হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সচল রাখতে তৎপর যুক্তরাষ্ট্র, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সচল রাখতে তৎপর যুক্তরাষ্ট্র, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত

Oct 27, 2026

হাকিকুল ইসলাম খোকন,এমডি নাসির, বাপসনিউজঃ

আন্তর্জাতিক সংবাদ | ২৬ অক্টোবর ২০২৬,যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যেও কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে তৎপরতা জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার ২৫ অক্টোবর হরমুজ প্রণালি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি আন্তর্জাতিক নৌপথে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন। ছয় মাসে তিন হাজারের বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সহায়তায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে ৩ হাজারের বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করেছে। এ ছাড়া গ্রীষ্মকাল থেকে উপসাগরীয় অংশীদার দেশগুলোকে ১৫০ কোটি ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল রপ্তানিতে সহায়তা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) পুঁতে রাখা সামুদ্রিক মাইন অপসারণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের প্রধান পথগুলো নিরাপদ রাখতে কাজ করা হয়েছে। তবে এই নৌপথ ঘিরে সামরিক উত্তেজনা এখনো পুরোপুরি কাটেনি।খবর বাপসনিউজ ও আইবিএননিউজ ।আলোচনার পথ এখনো খোলা ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তেহরান কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নাকচ করেনি। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২৫ অক্টোবর বলেছেন, ওই দিন ইরানে কোনো মার্কিন হামলা চালানো হবে না। তবে এর অর্থ এই নয় যে ভবিষ্যতে সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা পুরোপুরি বাতিল হয়েছে। এদিকে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা ২৬ অক্টোবর ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন। আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো, নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজে বের করা এসব আলোচনার অন্যতম লক্ষ্য। বিশ্ব অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়তে পারে? হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের উল্লেখযোগ্য অংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো। ফলে এখানে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম, পরিবহন ব্যয় এবং পণ্য উৎপাদনের খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠিত না হলে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অনিশ্চয়তা বিশ্ব অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি কূটনৈতিক উদ্যোগ কতটা সফল হয়, এখন সেদিকেই আন্তর্জাতিক মহলের নজর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *