জরাজীর্ণ বাংলাদেশের, সৃষ্টির পর থেকেই অগোছালো অবস্থা, ধারাবাহিকতা বজায় রাখেনি কেউ কখনও

জরাজীর্ণ বাংলাদেশের, সৃষ্টির পর থেকেই অগোছালো অবস্থা, ধারাবাহিকতা বজায় রাখেনি কেউ কখনও

Sep 25, 2026

অথই নূরুল আমিন

এক। সেই স্বাধীনতার পর থেকেই বাঙালি জাতির প্রায় ৬০ শতাংশ জনগণের কোনরকম কোন স্বপ্ন পূরণ হয়নি। বরং আরো চরম কষ্টের মাঝে জীবনযাপন করতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এই সাধারণ শ্রেণির জনগণ না শিক্ষিত করতে পেরেছে তাদের সন্তানদের, না পেয়েছে সামাজিক মর্যাদা। অন‍্যদিকে চিকিৎসা সেবাও নাজেহাল। ন‍্যায় বিচার তো স্বর্ণের হরিণ। এভাবেই কেটে গেলো চার যুগের বেশি সময়। রাজনীতি আর রাজনীতি এরকম চক্করে পরে। আজ হবে কাল হবে এই করে দিবে সেই করে দিবে নেতাদের কোনো ওয়া দাই আর তারা রাখেনি। উল্টা আরো তারাই ভালো আছে। যারা রাজনীতি করেছে। বারবার ক্ষমতায় এসেছে। এবং তাদের সাঙ্গপাঙ্গরা। সবাই মোটামুটি পয়সার মালিক। দুই। চব্বিশের জুলাই আন্দোলন হলো। প্রথমে কোটা বিরোধী। তারপর স্বৈরাচার বিরোধী। একটি রাজনৈতিক দল একটানা পনেরো বছর ক্ষমতায় থেকেও যখন সেই সুবিধাবঞ্চিত প্রায় ৬০% জনগণের জন‍্য কিছুই করেনি বা করতে পারেনি। তখনই ছাত্র জনতার আন্দোলনে জনগণের সংখ্যা বাড়তে থাকল। এক দুই তিন চার করে করে ৫ আগস্টে সেই দলটির পতন হলো। কথা থাকে যে , দেশের সিংহভাগ জনগণকে ক্ষুধার্ত রেখে অশিক্ষিত রেখে বেকার রেখে কোন রাজনৈতিক দলের সফল হবার সুযোগ নেই বিশেষ করে বাংলাদেশে। মনে রাখতে হবে জনগণ সবসময় ভালোর পক্ষেই থাকে। এবং থেকেছেও। তিন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের তিন দিনের মাথায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকার প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন প্রায় আঠারো মাস। কিন্তু সেই আঠারো মাসে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী দশজন ছাত্র বা ছাত্রীরও চাকরি হয়নি। দেশের কয়েক লাখ ছেলে মেয়ে কোটা প্রথা বাতিলের জন্য আন্দোলন করেছিল। কিন্তু সব আশাই যেন জলে গেলো। কোটা আন্দোলন কারীরা যারা কোনরকম সুযোগ ইউনূস আমলে পায়নি। তারা তো ক্ষুব্ধ থাকবেই সবসময়। এখানে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির সাথে বেশকিছু ছেলে মেয়ে আছে দেখা যায়। তাদের সাথে মিটিং মিছিল করছে। লং মার্চ করছে। এমন অবস্থায় তো আর সকলের আয় রোজগার হচ্ছে না। চার। ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসে। তাদের ও নেই তেমন কর্মপরিকল্পনা। তাই পণ্যের উপরে কর বসিয়েই সরকার চলছে। সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন ভাতা দিয়ে যাচ্ছে। বিএনপি যতদিন ক্ষমতায় আছে। পণ্যের মূল্য বাড়িয়েই তাদের চলতে হবে। যেটাকে বলে জনগণের গলাকাটা।অন‍্যদিকে বিএনপি ও তাদের অঙ্গ সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মীরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব‍্যক্তির কাছ থেকে চাদা নিচ্ছে নিয়মিত। এরকম খবর পাওয়া যায় প্রতিনিয়ত। এখানে দল অসংখ্য নেতাকর্মীদেরকে বহিস্কারও করেছে। কথা থাকে যে, বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনে কমপক্ষে পঞ্চাশ লাখ নেতাকর্মী বেকার রয়েছে। সেখান থেকে যদি পঞ্চাশ হাজার নেতাকর্মীদের সরকার কর্মমুখী করে গড়ে তুলতে ব‍্যর্থ হয়। তাহলে একদিন ঐ সকল নেতাকর্মীরা উৎসাহ হারাবে। দল থেকে অনেকেই মুখ ফিরিয়ে নিবে। তখন কিন্তু দলের ক্ষমতা দুর্বল হতে থাকবে । আর সেই সময় অন‍্য কোন গুষ্ঠি সরকার বিরোধী আন্দোলন শুরু করলে বিএনপি সরকারেরও পতন হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। পাঁচ। ইউনূস সরকারের প্রায় আঠারো মাস এবং বিএনপিরও প্রায় সাত মাস রাষ্ট্র পরিচালনায় রয়েছে। এর মধ‍্যে তৃণমূলের জনগণ কিন্তু বিএনপি বিমুখ হওয়া শুরু করেছে। এই রকম বিষয়টি কিন্তু খুব ভাবিয়ে তুলে, একটি দল ক্ষমতায় যাওয়ার পরও দেশের জনগণের মন জয় করতে পারে না। এটা খুবই দুঃখজনক বিষয়। বিএনপি সরকার ২০২৬- ২০২৭ অর্থবছরে বাজেট করেছে প্রায় দশ লাখ কোটি টাকার সমান। তারপরও দেশের সুবিধাবঞ্চিত জনগণের জন‍্য কিছু করতেই পারবে না। দেশের সাধারণ জনগণের দাবিগুলো সব সরকারের আমলেই উপেক্ষিত থাকে। যার ফলে সরকারের প্রশংসা করার মতো জনবল পাওয়া যায়না। আমি মানলাম আওয়ামী লীগ খুব রাষ্ট্র চালিয়েছিল। আজকে এই বিএনপির সময়টা যদি তাদের চেয়েও খারাপ রাষ্ট্র চালায়। বাধ‍্য হয়ে জনগণ অন‍্য পথ বেছে নিবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

অথই নূরুল আমিন
রাজনৈতিক বিশ্লেষক কলাম লেখক ও রাষ্ট্রচিন্তক
প্রধান মুখপাত্র জাতীয় মানবসম্পদ উইং
প্রধানমন্ত্রীর মানবসম্পদ উন্নয়ন উপদেষ্টা, গ্রন্থ লেখক।
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *