সিইসি’র বিশেষ নির্দেশনা: ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের আচরণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে

সিইসি’র বিশেষ নির্দেশনা: ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের আচরণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে

ডেস্ক রিপোর্ট :
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এ প্রেক্ষাপটে দেশি-বিদেশি সাংবাদিক ও নির্বাচনী পর্যবেক্ষকদের জন্য বিশেষ ব্রিফিং দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন ভবনে আয়োজিত এই ব্রিফিংয়ে সিইসি নির্বাচন প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কমিশনের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
সিইসি বলেন, নির্বাচন কমিশন সর্বদা একটি স্বচ্ছ, বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনে অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি জানান, এবারের নির্বাচনে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রায় ২০টি দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিরা নির্বাচনী কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে আমন্ত্রিত থাকবেন।
তিনি আরও জানান, নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহে ১৬০ জনের বেশি আন্তর্জাতিক সাংবাদিক কাজ করছেন। দেশীয় পর্যায়ে ৮১টি নিবন্ধিত সংস্থা থেকে ৪৪ হাজারের বেশি নির্বাচনী পর্যবেক্ষক মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া প্রায় ৬০ হাজার সাংবাদিককে ইতোমধ্যে পরিচয়পত্র প্রদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন।
ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের ভূমিকা প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, সাংবাদিকরা ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন, তবে ভোট প্রদানের কক্ষের গোপনীয়তা অবশ্যই বজায় রাখতে হবে। কোনোভাবেই ভোটারদের বিরক্ত করা বা ভোটদানে বাধা সৃষ্টি করা যাবে না।
পর্যবেক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অনুমোদিত সীমার মধ্যে থেকেই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করতে হবে। নির্বাচন শেষে তারা তাদের পর্যবেক্ষণ ও প্রতিবেদন প্রকাশে সম্পূর্ণ স্বাধীন থাকবেন।
সিইসি বলেন, “একটি শান্তিপূর্ণ, বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন উপহার দিতে কমিশন দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” তিনি জানান, সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে সারা দেশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নিরলসভাবে সমন্বয়ের কাজ করে যাচ্ছে।
ব্রিফিংয়ের শেষ পর্যায়ে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার কারিগরি দিক নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনার দায়িত্ব দেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহসান হাবিবকে। তিনি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার ওপর আস্থা প্রকাশ করেন।
ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করেছে—ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের পেশাদার আচরণ নিশ্চিত করা হবে, নির্বাচন প্রক্রিয়া থাকবে স্বচ্ছ ও নিরাপদ এবং ভোটারদের অধিকার ও গোপনীয়তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রক্ষা করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *