প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণে প্রবাসীদের অংশগ্রহণ চায় আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণে প্রবাসীদের অংশগ্রহণ চায় আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ

Oct 26, 2026

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম, নীতিনির্ধারণ এবং উপদেষ্টা পরিষদে প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সরাসরি ও কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পেশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ। গত শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, সংগঠনটির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক দার্শনিক দেশবন্ধু অ্যাডভোকেট এ এন এম ঈসা। সভা পরিচালনা করেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যসচিব এম এ রউফ, কাতার। সভায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের সমস্যা, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা, প্রবাসীদের মর্যাদা ও অধিকার এবং সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে প্রবাসী কল্যাণ কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বক্তারা বলেন, প্রবাসীদের জন্য প্রতিষ্ঠিত মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণে প্রবাসীদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা, মতামত ও বাস্তব সমস্যার যথাযথ প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন। ‘ব্যথিতের বেদনা সেই ভালো বোঝে, যে নিজে সেই ব্যথা অনুভব করেছে’ সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট এ এন এম ঈসা বলেন, “ব্যথিতের বেদনা সেই ভালো বোঝে, যে নিজে সেই ব্যথা অনুভব করেছে।” তিনি বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থান গ্রহণ করতে গিয়ে প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধারা নানা ধরনের আর্থিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক সমস্যার সম্মুখীন হন। বিদেশে যাওয়ার অতিরিক্ত ব্যয়, দালাল ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য, কর্মক্ষেত্রে প্রতারণা, বিমানবন্দরে দুর্ভোগ, পাসপোর্ট ও কনস্যুলার সেবার জটিলতা এবং বিপদগ্রস্ত প্রবাসীদের আইনি সহায়তার অভাবের মতো সমস্যাগুলোর বাস্তব চিত্র প্রবাসীরাই সবচেয়ে ভালোভাবে তুলে ধরতে পারেন। তিনি প্রশ্ন রাখেন, প্রবাসীদের কল্যাণের জন্য প্রতিষ্ঠিত মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রবাসীদের সরাসরি অংশগ্রহণ থাকবে না কেন? তিনি আরও বলেন, “আমরা সরকারের বিকল্প হতে চাই না। আমরা সরকারের সহযোগী হয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করতে চাই।” দেশের মানুষের খাদেম হতে চান প্রবাসীরা অ্যাডভোকেট এ এন এম ঈসা বলেন, “আমরা প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধারা বাংলাদেশের জনগণ, আমাদের পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন এবং সর্বোপরি মাতৃভূমির সেবক হিসেবে কাজ করতে আগ্রহী। আমরা দেশের মানুষের খাদেম হতে চাই। আমাদের লক্ষ্য ব্যক্তিগত ক্ষমতা, পদ-পদবি কিংবা বিশেষ সুবিধা অর্জন নয়। আমাদের লক্ষ্য হলো প্রবাসীদের বাস্তব সমস্যা সমাধান করা, তাঁদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করা এবং দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে আরও কার্যকর অবদান রাখা।” তিনি বলেন, দেশের প্রতি আনুগত্য এবং নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি পরস্পরবিরোধী নয়; বরং একে অপরের পরিপূরক। প্রবাসীরা সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা ও সমন্বয়ের ভিত্তিতে কাজ করতে চান। তবে সহযোগিতা করার অর্থ নিজেদের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদার দাবি থেকে সরে আসা নয়। আলোচনায় রংধনু নারী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান লায়ন শাহিদা পারভীন রত্নাসহ নারী নেত্রীরাও প্রবাসীদের অধিকার, মর্যাদা ও জাতীয় উন্নয়নে অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রবাসীরা শুধু রেমিট্যান্স প্রেরণকারী নন, সমান মর্যাদার নাগরিক আলোচনায় ইসমাইল খান বলেন, প্রবাসীরা শুধু বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণকারী নন; তাঁরা বাংলাদেশের সমান মর্যাদাসম্পন্ন নাগরিক। দেশের অর্থনীতিতে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তাই তাঁদের পরিচয় শুধু রেমিট্যান্স প্রেরণকারীর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। ফারুক আহমেদ চৌধুরী বলেন, “আমরা সম্মান চাই, অধিকার চাই এবং দেশের উন্নয়নে দায়িত্বশীল অংশীদার হিসেবে কাজ করার সুযোগ চাই। আমাদের কথা শুনতে হবে, আমাদের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিতে হবে এবং আমাদের সমস্যা সমাধানের প্রক্রিয়ায় আমাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।” সভায় জালাল উদ্দীন ও মির্জা সুমন (ফ্রান্স), বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুর রহমান (ফ্রান্স), মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহাব রিংকু, আলহাজ্ব ডক্টর শরিফ সাকি এবং অন্যান্য অংশগ্রহণকারী প্রবাসীদের সমস্যা ও অধিকার নিয়ে আলোচনা করেন। সরকারের কাছে সাত দফা প্রস্তাব সভায় আলোচনার ভিত্তিতে সরকারের বিবেচনার জন্য সাতটি প্রস্তাব পেশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রস্তাবগুলো হলো— ১. প্রবাসীদের সরাসরি প্রতিনিধিত্ব: প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা পরিষদে যোগ্য, অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা। ২. নীতিনির্ধারণে অংশগ্রহণ: প্রবাসী কল্যাণ, অভিবাসন ব্যয়, কর্মসংস্থানের নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনসংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়নের আগে প্রবাসী প্রতিনিধিদের মতামত গ্রহণ করা।
৩. আন্তর্জাতিক প্রবাসী পরামর্শ পরিষদ গঠন: বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে একটি কার্যকর আন্তর্জাতিক প্রবাসী পরামর্শ পরিষদ গঠন করা। ৪. অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা: প্রবাসীদের অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত, প্রতিকার ও নিষ্পত্তির জন্য স্বচ্ছ এবং নির্দিষ্ট সময়সীমাভিত্তিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। ৫. মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম মূল্যায়ন: প্রবাসীদের সেবার মান, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও কল্যাণমূলক উদ্যোগের অগ্রগতি মূল্যায়নে প্রবাসী প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করা। ৬. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা: প্রবাসী প্রতিনিধিদের মনোনয়ন বা নির্বাচনের ক্ষেত্রে যোগ্যতা, সততা, অভিজ্ঞতা ও জবাবদিহির সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা। ৭. ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নে আলোচনা: আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের ছয় দফা দাবি নিয়ে সরকারের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা শুরু করা। সরকারের সঙ্গে প্রতিযোগিতা নয়, সহযোগিতা চায় সংগঠন সভা পরিচালনাকারী ও সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যসচিব এম এ রউফ বলেন, “সরকারের সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে। কিন্তু সদিচ্ছা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং প্রবাসীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের মাধ্যমে অনেক জটিল সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান সম্ভব।” তিনি বলেন, সংগঠনটি সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার জন্য এ প্রস্তাব করছে না; বরং সরকারের কার্যক্রমকে আরও সহজ ও কার্যকর করতে চায়। সমস্যার ভুক্তভোগী প্রবাসীদের অভিজ্ঞতা এবং প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের দক্ষতা একত্রিত করা গেলে প্রবাসীসেবার মান উন্নত করার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এম এ রউফ আরও বলেন, “আমরা ক্ষমতার অংশীদারত্বের চেয়ে দায়িত্বের অংশীদারত্বকে বেশি গুরুত্ব দিতে চাই। সরকার আমাদের সহযোগিতার সুযোগ দিলে আমরা সততা, নিষ্ঠা ও দেশপ্রেমের সঙ্গে সেই দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত।” প্রবাসীদের মতামত সংগ্রহের উদ্যোগ সভায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ও উপদেষ্টা পরিষদে প্রবাসীদের অংশগ্রহণ সম্পর্কে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মতামত গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ লক্ষ্যে জনমত জরিপ পরিচালনা এবং প্রবাসী সংগঠনগুলোর মতামত সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। সংগঠনটি প্রবাসীদের মতামত ও বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে একটি বিস্তারিত প্রস্তাবনা প্রস্তুত করে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করতে আগ্রহ প্রকাশ করে। ‘আমরা বাংলাদেশের বোঝা নই, উন্নয়নের অংশীদার’
সমাপনী বক্তব্যে অ্যাডভোকেট এ এন এম ঈসা বলেন, প্রবাসীরা বাংলাদেশের বাইরে থাকলেও তাঁদের হৃদয় বাংলাদেশের মাটিতে। তাঁদের পরিবার, আত্মীয়স্বজন, শিকড় ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সঙ্গে বাংলাদেশের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তাই বাংলাদেশের উন্নতি তাঁদের আনন্দিত করে এবং দেশের সংকট তাঁদের উদ্বিগ্ন করে। তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ দেখতে চাই, যেখানে প্রবাসীদের মর্যাদা থাকবে, তাঁদের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে এবং তাঁদের অভিজ্ঞতা জাতীয় উন্নয়নে কাজে লাগানো হবে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা বাংলাদেশের বোঝা নই, বাংলাদেশের উন্নয়নের অংশীদার। আমরা সরকারের প্রতিপক্ষ নই, সরকারের সহযোগী হতে চাই। আমরা ক্ষমতা নয়, দায়িত্ব চাই। আমরা বিশেষ সুবিধা নয়, ন্যায্য অধিকার চাই। আমরা ব্যক্তিস্বার্থ নয়, দেশের কল্যাণ চাই।” প্রবাসীদের জন্য প্রতিষ্ঠিত মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণে তাঁদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রবাসীদের অভিজ্ঞতা ও মতামতকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হলে দেশের উন্নয়ন এবং প্রবাসী কল্যাণ কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
প্রচার ও প্রকাশনায়:
আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ
International Remittance Juddah Shonshod
দার্শনিক দেশবন্ধু অ্যাডভোকেট এ এন এম ঈসা
প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক
এম এ রউফ
প্রতিষ্ঠাতা সদস্যসচিব, কাতার
ই-মেইল: roufnasrin@gmail.com
মোবাইল: +974 66958035

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *