল নিশানা লাগিয়ে ইজারাদার দুজনকে দুটি বালু মহাল সমজিয়ে দিয়ে আসা হয়। এরপর থেকে ইজারাদার কর্তৃপক্ষ নীতিমালা অনুসরণ করে নির্ধরিত সীমানার ভেতরে প্রতি ফুট বালু থেকে ২০ টাকা হারে রয়েলিটি(ঢোল) আদায় করে থাকেন। এই বালু মহাল দুটি চালু থাকায় স্থানীয় ৫০ হাজারের বেশী শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে তারা সনাতন পদ্ধতিতে বালু উত্তোলন করে পরিবার পরিজন নিয়ে জীবন জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। ড্রেজার কিংবা বোমা মেশিন ছাড়া সনাতন পদ্ধতিতে বালু উত্তোলনের ফলে জীববৈচিত্র রক্ষার পাশপাশি পরিবেশের ও বিপর্যয় ঘটেনি।।কিন্তু স্থানীয় বাদাঘাট ইউপি সদস্য মোঃ রানু মিয়া মেম্বারের নেতৃত্বে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র রাতের আধাঁরে ড্রেজার(বোমা) মেশিন লাগিয়ে যাদুকাটা দুটি নদীর সীমানার বাহিরে গিয়ে নদী তীরবর্তী এশিয়া বিখ্যাত শিমুলবাগানের পাশে নদীতে এবং নদী তীরবর্তী ঘাগটিয়াসহ প্রায় ২০টি গ্রামের পাড় কেটে কোটি কোটি টাকার বালু উত্তোলন করে নিয়ে গেছেন। ফলে শিমুলবাগান ও নদী তীরবর্তী অর্ধ শতাধিক গ্রাম,হাট বাজার ও স্থাপনা হুমুকির মধ্যে রয়েছে। ইতিমধ্যে অনেক গ্রামের বসতভিটা ও হাটবাজার এবং ধর্মীয় স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে। এদিকে পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়,চলতি বছরের জানুয়ারী থেকে জুন মাস পর্যন্ত ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ৬৬টি মামলা হয়েছে,এরমধ্যে ৩৭৫ জন এজাহারভূক্ত এবং ৭২০ জন এজাহার বর্হিভূত আসামী করা হয়েছে এবং পুলিশ ইতিমধ্যে ৬০জনকে গ্রেফতার করে তারাগারে পাঠনো হয়েছে। বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০(সংশোধন ২০২৩) অনুযায়ী এই অপরাধটি জামিনযোগ্য হওয়াতে আসামীরা সহজে জামিন পেয়ে পূনরায় অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে পাড় কাটা শুরু করে। টাস্কফোর্স ও মোবাইল কোর্টকে আরো কার্যকর করে স্থানীয় জনগনের অংশগ্রহনে এবং ইজারাদার কর্তৃক শিমুলবাগান ও নদী তীরবর্তী গ্রামগুলোর পাশে নদীতে বাঁশ দিয়ে বেড়া তৈরীর কাজ চলমান রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *