কালিয়াকৈরে নারী নির্যাতন জানমালের ক্ষয়ক্ষতিসহ দিবালোকে হত্যার চেষ্টা।

কালিয়াকৈরে নারী নির্যাতন জানমালের ক্ষয়ক্ষতিসহ দিবালোকে হত্যার চেষ্টা।

অফিস ডেস্ক :
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় এক মাছ ব্যবসায়ী ও তার পরিবারকে প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যার চেষ্টা, লুটপাট এবং নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছে। উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে কালিয়াকৈর থানায় প্রথমে অভিযোগ ও পরে ১৪৩/৩৪১/৪৪৮/৩২৩/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩৫৪/৩৮০/৪২৭ ধারা মোতাবেক একটি জিআর মামলা রুজু করা হয় যার নং ৩৯। উক্ত মামলায় আসামীরা হলেন-১) জাহাঙ্গীর (৪৩), ২) মোঃ মোর্শেদ (৩০), ৩) নাজমুল হোসেন (২৪), ৪) আঃ বাতেন (৫৫), ৫) মোঃ মোজাম্মেল হক (৪৬), ৬) মেহেদী হাসান (১৯), ৭) আঃ আজিজ (৪৮), ৮) মোঃ শাকিল (২২), ৯) ময়জান বেগম (৫০), ১০) আফরোজা বেগম (৪০), ১১) রাজিয়া বেগম (২৫), ১২) রাকিব হোসেন (২২), ১৩) পাপিয়া সুলতানা (২৫), ১৪) মোঃ মাছুম (২৪) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮–১০ জন।
ভুক্তভোগী মাকসুদা আক্তার (৩৯) জানান, তার স্বামী মো. সফিকুল ইসলাম একজন মাছ ব্যবসায়ী। ৭ মার্চ আনুমানিক সকাল ৯ ঘটিকার সময় মাছ বিক্রির প্রায় ৭ লাখ টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় বাড়ীর সামনে আসা মাত্রই পূর্বে থেকে উৎ পেতে বসে থাকা সন্ত্রাসীরা তার স্বামীকে পথরোধ করে। সন্ত্রাসীদের সাথে দস্তাদস্তি করে কোন মতে বাড়ীর ভিতরে প্রবেশ করে বাড়ীর গেইট বন্ধ করে দেন। কিন্তু সন্ত্রাসীরা দ্রুত দেশীয় কুড়াল, লোহার রড, দা এবং সাবল দিয়ে বাড়ীর গেট ভেঙে বাড়িতে প্রবেশ করে। ভুক্তভোগীর স্বামী সফিকুল সন্ত্রাসীদের বাঁধা দিলে তাকে সন্ত্রাসীরা মেরে তার ডান হাতের আঙুল ভেঙে ফেলে, দু’পায়ের হাড় ভেঙ্গে ফেলে, ডান চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। রক্তাক্ত অবস্থায় সফিকুলকে মাটিতে ফেলে দিয়ে সন্ত্রাসীরা বাড়ির বিভিন্ন কক্ষে প্রবেশ করে কক্ষে রক্ষিত আলমারি, সুকেস ও সমস্ত আসবাবপত্র ভাঙচুর করে মাছ বিক্রির ৭ লক্ষ টাকাসহ মোট ৩১ লাখ টাকা, প্রায় ৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার এবং ৩টি মোবাইল ফোনসহ মোট প্রায় ৫২ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে কালিয়াকৈর থানায় অভিযোগ করিলে পরে সন্ত্রাসীরা পুনরায় ১০ মার্চ সফিকুলের বাড়িতে প্রবেশ করে ভুক্তভোগী মাকসুদা আক্তারকে লাঞ্ছিত ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়। এ সময় তার গলায় থাকা স্বর্ণালঙ্কারও ছিনিয়ে নেয়। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় তারা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোঃ আলমগীর জানায়, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *