সবার আগে বাংলাদেশ : এই শ্লোগান নিয়ে বিএনপি আজকে ক্ষমতায়, শক্ত অবস্থানে তারেক রহমান
অথই নূরুল আমিন
বাংলাদেশের রাজনীতি এখন আর বাংলাদেশে সীমাবদ্ধ নয়। এখন তা জাতিসংঘ পর্যন্ত এই রাজনীতির দৌড়। দেশে বা বিদেশে অবস্থানরত বেশকিছু জনগণ, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে, বিভিন্ন ভাষণ, বয়ান ও ফেসবুকে কিছু অশালীন পোস্ট দেয়া চলছে। যা কখনও মেনে নেয়া যায়না। একটা রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সম্মিন রেখে তারপর বিভিন্ন মন্তব্য করাই যেতে পারে। একটি সরকারের পক্ষে কখনও সম্ভব নয় । দেশের সকল শ্রেণি পেশার জনগণের মন রক্ষা করা। এছাড়া বিএনপির প্রধান তারেক রহমান কিন্তু সাধারণ জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী নন। এটা ছিলো একটি মধ্যবর্তী নির্বাচন। প্রশ্ন থাকতে পারে। মধ্যবর্তী নির্বাচন কিন্তু এমনি এমনি আসে না। গত সরকার যখন রাষ্ট্র চালাতে ব্যর্থ হয়েছিল চরমভাবে। তারপর সেই সরকারের পতন হয় জনগণের তুমুল আন্দোলনের মাধ্যমে। তারপর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনস্থ জাতীয় নির্বাচন হয়। আর সেই জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি জয় লাভ করে। সেই সুবাদে তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন কবে? ফেব্রুয়ারি ২০২৬, মাত্র এই ছয় মাসের মধ্যে একজন প্রধানমন্ত্রী দেশের সবকিছু ঠিক করতে পারেন না। তারেক রহমান বাংলাদেশের জন্য দেশের জনগণের জন্য কি করবেন। কি করতে পারবেন। তা সময়ে বলে দিবে। তবে দেশের জনগণের জানার জন্য বলছি । বিশ্ব জুড়ে তারেক রহমানের একটা শক্ত অবস্থান আজ থেকেই কার্যকর হচ্ছে। চলতি বছরেই বিশ্বের বেশকিছু দেশ তিনি ভ্রমণ করবেন। এবং দেশের উন্নয়ন জনগণের কল্যাণে কাজ করার মতো মন মানসিকতা আছে মর্মে একটা ধারণা করা যাচ্ছে। আমি মনে করি আমরা যারা বাংলা নাগরিক। সরকারের ভুলগুলো নিয়ে আলোচনা করতেই পারি। তেলের দাম বিশ টাকা বৃদ্ধির ফলে দেশের অসংখ্য পণ্যের মূল্য যেমন বাড়বে। তেমনি বেড়ে যাবে পাবলিক পরিবহনের ভাড়া কথাটা কিন্তু মিথ্যা নয়। এগুলো সরকারের বিবেচনায় আনতে যথেষ্ট সময় লাগবে। সময় লাগবে আইনশৃঙ্খলার উন্নতি করতেও। আমরা যদি একটু পিছনে থাকাই। তাহলে বিগত সরকারের আমলে তাদের মন্ত্রী এমপিরা যেভাবে দেশের জনগণকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে ভাষণ দিত। যেভাবে বিরোধী দলীয় বা ভিন্ন মতের জনগণের উপরে চড়াও।তো আজকে কিন্তু তা নেই বললেই চলে। সে হিসেবে বতর্মান বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে সেরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আমার বিশ্বাস জাতিসংঘ কর্তৃক ঘোষিত এসডিজি বাস্তবায়ন করতে যদি সরকার সক্ষম হয়। তাহলে দশ পনেরো বছর একটা তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সুনামের সহিদ থাকবেন তাতে কোন সন্দেহ নেই। আর দেশের সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বতর্মানে তারেক রহমান ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই। তবে জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজি গুলো নিম্নরুপ ; জাতিসংঘ ঘোষিত কর্মশালা ও কর্মসূচি গুলো। যা ২০১৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে কার্যক্রম পরিকল্পনা। Sustainable Development Goals)- এস ডি জি – এর সংক্ষিপ্ত রূপ, যা ২০১৫ সালে জাতিসংঘের সকল সদস্য রাষ্ট্র কর্তৃক গৃহীত ২০৩০ সালের মধ্যে একটি উন্নত ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলার বৈশ্বিক পরিকল্পনা। ২০১৫ সালে মেয়াদ শেষ হওয়া এমডিজি (MDG)-এর সফল ধারাবাহিকতায় ২০১৬ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত ১৫ বছর মেয়াদি এই এজেন্ডাটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।এসজিডির মূল বৈশিষ্ট্য ২০১৬ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত ১৫ বছর মেয়াদি এই কার্যক্রমে ১৭টি প্রধান লক্ষ্য ও ১৬৯টি সহযোগী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।এর মূল স্লোগান হলো “কেউ পিছিয়ে থাকবে না” বা “No One is Left Behind”। ১৭টি প্রধান লক্ষ্য.
১. দারিদ্র্য বিলোপ।
২. ক্ষুধা মুক্তি।
৩. সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ।
৪. মানসম্মত শিক্ষা।
৫. লিঙ্গ সমতা।
৬. নিরাপদ পানি ও পয়োনিষ্কাশন।
৭. সাশ্রয়ী ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি।
৮. শোভন কাজ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি।
৯. শিল্প, উদ্ভাবন ও অবকাঠামো।
১০. অসমতা হ্রাস।
১১. টেকসই শহর ও জনপদ।
১২. দায়িত্বশীল ভোগ ও উৎপাদন।
১৩. জলবায়ু ação (জলবায়ু রক্ষা)।
১৪. জলজ জীবন রক্ষা।
১৫. স্থলজ জীবন রক্ষা।
১৬. শান্তি, ন্যায়বিচার ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান।
১৭. লক্ষ্য অর্জনে অংশীদারিত্ব। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ক্ষেত্রেও এখন পর্যন্ত উপরে উল্লেখিত বিষয় গুলো বাস্তবায়ন, সুরক্ষা ও অবকাঠামো তৈরি করা জরুরি ছিল । কিন্তু দুঃখের বিষয় আমরা আজকে ২০২৬ সালের শেষের দিকে এসে পৌঁছে গেছি প্রায়। ২০৩০ শেষ হতেও বেশি দেরি নেই। বাংলাদেশ সরকার এরই মধ্যে দুটি চলে গেলো, আওয়ামী লীগ এবং অন্তর্বর্তী সরকার। বতর্মান সরকারের ও এক বছর হয় হয় অবস্থা । উপরে উল্লেখিত সতেরোটি ঘোষণা থেকে একটিও পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে । হয়তো বা কাগজে কলমে বাংলাদেশ সচিবালয়ে কিছু বাস্তবায়ন হয়ে থাকতে পারে। যাকে বলে কাজীর গরু কাগজে আছে, গোয়ালে নেই। কথা থাকে যে, তাতে জাতিসংঘের কিছু যায় আসে না। কিন্তু একদিন জাতিসংঘের রিপোর্টে হয়তো লেখা হবে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। তবে বিএনপি সরকারের উচিৎ হবে। বড়ো বড়ো মেগা প্রকল্প আপাতত না করে। এসডিজি বাস্তবায়ন করা। তাহলেই দেশের সুবিধাবঞ্চিত জনগণ সুফল পাবে।
অথই নূরুল আমিন
রাজনৈতিক বিশ্লেষক, কলাম লেখক ও রাষ্ট্রচিন্তক
প্রধান মুখপাত্র জাতীয় মানবসম্পদ উইং
প্রধানমন্ত্রীর মানবসম্পদ উন্নয়ন উপদেষ্টা গ্রন্থ লেখক