পূবাইলে টেক্সটাইল মিলের মালামাল চুরি: মেকানিক ইঞ্জিনিয়ারসহ গ্রেপ্তার ২

পূবাইলে টেক্সটাইল মিলের মালামাল চুরি: মেকানিক ইঞ্জিনিয়ারসহ গ্রেপ্তার ২

নিজস্ব প্রতিবেদক

গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল থানা এলাকায় একটি টেক্সটাইল মিলে চুরির ঘটনায় ওই প্রতিষ্ঠানের মেকানিক ইঞ্জিনিয়ারসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ চোরাই মেশিনারীজ যন্ত্রপাতি উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মাগুরা সদর উপজেলার আবালপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে এরশাদ (৩৭), যিনি সংশ্লিষ্ট কারখানার মেকানিক ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অন্যজন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মৌলভী তাবোগ গ্রামের মৃত রফিজ উদ্দিনের ছেলে মো. ইব্রাহিম (৫০), যিনি মিরের বাজার এলাকার ‘গালিব সুইং’ দোকানের মালিক।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পূবাইলের লক্ষণদিয়া এলাকায় অবস্থিত ‘জয়নাব টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড’-এর মালিক মো. নুরুজ্জামান গত ৯ ফেব্রুয়ারি দুপুরে কারখানায় গিয়ে দেখতে পান বেশ কিছু মূল্যবান মেশিনারীজ যন্ত্রপাতি নিখোঁজ। এতে কারখানার মেকানিক ইঞ্জিনিয়ার এরশাদের ওপর তার সন্দেহ হয়। জিজ্ঞাসাবাদে এরশাদ অসংলগ্ন কথাবার্তা বলতে শুরু করলে একপর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন যে, দীর্ঘ দিন ধরে তিনি গোপনে কারখানার যন্ত্রপাতি চুরি করে মিরের বাজারের ‘গালিব সুইং’ এর মালিক ইব্রাহিমের কাছে বিক্রি করে আসছিলেন।

৯ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে তিনি প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ (বারটেক মেশিনের মনিটর, ফেডলক বাইডিং ফ্লোডার, হ্যান্ডটেক মেশিন, সেন্সর, নিডল প্লেটসহ অন্যান্য সরঞ্জাম) চুরি করে ইব্রাহিমের দোকানে নিয়ে যান।

বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পূবাইল থানা পুলিশকে জানানো হলে এসআই রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি চৌকস দল কারখানায় অভিযান চালিয়ে এরশাদকে হেফাজতে নেয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওইদিন সন্ধ্যায় মিরের বাজারস্থ নুর মার্কেটের ‘গালিব সুইং’ দোকানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখান থেকে দোকান মালিক ইব্রাহিমকে আটক করা হয় এবং তার দোকান থেকে চুরি হওয়া অধিকাংশ মালামাল জব্দ করা হয়।

এ ঘটনায় কারখানার মালিক মো. নুরুজ্জামান বাদী হয়ে পূবাইল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নং-০৭, তারিখ-১০/০২/২৬)।

পূবাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানায়, গ্রেফতার হওয়া আসামিদের দণ্ডবিধির ৩৮১/৪১১/৪১৩ ধারায় অভিযুক্ত করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। কারখানার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং এ ধরনের চুরি রোধে পুলিশি নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *