ব্রাহ্মণবাড়িয়া আখাউড়া প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া আখাউড়া প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ

Jun 30, 2026

 

মস্ত মিয়া,
জেলা প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া :

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ছোট কুড়িপাইকা শহীদ বীর শ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত আবেদন দিয়েছেন বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসী। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে একই বিদ্যালয়ে কর্মরত থেকে প্রশাসনিক কার্যক্রমে একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছেন। এতে বিদ্যালয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে তিনি নিজের আত্মীয়-স্বজন ও অনুগত ব্যক্তিদের সভাপতি ও সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে প্রভাব বিস্তার করেছেন। ফলে বিদ্যালয়ের নিরপেক্ষ ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক বরাদ্দ, রুটিন মেরামত, স্লিপের অর্থসহ বিভিন্ন সরকারি অনুদানের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম ও আর্থিক অসঙ্গতি রয়েছে। এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা। এছাড়া অভিযোগে বলা হয়, প্রধান শিক্ষক এলাকায় বিভিন্ন পক্ষ ও উপদল সৃষ্টি করে বিভেদমূলক পরিবেশ তৈরি করেছেন, যা বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও সামাজিক সম্প্রীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তার বিরুদ্ধে নিয়মিত বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকা এবং দাপ্তরিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করার অভিযোগও আনা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, অতীতে রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী মহলের প্রভাব খাটিয়ে তিনি সাধারণ অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে ভয়ভীতি ও চাপ সৃষ্টি করেছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় ইউপি সদস্য, প্যানেল চেয়ারম্যান, অভিভাবক এবং এলাকার বিশিষ্ট মুরুব্বিয়াসহ মোট ২১ জন স্বাক্ষর করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগকারীরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে একটি নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে অভিযোগগুলো তদন্ত এবং সত্যতা প্রমাণিত হলে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের পক্ষ থেকে অভিযোগ তদন্তের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *