এরশাদনগরে ‘বোমা মনির’ আতঙ্ক, সন্ত্রাস ও মাদকের অভিযোগে ক্ষোভ

এরশাদনগরে ‘বোমা মনির’ আতঙ্ক, সন্ত্রাস ও মাদকের অভিযোগে ক্ষোভ

Jun 24, 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক:

গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পূর্ব থানাধীন ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের এরশাদনগর (বাস্তহারা বস্তি) এলাকায় যুবলীগ নেতা সাজ্জাদুল ইসলাম মনির ওরফে ‘বোমা মনির’-এর বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ এবং এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এরশাদনগর এলাকায় অসংখ্য শিক্ষিত, পেশাজীবী ও সুশীল সমাজের মানুষ বসবাস করলেও কিছু সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি ও ছিনতাইকারী চক্রের কারণে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় টঙ্গী পূর্ব থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী এবং সাবেক ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুল ইসলাম মনির ওরফে বোমা মনির এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, মনিরের নেতৃত্বে একটি মাদক সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিভিন্ন ব্যক্তি এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত থেকে এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে। এছাড়া জুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, বাড়িঘর নির্মাণে চাঁদাবাজি, জমি দখল, কিশোর গ্যাং পরিচালনা, হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো নানা অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, অতীতে মনিরের বিরুদ্ধে একাধিক সহিংস ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। কেউ তার আধিপত্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে হামলা, মারধর ও গুরুতর জখমের শিকার হতে হতো বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এলাকাবাসীর দাবি, তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলের চাচা এবং গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় দীর্ঘদিন প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হন মনির। অভিযোগ রয়েছে, তার অবৈধ আয়ের একটি অংশ প্রভাবশালী মহলে পৌঁছাত।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও সম্প্রতি আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছেন মনির। অভিযোগ রয়েছে, তার অনুসারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এলাকায় মহড়া দিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।
গত ১৬ জুন সন্ধ্যায় মাদক ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধ ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই ব্যক্তিকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে টঙ্গী পূর্ব থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে সম্প্রতি গাজীপুরে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত কয়েকজন যুবলীগ কর্মীর মধ্যে এরশাদনগরের কয়েকজনের নামও উঠে আসে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকলেও এরশাদনগরে মাদক ব্যবসা এখনও প্রকাশ্যেই চলছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
এলাকাবাসীর দাবি, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হলে এরশাদনগরের প্রকৃত পরিস্থিতি এবং অভিযোগের সত্যতা বেরিয়ে আসবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *