রাজশাহীর চারঘাটে ব্লেন্ডার চুরি থেকে সালিশ  হামলা মালিকের উপর

রাজশাহীর চারঘাটে ব্লেন্ডার চুরি থেকে সালিশ  হামলা মালিকের উপর

Jun 24, 2026

 

অফিস ডেস্কঃ

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় একটি চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত সালিশ বৈঠকে হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত একজন বর্তমানে চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার বিচারক ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বামনদিঘী এলাকায় কিছুদিন আগে একটি ব্লেন্ডার (কৃষি যন্ত্র) চুরির হয় মাসুদ রিপা দম্পতির বাসা থেকে। পরে  গ্রামের একজনের বাসায় চুরি হওয়া  ব্লেন্ডার বিক্রি করতে যায় তখন সেইখান থেকে  মাসুদ রিপা দম্পতির ভাতিজা পায়েলের কাছে গোপনে একজন ফোন করে জানায়। একজন  ব্লেন্ডার বিক্রি করতে আসছে। জিনি চুরি করে নিয়ে যায় তার নাম বলার পর ঐ  ঘটনাকে কেন্দ্র করে, জুন মাসের ৬ তারিখ কাউসার ও শান্তকে ধরে এলোপাথাড়ি মারধর করে গ্রামবাসী পরে তাদের অবস্থা বেগতিক হলে তাদেরকে চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করেন। মারধরের বিষয় নিয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন কাউসার ও শান্ত। কিন্তু সেই অভিযোগের কোন তদন্ত হয়নি এখন পর্যন্ত এবং  মামলা ও রেকর্ড হয়নি চারঘাট থানায়।
গত ২০ জুন ২০২৬ তারিখ বিকেল আনুমানিক ৬টার দিকে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শলুয়া দুই নং ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি মোঃ আরমান ও ৬ নং ওয়ার্ডের বিএনপি নেতা মো:  লুৎফর তাদের উপস্থিতিতে একই ঘটনা কে কেন্দ্র করে  একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা  হয়।
লিখিত অভিযোগে রিপা বেগম জানান, সালিশ চলাকালে অভিযুক্ত  ইমদাদুল হক, এনামুল হক, নাসিম, নাহিদ ও সাহেল ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ শুরু করেন ব্লেন্ডারের মালিক মাসুদ রানাকে । একপর্যায়ে তার স্বামী মো. মাসুদ রানা প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা তাকে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে গুরুতর আহত করেন। এতে তিনি শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং বুকে গুরুতর আঘাত লেগে ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, মারধরের ঘটনা দেখে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাদেরও মারধর করে আহত করে। এতে এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয় এবং উপস্থিত লোকজনের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে আহত মাসুদ রানাকে উদ্ধার করে চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এবং তার বুকের এক্সরে করে বুকের কামানির একটি হাড় ভেঙে গিয়েছে কিনা সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসকরা।  বর্তমানে তার উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে অভিযোগকারী জানিয়েছেন। তিনি আরো জানান এত কিছু ঘটনা ঘটার পরও এখন পর্যন্ত সেই ব্লেন্ডার মাসুদ রানা রিপা দম্পতি  ফেরত পায়নি। এই ব্লেন্ডার রয়েছে শলুয়া দুই নং ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি মোঃ আরমানের কাছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল, জিয়ারুল ও জুলেখা বেগমসহ আরও অনেকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা ঘটনার বিষয়ে অবগত রয়েছেন বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে চারঘাট মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগকারী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে চারঘাট মডেল থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তা চারঘাট মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)আব্দুল মালেকের সঙ্গে ঘটনার আগের দিন ১৯ তারিখ  যোগাযোগ করা হলে  তিনি জান ঘটনাটি  তদন্ত করা হবে এবং বিষয়টি আমি দেখছি। কিন্তু তিনি কোন তদন্তকারী কর্মকর্তা সেখানে পাঠান নাই এবং কোন তদন্ত হয় নাই। ঘটনার দিন ২০ তারিখ সন্ধ্যার পর তাকে মুঠোফোনে ফোন দিলে তিনি জানান এ বিষয়ে আমি মামলা নিয়ে নেব তাদেরকে অভিযোগ দিতে বলেন। কিন্তু আজ তিন থেকে চার দিন পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত মামলা রেকর্ড হয়নি ও অভিযুক্তরা  ধরাছোঁয়ার বাইরে।
সুশীল সমাজ বলছেন একটা ব্লেন্ডার চুরি হওয়ার পর চোরকে মারার অনুমতি পেল কোথায় গ্রামবাসী সে যদি অন্যায় করে থাকে তাকে অবশ্যই আইনের হাতে তুলে দেওয়া উচিত ছিল।
এ বিষয়ে বিচার করবে এই দেশের বিচার বিভাগ কিন্তু এই চোরের অপবাদ দিয়ে যাকে মারা হয়েছে কাউসার ও শান্তকে এটা অপরাধ হয়েছে। ঠিক তেমনি ভাবে যার ব্লেন্ডার হারিয়েছে তাকেও বিচারের নামে সিন্ডিকেট করে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মাসুদ রানাকে জনসম্মুখে এলোপাথাড়ি এভাবে মারধর করা কঠিন অন্যায় হয়েছে তাদের কঠিন বিচার হওয়া উচিত বলে  জানায় সুশীল সমাজের লোকজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *