মিজান চৌধুরীর বিভিন্ন মন্তব্য পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে

মিজান চৌধুরীর বিভিন্ন মন্তব্য পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে

Sep 17, 2026

 

আহমেদ সোহেন হাকিকুল ইসলাম খোকন, বাপসনিউজঃ

গত প্রায় তিন মাস ধরে GBA (Global Bangladesh Alliance) এবং BATC (Bangladeshi American Tech Coalition)–কে কেন্দ্র করে যে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়ে অনেকেই বিভিন্ন মাধ্যমে নানা ধরনের বক্তব্য, পোস্ট ও প্রচারণা দেখেছেন। যেহেতু বিষয়টি এখন প্রকাশ্য পর্যায়ে চলে এসেছে, তাই একজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে প্রকৃত ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে কিছু কথা সবার সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন মনে করেন ডিপিএ প্রতিষ্ঠাতা প্রশাসনিক পরিচালক ও বিএটিসি এর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক আহমেদ সোহেল সম্প্রতি সংবাদ সংস্থা বাপসনিউজ ও জনপ্রিয় পোর্টাল আইবিএননিউজকে দেয়া এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে বলেন,প্রথমেই পরিষ্কারভাবে বলতে চাই—আমি কোনো ব্যক্তিকে হেয় করা, অপমান করা কিংবা ব্যক্তিগত বিরোধকে জনসম্মুখে নিয়ে আসতে চাইনি এবং এখনো চাই না। কিন্তু যখন কোনো ঘটনা নিয়ে একতরফাভাবে অসত্য, বিভ্রান্তিকর বা অসম্পূর্ণ তথ্য প্রচার করা হয়, তখন প্রকৃত তথ্য তুলে ধরা নৈতিক দায়িত্ব বলেই মনে করি।খবর বাপসনিউজ । সাম্প্রতিক ঘটনার সূত্রপাত গত কয়েক মাসে GBA ও BATC-এর সাধারণ WhatsApp গ্রুপের কার্যক্রম বন্ধ করা, মেসেজ অপশন সীমিত করা এবং অন্যান্য অ্যাডমিনদের অ্যাক্সেস সরিয়ে দেওয়ার মতো একাধিক ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় সংগঠন দুটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে এবং সদস্যদের মধ্যে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এরপর গত ১ আগস্ট ২০২৬,সাবেক প্রেসিডেন্ট মিজান চৌধুরী নিউইয়র্কের একজন সাংবাদিকের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে আমাকে, ড. আবু সালেহ মহোদয়কে এবং আজম চৌধুরীকে নিয়ে প্রকাশ্যে বিভিন্ন মন্তব্য করেন। পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সেদিন রাতেই আমরা একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে GBA-এর নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের বিষয়টি সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরি। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—সেই সংবাদ সম্মেলনেও আমরা ব্যক্তিগত আক্রমণ বা সাবেক প্রেসিডেন্টকে হেয় করার কোনো প্রচেষ্টা করিনি। কারণ আমাদের উদ্দেশ্য ছিল সংগঠনের ভবিষ্যৎ এবং গণতান্ত্রিক কাঠামো নিয়ে কথা বলা, ব্যক্তিগত বিরোধ তৈরি করা নয়। সাম্প্রতিক আইনজীবীর নোটিশ প্রসঙ্গে সর্বশেষ রায়ান তাজ মহোদয়, তরিকুল ইসলাম মহোদয় বলেন এবং আমাকে উদ্দেশ্য করে একটি আইনজীবীর নোটিশ পাঠানো হয়েছে এবং সেটি বিভিন্ন WhatsApp গ্রুপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। নোটিশে BATC-এর প্রতিষ্ঠা ও মালিকানা নিয়ে বিভিন্ন দাবি করা হয়েছে। আমাদের অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার—কোনো সংগঠনের প্রতিষ্ঠা, নিবন্ধন, পরিচালনা কিংবা নেতৃত্ব নিয়ে সিদ্ধান্ত অবশ্যই প্রকৃত নথিপত্র, আইনগত নিবন্ধন এবং সংশ্লিষ্ট সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে নির্ধারিত হওয়া উচিত। আমরা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রেশন, কর্পোরেট ডকুমেন্ট এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করেছি। প্রয়োজনে যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেগুলো উপস্থাপন করা হবে। আমরা কাউকে আইনি ঝামেলায় জড়াতে চাই না এবং আগ বাড়িয়ে কোনো সংঘাতেও যেতে চাই না। কিন্তু কেউ যদি ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা তথ্য, অপপ্রচার বা ব্যক্তিগত আক্রমণের মাধ্যমে আমাদের সম্মান ও অধিকার ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেন, তাহলে একজন আইন মেনে চলা নাগরিক হিসেবে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার আমাদেরও রয়েছে। গত দুই বছরে আমার সহযোগিতার কিছু উদাহরণ আজ যারা আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ বা প্রচারণা দেখছেন, তাদের সামনে গত দুই বছরে আমি মিজান চৌধুরী ও তার পরিবারের প্রতি যে সহযোগিতা করেছি, তার কিছু উদাহরণ তুলে ধরছি। উদ্দেশ্য কাউকে ছোট করা নয়; বরং কেন বর্তমান পরিস্থিতি আমার কাছে এতটা দুঃখজনক, সেটি বোঝানো। ১. তার স্ত্রীর নির্বাচনী প্রচারণায় আমি ব্যক্তিগতভাবে দিন-রাত কাজ করেছি। জ্যামাইকা, জ্যাকসন হাইটসসহ বিভিন্ন এলাকায় বহুবার প্রচারণায় অংশ নিয়েছি। ২. তার বিভিন্ন উদ্যোগ ও কার্যক্রমের জন্য বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় একাধিক মিডিয়ার সহযোগিতা ও যোগাযোগ বিনামূল্যে নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি। ৩. নিজের গুরুতর শারীরিক সমস্যার মধ্যেও GBA-এর একটি সম্মেলনে অংশ নিতে বাংলাদেশে গিয়েছিলাম। যাওয়ার ঠিক আগের দিন আমার পায়ের লিগামেন্টে গুরুতর ইনজুরি হয়েছিল। এরপরও সংগঠনের স্বার্থে এবং তার অনুরোধকে গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশে যাই। সেই ইনজুরির চিকিৎসা ও থেরাপির প্রভাব এখনো আমাকে বহন করতে হচ্ছে। ৪. বাংলাদেশ থেকে ফিরে আসার অল্প সময়ের মধ্যেই GBA-এর একটি সংবাদ সম্মেলনের জন্য ওয়াশিংটনে যাই। সেখানে তৎকালীন গুরুত্বপূর্ণ অতিথিদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের ক্ষেত্রেও আমি ব্যক্তিগতভাবে ভূমিকা রাখি। এর ফলে অনুষ্ঠানটি উল্লেখযোগ্য মিডিয়া কভারেজ পায়। ৫. জ্যামাইকার বিভিন্ন ব্যক্তি এবং কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিক বিভিন্ন সময় তার ব্যাপারে আমাকে সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু আমি বরং অনেক সময় তার পক্ষ নিয়ে তাদের সঙ্গে যুক্তিতর্ক করেছি এবং নেতিবাচক প্রচারণা থেকে তাকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছি। ৬. GBA এবং BATC—দুটি সংগঠনের ধারণা ও প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক উদ্যোগের সঙ্গে আমি প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত ছিলাম। তারপরও ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও পারস্পরিক সম্মানের কারণে তাকে উভয় সংগঠনের নেতৃত্বে থাকার সুযোগ ও সমর্থন দিয়েছি। ৭. গত ডিসেম্বর মাসে তার স্ত্রীর অভিষেক অনুষ্ঠানের জন্য গঠিত বাংলাদেশি কমিউনিটির কনভেনিং কমিটির কনভেনার হিসেবে আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রায় ১০০–১৫০ মানুষের সঙ্গে দিন-রাত যোগাযোগ করেছি এবং প্রায় ১২০ জন অতিথির উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কাজ করেছি। অথচ সেই অনুষ্ঠানে আমাকে মঞ্চে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ তো দূরের কথা, এক মুহূর্তের জন্যও ডাকা হয়নি। তারপরও আমি বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো অভিযোগ করিনি। ৮. সর্বশেষ গত মে মাসে নিউইয়র্ক সিটির কন্ট্রোলার অফিস থেকে তার নামে একটি Recognition Certificate পাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেদিন GBA ও BATC-এর প্রায় ১৬ জন পেশাদার ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু সংগঠনের অন্য নেতৃত্ব বা সদস্যদের সঙ্গে এ বিষয়ে আগে কোনো আলোচনা করা হয়নি। তারপরও আমি বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো বিরোধ তৈরি করিনি। তারপরও কেন এই পরিস্থিতি? গত কয়েক মাসে বিশেষ করে আমাকে লক্ষ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, WhatsApp গ্রুপ এবং ব্যক্তিগত ফোন ও মেসেজের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ, গুজব ও অপপ্রচার চালানো হয়েছে বলে আমি মনে করি। এমনকি আমাদের Lions Club-এর একটি WhatsApp গ্রুপেও আমাকে উদ্দেশ্য করে ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে। অথচ বারবার অনুরোধের পর আমিই তাকে সেই গ্রুপে যুক্ত করার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছিলাম। আমি বিশ্বাস করি, মতপার্থক্য থাকতেই পারে। সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিয়েও মতভেদ হতে পারে। কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ, অপপ্রচার, গুজব কিংবা অন্যদের সঙ্গে কারও সম্পর্ক নষ্ট করার চেষ্টা কোনো সুস্থ সংগঠন বা সুস্থ সামাজিক পরিবেশের অংশ হতে পারে না। শেষ কথা GBA এবং BATC-এর সম্মানিত সদস্যদের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ—আপনারা কোনো পক্ষের কথায় অন্ধভাবে বিশ্বাস না করে ঘটনা, সময়ক্রম, নথিপত্র এবং বাস্তব কর্মকাণ্ড নিজেরা বিবেচনা করুন। আপনারা সবাই সচেতন ও বিবেকবান মানুষ। কোনটি সত্য, কোনটি অতিরঞ্জিত এবং কোনটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত—তা বোঝার জন্য আপনাদের অন্য কারও নির্দেশনার প্রয়োজন নেই। আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো সংঘাত চাই না। অতীতেও চাইনি, এখনো চাই না, ভবিষ্যতেও চাই না। আমরা আমাদের সংগঠনগুলোকে আরও পেশাদার, গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে এগিয়ে নিতে চাই। আমি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জন্যও ভালো কিছুই কামনা করি। আল্লাহ তাকে সুস্থ রাখুন, ভালো রাখুন এবং সঠিক পথ দেখান। আমাদের সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত— ব্যক্তিগত বিরোধ নয়, সত্য প্রতিষ্ঠা। প্রতিশোধ নয়, ন্যায়বিচার। বিভাজন নয়, ঐক্য। এবং ব্যক্তি নয়, সংগঠনের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সংবাদ সংস্থা বাপসনিউজ এডিটর ও জনপ্রিয় পোর্টাল আইবিএননিউজ২৪.কম এর প্রধান সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক হাকিকুল ইসলাম খোকন ।এসময় উপস্থিত ছিলেন আইটিভি পরিচালনা ও সিনিয়র সাংবাদিক রিমন ইসলাম এবং ভিডিও ধারন করেন ফেইসবুক এক্টিভিস্ট ও জেএসএফ-বাংলাদেশ সংগঠক হাজী আনোয়ার হোসেন লিটন। সাক্ষাৎকারটি অনুষ্ঠিত হয়েছে নিউইয়র্ক এর বাঙালি অধ্যুষিত জ‍্যাকসন হাইটসের সানাই রেস্টুরেন্টে এর কনফারেন্স রুমে ।সাক্ষাৎকার শেষে সাংবাদিকদের নৈশভোজে আপ্যায়ন করা হয় ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *