গোদাগাড়ীতে বিরল রোগে ভুগছে ২ বছরের অবোধ শিশু, সকলের নিকট সাহায্য চাইলেন তার পরিবার

গোদাগাড়ীতে বিরল রোগে ভুগছে ২ বছরের অবোধ শিশু, সকলের নিকট সাহায্য চাইলেন তার পরিবার

Aug 8, 2026

 

​গোদাগাড়ী (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ

জন্মের পর থেকেই বিরল ও জটিল শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত দুই বছর বয়সী অবোধ শিশু মোসাঃ মায়েসা আক্তার। জন্মের পর থেকে শিশুটির মুখে ও ত্বকে এক বিশেষ ধরণের রোগ (ডাক্তারি প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ‘Hemangioma’ বা রক্তনালীর টিউমারজাতীয় সমস্যা) দেখা দেয়। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞসহ একাধিক অভিজ্ঞ ডাক্তার দেখালেও দীর্ঘমেয়াদী ও ব্যয়বহুল চিকিৎসার অভাবে সুস্থ হতে পারছে না এই ছোট্ট শিশুটি। ​মায়েসার পরিবার সূত্রে জানা যায়, তার জন্ম ১১ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে। রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়নের উজানপাড়া গ্রামের হতদরিদ্র দিনমজুর মোঃ আলিম ও মোসাঃ মর্জিনা খাতুন দম্পতির তিন কন্যা সন্তানের মধ্যে মায়েসা সবার ছোট। পেশায় দিনমজুর বাবার দৈনিক আয় মাত্র ৫০০ টাকা। নুন আনতে পান্তা ফুরানোর এই সংসারে তিন মেয়ের ভরণপোষণ ও পারিবারিক খরচ মেটাতেই আলিমকে হিমশিম খেতে হয়। তার নিজের বলতে এক কাঠা ভিটেমাটিও নেই যা বিক্রি করে মেয়ের চিকিৎসা করাবেন। ​মেয়ের মুখের এই জটিল রোগের চিকিৎসা চালাতে গিয়ে ইতোমধ্যে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন এই বাবা। চিকিৎসকের নিয়মিত ওষুধ ও পরামর্শ বাবদ যে টাকা লাগে, তা জোগাড় করতে গিয়ে অনেক সময় পরিবারটিকে এক বা দুই বেলা অনাহারে থাকতে হচ্ছে। সাধ্যের সবটুকু দিয়ে এ যাবৎ বিভিন্ন হাসপাতাল ও চিকিৎসকের দরজায় ঘুরেছেন তিনি, তবে টাকার অভাবে উন্নত ও ধারাবাহিক চিকিৎসা করানো এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। মেয়ের এই কঠিন পরিস্থিতি নিয়ে কান্নাভেজা কণ্ঠে শিশুটির বাবা মোঃ আলিম বলেন, আমি একজন দিনমজুর মানুষ, প্রতিদিন কাজ পেলে গড়ে ৫০০ টাকার মতো আয় হয়। এই সামান্য টাকায় তিন মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হয়। মায়েসা জন্ম নেওয়ার পর থেকেই ওর মুখে এই সমস্যা। সাধ্যমতো ডাক্তার দেখাচ্ছি, ওষুধ খাওয়াচ্ছি, কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না। এখন বড় ডাক্তাররা বলছেন দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা লাগবে, যার পেছনে অনেক টাকার প্রয়োজন। আমার তো এক শতক জমিও নেই যে বিক্রি করে মেয়ের চিকিৎসা করাব। কতদিন যে বাজার করতে পারি না, পরিবার নিয়ে এক-দুই বেলা না খেয়ে থাকতে হয়, তা শুধু আমিই জানি। বাবা হয়ে চোখের সামনে মেয়ের কষ্ট সহ্য করতে পারছি না। দয়া করে আপনারা আমার ছোট মেয়েটাকে বাঁচাতে একটু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন। শিশুর মা মোসাঃ মর্জিনা খাতুন অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, মায়ের কোল তো বাচ্চার হাসিমুখ দেখার জায়গা, কিন্তু জন্ম থেকেই আমার ছোট মেয়েটা কষ্টে ছটফট করছে। ডাক্তারদের পেছনে আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। এখন আর ওষুধ কেনার মতো টাকাও আমাদের হাতে নেই। কোনো মা কি পারে সন্তানের এই কষ্ট দেখতে? আমরা তো ধনী মানুষের মতো লাখ লাখ টাকা খরচ করতে পারব না। সমাজের দয়ালু মানুষ আর সরকারের কাছে আমার আকুল মিনতি আমার নিষ্পাপ মায়েসা যেন সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক বাচ্চাদের মতো হাসতে পারে, আপনারা সেই ব্যবস্থা করে দিন। এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মোঃ আলিম একজন অত্যন্ত সৎ, নম্র ও পরিশ্রমী মানুষ। দিনমজুরি করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে সে তার সংসার চালায়। দীর্ঘদিন ধরে সে তার ছোট মেয়ের চিকিৎসা নিয়ে চরম মানসিক ও আর্থিক কষ্টে আছে। এতদিন কারও কাছে সাহায্য না চাইলেও এখন দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় নিরুপায় হয়ে পড়েছে সে। স্থানীয়রা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও দেশের বিত্তবানদের কাছে আবেদন জানিয়ে বলেন, আমাদের এলাকার এই দরিদ্র দিনমজুরের শিশু সন্তানটিকে বাঁচাতে যদি সরকারি বা বেসরকারিভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়, তবে গোদাগাড়ীবাসী চিরকৃতজ্ঞ থাকবে। অসহায় দিনমজুর আলিম তার অবোধ শিশুটিকে বাঁচাতে সমাজের হৃদয়বান, স্বাবলম্বী ব্যক্তি, প্রবাসী ও মানবিক সংস্থাগুলোর কাছে আর্থিক সহায়তার আকুল আবেদন জানিয়েছেন।

​সহযোগিতা পাঠানোর ঠিকানা ও মাধ্যম:
​পিতা: মোঃ আলিম
​মোবাইল (বিকাশ ও নগদ পার্সোনাল): 01836207617
​ঠিকানা: গ্রাম: উজানপাড়া, ডাকঘর: মাটিকাটা-৬২৯০, উপজেলা: গোদাগাড়ী, জেলা: রাজশাহী।

রাজশাহী গোদাগাড়ী প্রতিনিধি
মোঃ রবিউল ইসলাম মিনাল
01712483534

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *